ব্যক্তিত্ব

বাংলাদেশের মানুষ অনেক আবেগপ্রবণ : নুসরাত ফারিয়া

প্রকাশ : ২৯ নভেম্বর ২০১৬, ০০:০০

নুসরাত ফারিয়া। শখের বসে টিভি উপস্থাপনা শুরু করেন। কাজের প্রতি ভালোবাসা তাকে নিয়ে এসেছে দেশের আলোচিত নায়িকার আসনে। ঢাকা, কলকাতায় অভিনয় করা এই নায়িকা ডাক পেয়েছিলেন বলিউড, তামিল, তেলেগুসহ অন্যান্য সিনেমায়। তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ
ADVERTISEMENT

আপনার শৈশবটা কেমন ছিল?

নুসরাত ফারিয়া : আমার শৈশব থেকে বড় হওয়া পর্যন্ত কেটেছে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে। এখনো ক্যান্টনমেন্টেই আছি। দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা ছাড়া আর কিছুই বুঝতাম না। ভালো রেজাল্ট করতে হবে, বৃত্তি পেতে হবেÑএটাই ছিল চিন্তা। এ ছাড়া লাইফে কোনো এইম ছিল না। এর মাঝে স্কুল বিতর্ক শুরু করি। জাতীয় পর্যায়ে বিতর্ক করেছি।

পরিবারে কে কে আছেন? আপনার কাজের ব্যাপারে তাদের কাছ থেকে কতটা উৎসাহ পান?

নুসরাত ফারিয়া : আমাদের যৌথ পরিবার। এখানেই আমার বেড়ে ওঠা। আমার বাবা ব্যবসায়ী। মাও ব্যবসায়ী। বড় বোন ডাক্তার। আমি মেঝ। ছোট ভাই ক্লাস টেনে পড়ে। আমাদের পরিবার পৃথিবীর ব্যস্ত পরিবারগুলোর একটি। আমার সঙ্গে শুটিংয়ে যেতে হলে মাকে সেদিন ছুটি কাটাতে হয়। তবে ব্যস্ততার মাঝেও আমার পরিবার পুরো সাপোর্ট করে। আমার পরিবার পৃথিবীর সেরা পরিবারগুলোর একটি।

মিডিয়ায় আসার গল্পটা শুনতে চাই।

নুসরাত ফারিয়া : ২০১২ সালে ইন্টারমিডিয়েট পাস করি। তখন একটা দীর্ঘসময়ের বিরতি পেয়েছিলাম। একসময় জাতীয় টেলিভিশন বিতর্ক করতাম। একবার বিটিভির শ্রেষ্ঠ বক্তাও হয়েছিলাম। সেই বিতর্কের সময়ে মোহনা টিভির একজন প্রযোজক আমাকে দেখেন। তিনি একটি শো উপস্থাপনার অফার দেন। শিবানিজ অ্যারোমা পরোমার অনুষ্ঠানের উপস্থাপক হওয়ার প্রস্তাব পাই। প্রতি পর্বে একজনের লাইভ ইন্টারভিউ নিতে হবে। মিডিয়া সম্বন্ধে ধারণা না থাকায় আমি বুঝতাম নাÑএটা ছোট না বড় শো। রাজি হয়ে গেলাম। এরপর আরো কয়েকটি চ্যানেল থেকে ডাক এলো। এভাবেই শুরু।

হঠাৎ করে মিডিয়ায় কাজ... কেমন লাগত বিষয়টা?

নুসরাত ফারিয়া : খুবই মজা করতাম। টাকার চেয়ে আমাকে টিভিতে দেখাচ্ছে এই ভাবনাটাই বেশি কাজ করত। ফলে টাকার দিকে কখনো তাকাইনি। কাজ করে গেছি। পরিচিতদের বাইরে কেউ চিনতে পারলে খুবই মজা লাগত।

কাজ করতে গিয়ে প্রতিকূলতার সম্মুখীন হননি কখনো?

