মঙ্গল শোভাযাত্রার স্বীকৃতি অনন্য অর্জন

প্রকাশ : ০২ ডিসেম্বর ২০১৬, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক
ADVERTISEMENT

পহেলা বৈশাখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ আয়োজিত মঙ্গল শোভাযাত্রাকে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে ঘোষণা করেছে ইউনেসকো। গত বুধবার ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবায় বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণবিষয়ক আন্তরাষ্ট্রীয় কমিটির ১১তম সেশনে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দুই বছর আগে এ তালিকায় মঙ্গল শোভাযাত্রাকে অন্তর্ভুক্তির চেষ্টা শুরু হয় বাংলা একাডেমির প্রস্তুত করা প্রস্তাবনা ইউনেসকোর কাছে হস্তান্তরের মাধ্যমে। এরপর সেই মনোনয়নের প্রস্তাবনা কয়েকটি সংশোধনীর মধ্য দিয়ে যাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ইউনেসকোর কমিটিতে অনুমোদিত হয়। এ বিষয়ে ওই কমিটির সিদ্ধান্তে বলা হয়, মঙ্গল শোভাযাত্রা নিজেদের জীবন্ত ঐতিহ্য নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের গর্ব ও অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মানুষের শক্তি ও সাহস প্রদর্শন করে। এটি ন্যায় ও সত্যের প্রতি বাংলাদেশের মানুষের আস্থার চিত্রটি প্রতিফলিত করে। জাতি, বর্ণ, ধর্ম ও সব ধরনের মানুষের উৎসব হিসেবে এই উৎসব গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিফলিত করে।

১৯৮৯ সাল থেকে শুরু হয় মঙ্গল শোভাযাত্রা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে এই আনন্দ শোভাযাত্রা বের করে। শোভাযাত্রায় থাকে বিশালাকার চারুকর্ম, পাপেট, হাতি, ঘোড়াসহ বিচিত্র সাজসজ্জা। থাকে বাদ্যযন্ত্র। ১৯৯১ সালে চারুকলার শোভাযাত্রায় নতুন মাত্রা লাভ করে। পহেলা বৈশাখ বাঙালি সংস্কৃতিতে বরাবরই আনন্দের বার্তাবাহক। এ দিনে ঘরে উঠবে নতুন পঞ্জিকা। হালখাতা করবেন ব্যবসায়ীরা। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই প্রার্থনার মধ্য দিয়ে শুরু হয় নতুন দিন, নতুন বছর। পহেলা বৈশাখ মানেই ধর্ম, বর্ণ, ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে অসাম্প্রদায়িকতার জয়গান গাওয়া, সর্বজনীন উৎসব পালনের মধ্য দিয়ে বাংলার সব মানুষের এক হয়ে আনন্দ ভাগাভাগি করা। পহেলা বৈশাখ মানেই সংস্কৃতির পরিচয়বাহী নানা উপকরণ, রং-বেরঙের মুখোশ, শাড়ি, ধুতি আর পাঞ্জাবির মতো বাঙালিয়ানা সাজে নিজেকে রাঙিয়ে ঘুরে বেড়ান। তবে এই দিনের আয়োজনে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ থাকে মঙ্গল শোভাযাত্রা।

বাংলা নববর্ষ উদযাপনে শুধু বাঙালি নয়, অন্য জাতিগোষ্ঠীও উৎসব আয়োজন করে থাকে। যার যার নিজস্ব আয়োজনে একই সময়ে উৎসব উদযাপন সাংস্কৃতিক ও জাতিগত সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ। মঙ্গল শোভাযাত্রার এই স্বীকৃতি অর্জন আমাদের অসাম্প্রদায়িকতারই বিজয়। চলমান অস্থির সময়ে এ অর্জন আনন্দের সুবাতাস বইয়ে দিয়েছে। একই সঙ্গে আমাদের চলার পথও দেখিয়ে দিয়েছে। তরুণ প্রজন্মের কাছে মঙ্গল শোভাযাত্রা আরো আকর্ষণীয় ও মহিমাময়ী হয়ে দেখা দেবে। আমরা চাই এই সাফল্যের খবর সর্বত্র পৌঁছে দেওয়া হোক। সব জাতিগোষ্ঠী যন তাদের নববর্ষ উদযাপন বাধাহীনভাবে করতে পারে সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। মঙ্গল শোভাযাত্রার অর্জনকে খন্ডিত করা যাবে না। একে সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে, সবার কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলাই হোক ভবিষ্যৎ বিবেচ্য।

"