ব্যক্তিত্ব

ছুটি নেইনি দীর্ঘদিন : খালেদ মুহিউদ্দীন

প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০১৬, ০০:০০

বাংলাদেশের টিভি ও বুদ্ধিবৃত্তির উঠানে পরিচিত মুখ খালেদ মুহিউদ্দীন। দেশ-বিদেশের সংবাদ সামাল দেওয়া ছাড়াও প্রতিনিয়ত মুখোমুখি হন দেশের নামজাদা সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী ও বিশেষজ্ঞদের। যে কোনো বিষয়ে কথা বলতে পারেন অনর্গল। খন্ডকালীন শিক্ষকতা করেন ঢাকা ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। সাংবাদিকতা ও শিক্ষকতা দুটোই সমান পছন্দ তার। আলাপ করেছেন আনোয়ারা আলপনা
ADVERTISEMENT

কেমন ছিল ছেলেবেলা?

খালেদ মুহিউদ্দীন : খুব ধনী পরিবার নয় আমাদের। আবার দারিদ্র্যের মধ্যেও বেড়ে উঠিনি। তিন ভাই আর বাবা-মাকে নিয়ে ছিল পরিবার। ছোটবেলায় আমরা অনেক অ্যাক্টিভ ছিলাম। প্রচুর খেলাধুলা করেছি। বড় বড় মাঠ ছিল। জন্ম, বেড়ে ওঠা সবই ঢাকায়। গ্রিনরোড, কলাবাগান এলাকায় সরকারি স্টাফ কোয়ার্টারে থেকেছি দীর্ঘদীন। গত দশ এগারো বছর আছি মিরপুরে।

লেখাপড়া...

খালেদ মুহিউদ্দীন : ছোটবেলায় ঢাকার অনেকগুলো স্কুলে পড়েছি আমি। এইচএসসি পাস করেছি নেভি স্কুল থেকে। তারপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে পাস করেছি।

সাংবাদিক হতে চেয়েছিলেন?

খালেদ মুহিউদ্দীন : না। আমার এখন বয়স ৪২। তবে ছোটবেলায় আসলে সাংবাদিক হতে চাই, এমন ভাবার সুযোগ ছিল না। তখন বাবা-মা চাইতেন ছেলেমেয়েরা হয় ডাক্তার, না হয় ইঞ্জিনিয়ার হবে। এইচএসসি পাসের পর মনে হলো অত লেখাপড়া করতে পারব না। কাজেই লেখাপড়া যেন কম করতে হয়, সে কারণেই জার্নালিজমে ভর্তি হয়েছিলাম।

আপনার বয়স ৪২, মানে ঢাকা শহরটাকে মোটামুটি বদলে যেতে দেখেছেন। কেমন ছিল এই বদল?

খালেদ মুহিউদ্দীন : আমার মনে হয়, আমাদের পছন্দমতোই বদলেছে ঢাকা। যেমন, একটাই আইসক্রিমের দোকান ছিল তখন, ভাবতাম আরো যদি দোকান থাকত! মনে হতো ঢাকায় অনেক কিছু থাকুক। যখন ফার্মগেটের ফুট ওভারব্রিজটা হলো, মনে আছে দলে দলে মানুষ দেখতে আসত। আনন্দ সিনেমা হলে সিনেমা দেখে ঘুরে ঘুরে ওভারব্রিজ দেখত।

সাংবাদিকতায় শুরুর গল্প শুনি?

খালেদ মুহিউদ্দীন : শুরু করেছি প্রথম আলো দিয়ে। বিসিডিজেসি, বিডিনিউজে কাজ করেছি। ‘আমাদের অর্থনীতি’ পত্রিকা সম্পাদনা করেছি কিছুদিন। বিসিএস দিয়ে ম্যাজিস্ট্রেট হয়ে চাকরি করেছি ছয় মাস। ওয়ারিদ টেলিকমেও কাজ করেছি কিছুদিন। ১৮ বছরের ক্যারিয়ারে অনেক কাজই করেছি। ‘প্রথম আলো’তেই আট বছর।

সরকারি চাকরি কেন?

