লাইফ স্টাইল

কর্মজীবী মায়ের জন্য

প্রকাশ : ২৮ নভেম্বর ২০১৬, ০০:০০

সপ্তক ডেস্ক
ADVERTISEMENT

এমনিতেই নারীদের কাজের শেষ নেই। তারপর তিনি যদি হন কর্মজীবী মা তাহলে তো কথাই নেই। ঘুম থেকে উঠেই শুরু হয় দৌড়ঝাঁপ। অফিসের জন্য রেডি হওয়া, সন্তানকে স্কুল আনা-নেওয়ার চিন্তা। আবার সন্তানের যদি কোচিং থাকে সেটার জন্য সময় ম্যানেজ ও ছোটাছুটিÑসবই করতে হয়। এরপর রান্না করতে না হলেও ঘরের সবদিক গুছিয়ে তারপরই একজন নারীকে কাজে বের হতে হয়। সঙ্গী সাহায্য করলেও পুরো বাড়ির সবকিছু ঠিকমতো পরিচালনার দায়িত্ব একজন নারীর ওপরই থাকে। আবার সারাদিন কাজের পর বাসায় ফিরে সন্তানের হোমওয়ার্ক কিংবা পড়াশোনায় সে সারাদিন কী করল সেটার খবরও কর্মজীবী মায়ের রাখতে হয়। এতসব কাজের পর অফিসে গিয়ে ঘাড়ে ব্যথা, পায়ে ব্যথা এসব হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক। তারপরও থেমে থাকলে তো চলবে না। ঘরে-বাইরে সমান তালে কাজ করতে হলে এসব ব্যথা থেকে মুক্তির উপায় খুঁজে বের করতে হবে। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন।

টেনিস বল রাখুন ব্যাগে : আপনার অফিস ব্যাগে সহজেই ঢোকানো যাবে এমন একটা টেনিস বল ব্যাগেই রাখুন। জিনিসটা যেহেতু খুব ভারী কিছু নয়, তাই বহন করার ক্ষেত্রে কোনো অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। যখনই পায়ে, হাতে কিংবা ঘাড়ে ভীষণ ব্যথা হবে ব্যাগ থেকে এই বলটি বের করে ব্যথার জায়গায় রেখে ডানে ও বামে রেখে বলটি ঘোরান। এতে কিছুটা সময় হলেও যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাবেন।

রেসিস্ট্যান্স ব্যান্ড ভালো পথ : রেসিস্ট্যান্স ব্যান্ডও ব্যথা কমানোর ক্ষেত্রে ভালো একটি পদ্ধতি। এটাও হাত ব্যাগে সহজে বহন করা যায়। পরিচিত যদি কোনো ফিজিওথেরাপিস্ট থাকে তাহলে তার কাছ থেকে এই ব্যান্ড ব্যবহার করে কী কী ব্যায়াম করলে যন্ত্রণা কমে তা জেনে নিন। অফিস, বাসা এমনকি রাস্তাঘাটেও এই ব্যান্ড ব্যবহার করে ব্যায়াম করা যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটা করা গেলে ঘাড় ব্যথা কিংবা শরীরের ব্যথা অনেকটাই কমে যায়।

ডেস্কে বসেই স্ট্রেচ করুন : অনেকক্ষণ ধরে বসে কাজ করলে কোমর কিংবা কাঁধে মারাত্মক যন্ত্রণা হয়। তখন কিছু স্ট্রেচ করা যেতেই পারে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, চেয়ারে বসে পা সোজা করে নিজের পায়ের পাতা ছোঁয়ার চেষ্টা করলেন। একে টো টাচ বলে। কিংবা হাত দুটো মাথার ওপর তুলে ধরে সাইডে ঝোঁকার চেষ্টা করলেন। এটির নাম সাইড রিচ। মাথা ডান এবং বাম দিকে ঘড়ির কাঁটার মতো ঘোরালেও যন্ত্রণা কম হয়। একে বলা হয় নডিং হেড। তাছাড়া সিটেড পিজিওন অর্থাৎ বসে একটা পা সোজা রেখে সেই পায়ের হাঁটুতে ওপর পায়ের পাতা ঠেকানো এবং কিছুক্ষণ এই পজিশন ধরে রাখলেই ব্যথা কমে।

ঘন নিঃশ্বাস নিন : জোরে জোরে নিঃশ্বাস নিলেও ব্যথা কমে। এছাড়া মেডিটেশন করতে পারেন। কাজের ফাঁকে সময় পেলেই ১০-২০ সেকেন্ড মেডিটেশন করে নিন। এতে যে কোনো ব্যথা কমতে সাহায্য করে।

ম্যাসাজ নিন : ছুটির দিন একটা রিল্যাক্সিং ম্যাসাজ নিতে পারে। প্রতি সপ্তাহে নিতে হবে এমন কোনো কথা নেই। তবে মাসে একবার নিতে পারলে শরীরের ব্যথা অনেকটাই কমে আসবে। শরীরও থাকবে ঝরঝরে।

"