পানি ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি

প্রকাশ : ০১ ডিসেম্বর ২০১৬, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক
ADVERTISEMENT

পানি প্রাণের অস্তিত্ব নির্ধারক। এজন্যই গ্রহ থেকে গ্রহান্তরে প্রাণের অস্তিত্ব খুঁজতে চলছে পানির সন্ধান। এই পানি যেমন প্রাণের অস্তিত্ব নির্ধারক, তেমনি আবার প্রাণের সঞ্জীবনী সুধাও। বিশ্বব্যাপী এ কারণেই পানি মানুষের মৌলিক অধিকার বলে স্বীকৃত। আর সে পানি যে সুপেয় পানি, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু বর্তমান বিশ্বের অন্য আর এক আবশ্যিক প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গ উন্নয়নের ধারায় সেই সুপেয় পানির প্রাপ্তি ক্রমেই সংকুচিত হয়ে পড়ছে। পৃথিবীব্যাপী সুপেয় পানির উৎস ও কৃষিকাজে ব্যবহারের উপযোগী পানির পরিমাণ ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে। এতে বাড়ছে পানির জন্য প্রতিযোগিতা এবং মানুষে মানুষে দ্বন্দ্ব, সংঘাত ও বিরোধ। এ সংঘাত যেমন বাড়ছে দেশের সঙ্গে দেশের, তেমনি বাড়ছে দেশের অভ্যন্তরে। পানির অভাবে হুমকির মুখে পড়েছে প্রাণিজগৎ ও উদ্ভিদবৈচিত্র্য। পানি নিয়ে সমগ্র মানবজাতি ক্রমেই গভীর সংকটের দিকে ধাবিত হচ্ছে। বহু আগেই বলা হয়েছে যে, আগামী দিনের যুদ্ধ সংঘটিত হবে পানি নিয়ে। এ সংঘাত বা যুদ্ধের সম্ভাবনাকে দূরে ঠেলতে প্রয়োজন হচ্ছে সবার জন্য সুষম বা ন্যায়সঙ্গত হিস্যা নিশ্চিত করা এবং সীমিত এ পানি সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা করা।

এ রকম একটি পরিস্থিতিতে সদ্য সমাপ্ত বুদাপেস্ট আন্তর্জাতিক পানি শীর্ষ সম্মেলন ২০১৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উচ্চপর্যায়ের প্যানেল সদস্য হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পানি ব্যবস্থাপনায় সর্বজনীন বৈশ্বিক কয়েকটি উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি তার বক্তব্যে সাত দফা আলোচ্যসূচি উত্থাপন করার সঙ্গে প্রতিটি দেশের নিজ নিজ রাষ্ট্রীয় নীতিমালায় পানি সম্পর্কিত বিষয়ের ওপর অগ্রাধিকার ও জোর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্ব নেতাদের প্রতি। উন্নয়নের সঙ্গে পানির একটি অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক রয়েছে। এ আলোকেই তিনি প্রথম আলোচ্যসূচিতে ২০১৩ সালের বুদাপেস্ট পানি শীর্ষ সম্মেলনের অবদান হিসেবে ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের জন্য পানি সম্পর্কিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করেছেন। এতে পানি ও বৃহত্তর টেকসই উন্নয়ন কাঠামোর মধ্যে আন্তসংযোগ এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পর্যায়ে যেকোনো উন্নয়ন প্রচেষ্টায় পানিই হবে অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রথম আলোচ্যসূচিতে এই এজেন্ডার কথাই উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দ্বিতীয় ও তৃতীয় এজেন্ডায় তিনি যথাক্রমে উল্লেখ করেন বিশ্বজুড়ে পিছিয়ে থাকা ও স্যানিটেশন সুবিধাবঞ্চিত লাখ লাখ মানুষের চাহিদা এবং পানি সম্পর্কিত বিপর্যয় রোধে সহায়ক কাঠামো নির্মাণের বিষয়টি। তিনি একই সঙ্গে কার্যকর পানি ব্যবস্থাপনার গুরুত্বের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি পানির কার্যকর ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা ও কৌশল বিনিময় এবং পানি-সংক্রান্ত লক্ষ্য অর্জনে গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি হস্তান্তরে একটি বৈশ্বিক তহবিল গঠনের ওপর জোর দেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ প্রস্তাব অত্যন্ত সময়োপযোগী ও গুরুত্ববহ। জনসংখ্যা বৃদ্ধি, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও উন্নয়ন কর্মকান্ডে বিশ্বব্যাপী বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ায় পানির নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে। সেই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনে এ পরিস্থিতির আরো মারাত্মক অবনতি ঘটেছে। এ থেকে পরিত্রাণের একমাত্র উপায় সম্মিলিত প্রয়াস এবং এ পরিপ্রেক্ষিতে পানি ব্যবস্থাপনায় একত্রে কাজ করার এটাই সময়। এ পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য অবশ্যই প্রণিধানযোগ্য।

"