খালেদ মুহিউদ্দীন : আসলে সে সময় আমার প্রেমিকা তার পরিবারে বলতে পারছিল না, যে ছেলেটিকে সে বিয়ে করতে চায়, সে সাংবাদিক। কাজেই সরকারি চাকুরে হতে হয়েছিল।

কবে থেকে টিভিতে?

খালেদ মুহিউদ্দীন : ২০১১ সালে, ইন্ডিপেনডেন্ট টিভি অনএয়ার হওয়ার সাতদিন আগে।

আপনি তো দেখতে ভালো, কখনো নায়ক হতে ইচ্ছা করেনি?

খালেদ মুহিউদ্দীন : ইচ্ছা করেনি সেটা বললে ভুল হবে। আসলে কেউ আমাকে ডাকেনি। প্রথম প্যাকেজ নাটকের পাসিং শটে আমি ছিলাম অবশ্য।

টিভি ক্যামেরায় মানে লাইভ অনুষ্ঠানে কতটা স্বচ্ছন্দ?

খালেদ মুহিউদ্দীন : খুব বেশি না। নার্ভাস লাগে এখনো। ভয়ও লাগে।

সারা সপ্তাহের টিভি শিডিউল বলুন...

খালেদ মুহিউদ্দীন : প্রতি রবি থেকে বুধবার ৮টা থেকে ১১টা পর্যন্ত অনএয়ার থাকি আমি।

টকশোর প্রস্তুতি কীভাবে নেন?

খালেদ মুহিউদ্দীন : টকশোর জন্য আমার অনেক প্রস্তুতি থাকে। সকাল থেকেই শুরু হয়। প্রি-প্রোডাকশন মিটিং হয়। সিলেকটেড প্রশ্ন রেডি রাখি।

পোশাকের বেলায় কতটা মনোযোগী?

খালেদ মুহিউদ্দীন : খুব না। অফিসে আমার তেরোটা স্যুট আছে। যেগুলোর প্রায় সবই অনস্ক্রিন কালো দেখায়। আমার অনেক টাই আছে। শার্ট তো প্রায় সবসময়ই সাদা। এ পর্যন্তই।

এমন কী হয়েছে যে, ক্যামেরায় যেটুকু দেখা যায় শুধু সেটুকু রেডি? মানে উপরে স্যুট আর পায়ে স্যান্ডেল?

খালেদ মুহিউদ্দীন : না। আমি পুরোটাই রেডি হই। স্যুট পরলে পায়ে স্যু থাকে।

টিভি ক্যামেরা মানেই মেকআপ। স্কিনের ব্যাপারে সচেতন?

খালেদ মুহিউদ্দীন : আমার মেকআপ নিতে লাগে এক মিনিট। সেটা তোলার কোনো ব্যাপার নেই। বাসায় গিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলি।

টিভি, পড়ানো এর বাইরে নিজের অন্য ইচ্ছাগুলোকে কীভাবে সময় দেন? ধরুন সিনেমা দেখা বা বইপড়ার সময়?

খালেদ মুহিউদ্দীন : আমি সময় করে নিই। সিনেমা তো অনেক দেখা হয়। অনেকে আছেন যাদের ফেসবুকে অনেক সময় চলে যায়। আমার তেমন হয় না। টাইম ম্যানেজমেন্ট আমার অনেক ভালো।

প্রতিভা নাকি পরিশ্রম?

খালেদ মুহিউদ্দীন : আমার সবচেয়ে বড় ব্যাপারে হলো, আমার যে তেমন প্রতিভা নেই সেটা আমি বুঝতে পেরেছি। আমার যোগ্যতা কম, সামর্থ্য কম। আমি সেটা পরিশ্রম দিয়ে পুষিয়ে দিই। নিয়মতান্ত্রিকভাবে গুছিয়ে কাজ করি। আসলে অপছন্দের কাজে সময় বেশি লাগে। আমি তো আমার কাজ খুশি মনে করি। কাজেই সময় নষ্ট হয় না।

পরিবারে সময় দেওয়ার ব্যাপারে তাদের কোনো অভিযোগ আছে?