নুসরাত ফারিয়া : হ্যাঁ, হয়েছি। একবার আরটিভিতে একটি রাতের শো ছিল। বাড়ি থেকে তো কোনোমতেই কাজ করতে যেতে দেবে না। তারা সাফ জানিয়ে দিল, রাতে কাজ করলে আমরা কোনো দায়িত্ব নিতে পারব না। আমি ঝুঁকি নিলাম। একটা কাপড়ের ব্যাগ নিয়ে ইউনিভার্সিটিতে যে ভর্তি কোচিং করতাম সেখানে গেলাম। সেখান থেকে সোজা টিভি অফিসে। এইভাবে কেটেছে দেড় বছর। নিজেই নিজেকে সচল রেখেছি বলা যায়। যার সুফল পেতে খুব বেশি দেরি হয়নি। এমনও হয়েছে এক ঘণ্টার একটা শো থেকে এক লাখ টাকা পেয়েছি। এর বাইরে কোনো সমস্যা হলে পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করি। মা ও বোন আমার কাছের বন্ধু। এছাড়া সিঙ্গার কণা আপু আমার খুব ভালো বন্ধু।

অভিনয়ে কীভাবে এলেন?

নুসরাত ফারিয়া : উপস্থাপনা করতে করতে এ সময় বোর হয়ে গেলাম। মাসে ৩০ দিনে ২৭টি শো করেছি এমনও আছে। বিজ্ঞাপনও করে ফেললাম বিশটা। সবাই বলছে, নুসরাত ফারিয়া খুবই ভালো করছে। আমার মনে হচ্ছিল এরপর কী করব? লাক্সের একটা শো করতে কাতার গেলাম। সেখানে জাজ মাল্টিমিডিয়ার আজিজ ভাই গিয়েছিলেন। আজিজ ভাই চ্যানেল আইয়ের সাগর ভাইকে জিজ্ঞেস করলেন, যৌথ প্রযোজনার একটা ছবিতে নতুন মুখ নিতে চাই। কাকে নেওয়া যায়? ঠিক তখন আমি স্টেজে পারফর্ম করছি। সাগর ভাই আমাকে দেখিয়ে বললেন, এই মেয়েটাকে নিতে পার। শি ইজ অলরাউন্ডার। ইমামী ফেয়ার অ্যান্ড হ্যান্ডসামের একটি রিয়েলিটি শোতে টানা আট মিনিট স্টেজ পারফর্ম করেই উপস্থাপনা শুরু করি। আজিজ ভাই সেটা দেখে সিদ্ধান্ত নেন আমাকে নেবেন। এরপর আবদুল আজিজ আমাকে ফোন করে জানালেন দেশা দ্য লিডার ছবিতে আমাকে নিতে চান। তখন পরিবার থেকে ইতিবাচক সাড়া না পাওয়াতে না করে দেই। কারণ আমি সিনেমার জন্য নিজেকে প্রস্তুত মনে করছিলাম না।

এর পাঁচ-ছয় মাস পর একটি মেহেদীর বিজ্ঞাপন করতে কলকাতায় যাচ্ছি। আজিজ ভাই আমাকে ফোন দিয়ে জানালেন নতুন একটি মুভিতে আমাকে নিতে চান। তখন মনে হলো দেখি না করে। অভিজ্ঞতা কেমন হয়। যৌথ প্রযোজনার ছবি, অশোক ধানুকা, হিমাংশু ধানুকা দেখে বললেন, মেয়েটা তো অনেক ছোট। কী করবে? পারবে কী না। তখন আজিজ ভাই বললেন, দেখেন না অভিনয় কেমন করে।

বাংলাদেশের ছোট পর্দায় ও যৌথ প্রযোজনায় বড় পর্দায়, বলা চলে দুই বাংলায় সমানভাবে কাজ করছেন। কলকাতার সঙ্গে আমাদের পার্থক্য কী?

নুসরাত ফারিয়া : খুব একটা পার্থক্য নেই। দু’পাশেই বাংলা ভাষাভাষীর মানুষ। তবে আমার যেটা মনে হয়েছে বাংলাদেশের মানুষ অনেক আবেগপ্রবণ। আর ইন্ডিয়ার মানুষ এগিয়ে টেকনোলজির দিক দিয়ে। আমি মনে করি ওদের থেকে টেকনিক্যালি অনেক কিছু শেখার আছে। আবার ইমোশনালি ওরা আমাদের থেকে অনেক কিছু শিখতে পারে। এজন্য যখন যৌথ প্রযোজনার ছবিতে কাজ করি তখন দুটিরই স্বাদ পাই।

বাদশা ছবি করলেন কলকাতার অভিনেতা জিতের সঙ্গে। এর আগে জিতের কোনো ছবি দেখেছিলেন?

