ভিন্ন খবর

পানির নিচে ডাকবাক্স!

প্রকাশ : ২৯ নভেম্বর ২০১৬, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক
ADVERTISEMENT

চিঠি লিখে কেউ কখনো তা পানির নিচের ডাকবাক্সে গিয়ে পোস্ট করেছেন? যদি এমন কোনো ইচ্ছা কারো থাকে তাহলে তাকে যেতে হবে জাপানে। কারণ জাপানের ওয়াকাইমার সুসামি শহরের এই পোস্ট বক্স নাম তুলেছে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে। সুসামি উপসাগরের ১০ মিটার গভীরে রয়েছে এই মেল বক্স।

১৭৪ দশমিক ৭১ বর্গকিলোমিটারের সুসমাই শহরে পাঁচ হাজার লোকের বাস। এই শহরের নিচের এই মেইল বক্সটি এতটাই জনপ্রিয় যে, প্রতিদিন এখানে ১০০০ থেকে ১৫০০ মেইল জমা হয়। কেউ তার পরিবারের সদস্যদের মেইল পোস্ট করে কেউবা প্রিয়জনের জন্য। পানির নিচে এই মেইল বক্সটি তাদের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। অদ্ভুত এই ডাকবাক্সে চিঠি পোস্ট করার জন্য অন্যান্য জায়গা থেকেই প্রতিদিন বহু লোক এখানে আসে। আর পানির নিচের পোস্টবক্সের এই চিঠিগুলো লেখা হয় ওয়াটারপ্রুফ কার্ডে বিশেষ ধরনের অয়েল মার্কারের সাহায্যে। যারা সাগরের নিচে গিয়ে চিঠি পোস্ট করার স্বাদ নিতে চান তারা ডুবুরির পোশাক পরে পানিতে নেমে যান। কাজটা এতটাই রোমাঞ্চকর

যে, অনেকে শুধু অভিজ্ঞতা নিতে বারবার চিঠি পোস্ট করতে এখানে চলে আসেন। এই ডাকবাক্সটি ১৯৯৯ সালে চালু করা হয় সুসমাই শহরের দিকে মানুষকে আকৃষ্ট করতে। পানির গভীরে এই মেলবক্সের আইডিয়া প্রথম আসে ৭০ বছরের তোশিহিকো মাতসুমোতো নামে এক ব্যক্তির মাথায়। তিনিই ছিলেন তখন সুসামি শহরের পোস্ট মাস্টার।

২০০২ সালে সুসমাই শহরের সাগরের নিচের এই পোস্টবক্সটি গিনেস বুক অব রেকর্ডে জায়গা করে নেয়। তখন পর্যন্ত সেখানে ৩২ হাজার চিঠি পোস্ট করা হয়েছিল। অদ্ভুত এই মেইলবক্সটি প্রতি ছয় মাস পর পর নতুনভাবে গঠন করা হয। আর এক বছর পরপর ডাকবাক্সটি পরিবর্তন করা হয়। যাতে সারা বছরই এটি নতুন আর ঝকঝকে দেখায়। চিঠি পোস্ট করতে এখানে এলে ব্যবহারকারীদের ওয়াটারপ্রুফ ব্যাগও আনতে হয়। সেই সঙ্গে খামে বা পোস্টকার্ডে লাগানোর জন্য বিশেষ ধরনের স্ট্যাম্পও লাগাতে হয় খামে। যাতে চিঠিটা সঠিক ঠিকানায় পৌঁছতে পারে।

সূত্র : ওয়ার্ল্ড আটলাস।

"