খালেদ মুহিউদ্দীন : মনে হয় নাই। এমন হয়নি যে সময়ের অভাবে আমি মেয়ের সঙ্গে বা বউয়ের সঙ্গে গল্প করতে পারিনি।

মেয়ের স্কুলে যান? মেয়ে চায় না?

খালেদ মুহিউদ্দীন : না। ও বরং আমাকে যেতে না করে।

কেন? পরিচিত মুখ বলে?

খালেদ মুহিউদ্দীন : হ্যাঁ। অনেকেই চিনে ফেলে।

আজকাল টকশোর হোস্টরা সেলিব্রেটি...

খালেদ মুহিউদ্দীন : আসলে ওই অর্থে সেলিব্রেটি না কিন্তু। যেমন সাকিব আল হাসান। সে দেশের জন্য জয়ের আনন্দ নিয়ে আসে। টকশোর হোস্টরা আসলে পরিচিত মুখ। টেলিভিশনে দেখায় বলে মানুষের মনে হয়। আরে, একে তো চিনি! এমন না যে তারা আমার ভক্ত, এমন কোনো ব্যাপার। এটা স্টারডম না। এ পর্যন্তই।

আপনার টকশোতে একাধিক অতিথি থাকলে কীভাবে ম্যানেজ করেন?

খালেদ মুহিউদ্দীন : আমার মনে হয় আমাদের সাংবাদিকরা প্রশ্ন করতে জানেন না। আমিও ভালো প্রশ্ন করতে পারি না। আমাদের প্রি-প্রোডাকশন টিম আমাকে তৈরি প্রশ্ন দিয়ে রাখে।

লাইভ অনুষ্ঠানে কথা কোন পথে যাবে, আগে থেকে বোঝা যায়?

খালেদ মুহিউদ্দীন : বিষয় তো ঠিক করা থাকে। কাজেই আলোচনা কোন পথে যাবে অনেকটা বোঝা যায়। কারা অতিথি হচ্ছেন সেটা স্টাডি করেও বোঝা যায় কী ধরনের প্রশ্ন করা যায়।

লেখালেখি করেন?

খালেদ মুহিউদ্দীন : অনেকদিন লিখছি না। তবে লিখেছি একসময়। প্রচুর না হলেও অনেকই লিখেছি। ‘প্রথম আলো’র যখন যে পাতায় লেখা দরকার পড়েছে, লিখেছি।

ফিকশন? কবিতা?

খালেদ মুহিউদ্দীন : কবিতার কথা না বলি। আমার ছয়টা বই প্রকাশকরা প্রকাশ করেছেন। আমি নিজে করিনি। চারটি উপন্যাস ছাপা হয়েছে। একটা গল্পের বইও ছাপা হয়েছে। সাহিত্যপাতায়ও লিখেছি। কেউ কেউ মনে করেছেন আমি লিখতে পারি। তাদের চাপাচাপিতেই লিখেছি।

বন্ধুবান্ধব?

খালেদ মুহিউদ্দীন : আমি খুব সামাজিক না। বন্ধুবান্ধব আছে। তবে তাদের পারিবারিক অনুষ্ঠানে যাওয়া হয় না।

নিজের সম্পর্কে মৌলিক কথা কোনটি?

খালেদ মুহিউদ্দীন : একটা জিনিস আমি খুব গর্ব নিয়ে বলতে পারি, দীর্ঘদিন আমি কোনো ওষুুধ খাই না। শেষ কবে জ্বর এসেছিল মনে পড়ে না। আমি অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে ছুটি নেইনি দীর্ঘদিন।

ছবি : ফেসবুক

"