নুসরাত ফারিয়া : না, জিতের সঙ্গে অভিনয়ের পূর্বে কোনো ছবি দেখা হয়নি। তবে গান দেখেছিলাম।

কখনো আশা ছিল জিতের সঙ্গে অভিনয় করবেন?

নুসরাত ফারিয়া : একদম না, আমি নায়িকা হব সেটাই তো পরিকল্পনায় ছিল না। ফলে নায়িকা হওয়ার বিষয়টাই বোনাস। আর জিতের সঙ্গে অভিনয় করাটা বাড়তি বোনাস।

কখন জানলেন জিতের বিপরীতে অভিনয় করতে যাচ্ছেন?

নুসরাত ফারিয়া : হিরো-৪২০-এর ফটোশুট করছিলাম। সেই ফটোশুটে অশোক ধানুকার সঙ্গে বাবা জাদভ এলেন। বাবা জাদভকে চিনতাম না। আমি ভাবলাম নতুন কোনো হিরো অডিশন দিতে এসেছে। দেখতে ছোট, নায়ক নায়ক চেহারার তাকে দেখে যে কারো মনে হবে নতুন হিরো অডিশন দিতে এসেছে। তখন হিমাংশু ধানুকা পরিচয় করিয়ে দিল, তিনি বাবা জাদভ, তোমার পরবর্তী ছবির ডিরেক্টর। আমি জিজ্ঞেস করলাম হিরো কে? তারা বললেন, জিৎ। আমি শুনে কী বলব বুঝতে পারছিলাম না। শুধু বললাম, ও আচ্ছা। এরপর পুরো সিনেমার শুটিং করলাম তখনো কোনো এক্সাইটমেন্ট এলো না। যখন ডাবিং করতে এলাম তখন খুবই এক্সাইট ফিল করছিলাম। কারণ শুটিংয়ের পুরোটা জুড়ে এতই কাজের মধ্যে ডুবে ছিলাম যে, কিছু একটা যে হচ্ছে সেটাই অনুভব করতে পারিনি।

লন্ডনে শুটিংয়ের দিনগুলো কেমন ছিল?

নুসরাত ফারিয়া : খুবই কঠিন। সারা দিন কাজের ভেতর ছিলাম। আমার কাছে ডিরেক্টরের অনেক ডিমান্ড ছিল। ফলে ঘুম থেকে উঠে ৬টা পর্যন্ত হাঁটা, ব্যায়াম, এরপর দুই ঘণ্টা মেকআপ নিয়ে ঠিক ৮টায় সেটে হাজির হতাম। সকাল ৮টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত শুটিং করেছি টানা ১৪ দিন। এর মধ্যে চুল বড় করা, শরীর শুকানো তো চলছেই। সব পরিশ্রম সার্থক মনে হয়েছে যখন দর্শক আমাদের গ্রহণ করেছে।

কোন নায়কের সঙ্গে কাজ করে স্বস্তি অনুভব করেন?

নুসরাত ফারিয়া : আমার প্রথম হিরো অঙ্কুশকেই বেশি স্বস্তির মনে হয়েছে।

দেশের বাইরে কাজ করার সময় কোন বিষয়টা মাথায় রাখেন?

নুসরাত ফারিয়া : সবসময় মনে হয় আমি দেশকে রিপ্রেজেন্ট করছি। শুধু তাই নয়, আমি যখন বাসা থেকে বের হই তখন মনে হয় আমার পরিবারকে রিপ্রেজেন্ট করছি।

আপনার ভেতর অভিনয় প্রতিভা আছে, এটা ঠিক কোন সময়ে বুঝতে পারলেন?

