শিক্ষা

কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্র

দ্বিতীয় পর্ব

প্রকাশ : ২৬ নভেম্বর ২০১৬, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক
ADVERTISEMENT

কাপ্তাই বাঁধের কারণে আনুমানিক ১৮,০০০ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ৫৪ হাজার একর কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে যায় এবং প্রায় ৬৯০ বর্গ কিমি বনভূমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সরকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৪ কোটি ১৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দিলেও সবাইকে নগদ ক্ষতিপূরণ দেওয়া সম্ভব হয়নি।

জলবায়ু প্রকল্প অঞ্চলটি ভারি আর্দ্রতাবাহী মৌসুমি বায়ুর গতিপথে অবস্থিত। বর্ষাকাল জুন থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত প্রলম্বিত এবং মোট বৃষ্টির প্রায় ৮০ শতাংশ এ সময়ে সংঘটিত হয়। এ অঞ্চলে বার্ষিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ২,২০০ থেকে ৩,৬০০ মিলিমিটার। নভেম্বর থেকে মার্চ মেয়াদে আর্দ্রতার পরিমাণ ৩৫ শতাংশ থেকে ৪৫ শতাংশের মধ্যে থাকলেও বর্ষাকালে তা বেড়ে ৮০ শতাংশ বা তারও বেশি হয়। বার্ষিক গড় বাষ্পীভবন প্রায় ৫০০ মিলিমিটার, তবে অধিকাংশ বাষ্পীভবনই শুষ্ক মৌসুমে ঘটে থাকে। প্রবল বজ্রবৃষ্টি ও ঘূর্ণিঝড় ব্যতীত বাতাসের বেগ সাধারণত মৃদু বলেই বিবেচিত, রেকর্ডকৃত বায়ুর সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৯৬.৫৪ কিলোমিটার।

বন্যার প্রকোপ সাধারণত জুন থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত বর্ষা মৌসুমে বড় আকারের বন্যা দেখা দেয়। বন্যা পরিস্থিতি তুঙ্গে অবস্থান করে সচরাচর ৪ থেকে ৫ দিন এবং ভরা কটালের সময় এ পরিস্থিতি বিরাজ করে। ঝড়ঝঞ্ঝার সময় জোয়ারের উচ্চতা বৃদ্ধি পেলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। কর্ণফুলী নদীতে বন্যা যখন তুঙ্গে তখন হালদা নদীতে পানি নিষ্ক্রমণ মন্থর থাকে বিধায় ভাটির নিম্নাঞ্চলে তীব্র বন্যা সংঘটিত হয়।

বিদ্যুৎ উৎপাদন ১৯৬২ সালের শুরুতে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি উদ্বোধন হলে পরিকল্পিত ৩টি জেনারেটরের মধ্যে ২টিতে উৎপাদিত ৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে সরবরাহ শুরু হয়। ৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতাবিশিষ্ট তৃতীয় জেনারেটরটি স্থাপনার কাজ শেষ হলে ১৯৮২ সালের জানুয়ারি মাস থেকে এটি বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করে। একটি সম্ভাব্যতা যাচাই জরিপে দেখা গেছে যে,

 

প্রাক্কলিত হিসাবের চাইতে জলাধারটির ধারণ ক্ষমতা ২৫% বেশি রয়েছে। ব্যবহারিক উপাত্তে মূল হিসাবের চেয়ে বেশি বিদ্যুৎ প্রবাহের তথ্য বিদ্যমান থাকার বিষয়টি ধরা পড়ে। তাই এ অতিরিক্ত ক্ষমতা আহরণের উদ্দেশ্যে প্রতিটি ৫০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন আরও দুটি অতিরিক্ত জেনারেটর ১৯৮৭ সালে স্থাপন করা হয়।

কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্র

কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত স্বল্পমূল্যের বিদ্যুৎ শক্তির কারণে বাংলাদেশে শিল্প কলকারখানা স্থাপন ও সম্প্রসারণ গতিশীল হচ্ছে। বিদ্যুতের সহজলভ্যতার কারণে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের মাধ্যমে বিপুল এলাকায় সেচ সুবিধা অর্জন সম্ভব হয়েছে। জলাধারটি চট্টগ্রাম শহর ও চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরসহ আশপাশের অঞ্চলকে বন্যার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা করে চলেছে। কাপ্তাই লেককে কেন্দ্র করে যে মৎস্য শিল্প গড়ে উঠেছে তা থেকে বছরে ৭০০ টনেরও বেশি স্বাদুপানির মাছ উৎপাদিত হচ্ছে। বাঁধের উজানে লেকের স্বচ্ছ নীল জলরাশি বিসর্পিল রেখায় পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ময় নিসর্গের প্রতিটি প্রান্তর ছুঁয়ে বয়ে চলেছে। ফলে প্রত্যন্ত বরকল নদীপ্রপাত থেকে শুরু করে রাঙ্গামাটি হয়ে উত্তরে কাসালংয়ের সংরক্ষিত বনভূমি পর্যন্ত এলাকায় যাতায়াত লঞ্চ, নৌকা ও অন্যান্য জলযানের মাধ্যমে খুবই সহজ হয়ে উঠেছে। কাপ্তাইয়ে বৈদ্যুতিক রজ্জুপথের মাধ্যমে বাঁধের ওপর দিয়ে বিভিন্ন আকারের নৌকা ও অন্যান্য ভাসমান মালামাল লেক থেকে কর্ণফুলী নদীতে বা নদী থেকে লেকে পারাপার করা হয়।

সূত্র- বাংলাপিডিয়া

 

 

"