নুসরাত ফারিয়া : এটা বুঝেছি প্রথমবার লন্ডনে শুটিং করতে গিয়ে। এর আগে কখনো মনেই হয়নি। ছবিতে আমার অন্তর্ভুক্তি ঘোষণার পর মহরত হলো, ইন্টারভিউ দিলাম। তখন কিছুই মনে হয়নি। এরপর প্রথম শুটিংয়ে গিয়ে প্রথম দৃশ্য ছিল কান্নার। আমার কান্না হচ্ছিল না, এক্সপ্রেশন হচ্ছিল। তারপরও সবাই খুশি হচ্ছিল। সেটা যে নতুন বলে আমাকে র‌্যাগ করছিল সেটাও বুঝতে পারছিলাম না। সারাদিনে যখন মনঃপূত হলো না তখন মনে হচ্ছিল আমাকে দিয়ে হবে না। পরে রাতে আশিকীর পুরো স্ক্রিপ্ট মুখস্থ করে তারপর স্পটে গিয়েছি। এবং সবাই যখন আমার অভিনয়ে সন্তুষ্ট হলো তখনই একটু খুশি হলাম। বুঝলাম আমি পারি।

আপনার কোনো ছবি মুক্তির আগেই বলিউডে ইমরান হাশমির বিপরীতে অভিনয় করছেন বলে একটা কথা ছড়িয়ে পড়েছিল। আসল ঘটনাটা জানতে চাই।

নুসরাত ফারিয়া : এটা বিশেষ কোনো ঘটনা নয়। খুবই সাধারণ ঘটনা। আমি কিন্তু দেশের বাইরের ফিল্মের জন্য অফার পাই। ইমরান হাশমির সঙ্গে অভিনয়ের বিষয়টি নিয়ে বেশি আলোচনা হয়েছে, কারণ এটা টাইমস অব ইন্ডিয়ায় ছাপা হয়েছিল। বাকিগুলো আমি কাউকে শেয়ার করি না বলে হয়তো ছাপা হয় না। তামিল তেলেগু উড়িষ্যাসহ অনেক ভাষার ছবির জন্য অফার পেয়েছি। ব্যাটে-বলে মেলে না দেখে করা হয় না। এছাড়া বাংলা মুভিকেই সবচেয়ে অগ্রাধিকার দিচ্ছি। কারণ, একাধিক নৌকায় পা দিতে চাইছি না। তোর আশেকি গানটা যখন রিলিজ হয় তখন ইমরান হাশমির গাওয়া দ্য উথনেস ছবির জন্য অফার পাই। এই ছবিটির শুটিং কলকাতায় হওয়ার কথা ছিল বলে রাজি হয়েছিলাম। এটা ছিল মৌখিক কথাবার্তা। আমি কোনো ছবি সাইনের আগে প্রেসকে জানাই না। তারা মৌখিক কথাবার্তার সূত্র থেকেই পত্রিকাকে জানায়। সেই নিউজটা ৮ সেপ্টেম্বর প্রকাশ হয়েছিল। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারলামÑএটি একটি ব্যতিক্রম ছবি। বাংলাদেশি মেয়ের জন্য এমন ছবি করতে অনেক বেশি সাহস দরকার। আমার মনে হচ্ছিল সেই সাহসটা আমার নেই। আরো কিছু প্রবলেম ছিল। যেমন আমি একটা প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ। সব মিলিয়ে যেহেতু মৌখিক চুক্তি হয়েছিল, সুযোগ ছিল না করে দেওয়ার।

উপস্থাপনা না সিনেমা, গুরুত্বের খাতায় কোনটাকে এগিয়ে রাখেন?

নুসরাত ফারিয়া : দুটিই আমার কাছে সমান গুরুত্বের। এখন নায়িকা হয়ে গেছি বলে যে উপস্থাপনাকে ভুলে যাব, তা নয়। উপস্থাপনা আমার শেকড়। আজকের নুসরাত ফারিয়াকে এখানে এনেছে উপস্থাপনা।

বড়পর্দায় নিজেকে দেখার প্রস্তুতি ও অনুভূতি কেমন ছিল?

নুসরাত ফারিয়া : বড়পর্দায় নিজেকে দেখে আমি খুশি হইনি। হতাশ হয়েছি, কষ্ট পেয়েছি। কারণ আমি যখন কাউকে পর্দায় দেখি যে পরিমাণ ক্রিটিসাইজ করি, আমাকেও সেই পরিমাণ ক্রিটিসাইজ করেছি। এবং আমার অভিনয়ে অনেক ল্যাকিংস খুঁজে পেয়েছি। আমার কেবলই মনে হয় দর্শকও আমার মতো করেই ভাবছে? আমার আরো উন্নতি করতে হবে। ওজন কমাতে হবে, ন্যাচারাল হতে হবে। সেই প্রচেষ্টা এখনো চলছে।

কাকে দেখলে ঈর্ষা হয়? কার মতো হতে ইচ্ছে করেÑ

নুসরাত ফারিয়া : প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। কণা আপু আমাকে বাংলাদেশের প্রিয়াঙ্কা চোপড়া বলে। এর বাইরে নিজেকে ডেভেলপ করছে এমন এমন কাউকে দেখলেই মনে হয় সে পেরেছে, আমি কেন পারব না?

স্বপ্নের নায়ক কে? কার সঙ্গে কাজের কথা স্বপ্নে ভাবেন বাস্তবেও ভাবেন?

নুসরাত ফারিয়া : হৃতিক রওশন। যার সঙ্গে আমি বিপিএলের উদ্বোধনী শো করেছি। সত্যিকারের স্বপ্ন দেখলে সেটা যে হাতের মুঠোয় ধরা দেবে তার প্রমাণ হৃতিকের সঙ্গে আমার কাজ।

হৃতিককে বলেছেন যে, তুমি আমার স্বপ্নের নায়ক?

নুসরাত ফারিয়া : অবশ্যই, বিপিএলে পারফর্ম করতে এলে ব্যাক স্টেজে দেখা হয় আমাদের। তখনই বলেছি, আই অ্যাম বিগ ফ্যান অব ইউ। হৃতিক শুনে খুশি হয়েছে।

শুটিংয়ে কখনো রেগে গেছেন?

নুসরাত ফারিয়া : এমন অনেক হয়েছে। আমি দ্রুত রাগি। তবে শুটিংয়ের বেশিরভাগ রাগ আমার কারণে হয় না। আমার সামনে ইউনিটের কাউকে ঝাড়ি দিলে মেজাজ ধরে রাখতে পারি না। একবার এক ডিরেক্টর লাইটম্যানকে ধমক দিয়েছে। বেচারাকে কাঁদো কাঁদো অবস্থায় দেখে নিজেকে আর ধরে রাখতে পারলাম না। পরিচালকের সঙ্গে রাগারাগি করে শুটিংই করব না জানিয়ে দিলাম। তখন সেই লাইটম্যানই এসে আমার রাগ ভাঙিয়েছে। টেকনিশিয়ানদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার সহ্য করতে পারি না। কারণ, তারাই আমদের দর্শকের কাছে নিয়ে যায়।

পাঁচ বছর পর নিজেকে কোথায় দেখতে চান?

নুসরাত ফারিয়া : কোথায় দেখতে চাই বলা যাচ্ছে না। আমার পরিশ্রমের বিনিময়ে সময় যেখানে নিয়ে যাবে। শর্টকাট সফলতার চিন্তা মাথায় নেই। সবসময় কচ্ছপ আর খরগোশের গল্পটা মাথায় রাখি।

সর্বশেষ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ডিটেকটিভ গল্প নিয়ে যে অ্যানিমেটেড ফিল্ম হচ্ছে সেটায় আপনি কণ্ঠ দিয়েছেন? এই কাজটা সম্পর্কে বলুনÑ

নুসরাত ফারিয়া : সবাই আমাকে দেখে ভাবে, আমি একটু প্রাশ্চাত্য ঘরানার মেয়ে। সাহিত্যের সঙ্গে পরিচয় কম। তাদের ধারণাটা ভুল প্রমাণ করতে এই কাজটা হাতে নিই। কারণ আগেও বলেছি, আমি ডিবেট করতাম। আর আপনি ভালো করেই জানেন, ডিবেট করতে সাহিত্য, সাধারণ জ্ঞানের দখল থাকতে হয়। বাঙালির শেকড় যে আমারও শেকড় সেটা জানানোর সুযোগ কাজে লাগিয়েছি এই ছবিতে কণ্ঠ দেওয়ার মধ্য দিয়ে।

ছবি : সংগৃহীত

"