অভিমত

নিরপেক্ষ গণমাধ্যমই হতে পারে জাতির দিশারী

মো. ওসমান গনি

প্রকাশ : ৩০ নভেম্বর ২০১৬, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক
ADVERTISEMENT

গণমাধ্যমকে বলা চলে সমাজের দর্পণ। আমরা দর্পণের মাধ্যমে যেমন আমাদের অবয়ব প্রদেখতে পাই, ঠিক তেমনি আমরা গণমাধ্যমের মাধ্যমে দেশের তথা সারা বিশ্বের অবয়ব দেখতে পাই। তাই গণমাধ্যমকে হতে হবে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ। তাই বলে কি গণমাধ্যমের কর্মীদের কোনো রাজনীতি করার অধিকার নেই? অবশ্যই তারা রাজনীতি করতে পারবেন। তবে সংবাদ পরিবেশনার মধ্যে তাদের কোনো দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ পাবে না। সংবাদ পড়ে কোনো মানুষ যাতে বলতে না পারে যে অমুক সাংবাদিক অমুক রাজনৈতিক দলের হয়ে সংবাদ পরিবেশন করছেন। অর্থাৎ তাদের প্রকাশিত সংবাদ পড়ে দেশের জনগণ যাতে বুঝতে না পারে যে, সে অমুক দলের দালালি করছে বা অমুক দলের পক্ষে সংবাদ করছে। কারণ গণমাধ্যমের মাধ্যমে আমরা প্রকৃত সংবাদ পেতে চাই। বর্তমান পরিস্থিতিতেও গণমাধ্যম এই ভূমিকা পালন করছে। এর দুটি দিক আছে। প্রথমত, আমাদের বর্তমান রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বিরোধী দলের আন্দোলনের পরিস্থিতিটা বা ইতিবাচক-নেতিবাচক দিকটাও আমরা গণমাধ্যমের মাধ্যমে জানছি। আমরা যখন দেখি হরতাল-অবরোধের সময় আগুন জ্বলছে, পেট্রলবোমায় মানুষ পুড়ছে; তখন প্রশ্ন ওঠে গণমাধ্যমের ব্যক্তিরা সেখানে এত প্রতাড়াতাড়ি পৌঁছালেন কীভাবে? আবার এর উত্তর অনেকে এমনভাবে দেন এসব তো সাংবাদিকদের জানারই কথা। কারণ তারা তো সব সময় এর অনুসন্ধানই করেন। তারা সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করার জন্য এ ধরনের সংবাদ প্রকাশে কিছুটা সাবধানতা অবলম্বন করতে পারেন। কারণ তারা যদি আগে থেকেই জানেন এমন কোনো ঘটনা ঘটতে পারে, তবে তা জনগণকে রক্ষা করার জন্য সাধারণ মানুষকে জানালেই পারেন। কিন্তু পত্রিকার আদর্শ অনুযায়ী দুঃসংবাদ বেশি গুরুত্ব পায়। কারণ ‘ব্যাড নিউজ ইজ অলওয়েজ গুড নিউজ ফর মিডিয়া’। যেমন বিমান দুর্ঘটনা হলেই আমরা জানতে পারি, আবার বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক ভালো কাজ হলেও আমরা দুর্ঘটনাগুলোই গণমাধ্যমে দেখি। সে দিক থেকে আমরা বলতে পারি গণমাধ্যম তো এমনটাই চাইবে।

আজকাল গণমাধ্যম আমাদের দেশে শিক্ষকের ভূমিকা পালন করছে। জাতির বিবেকের ভূমিকাও মাঝে মাঝে পালন করে। তাই এ সময় গণমাধ্যমের কাছে আমাদের দাবি থাকবে, এমন সংবাদ পরিবেশনের, যাতে করে মানুষের মাঝে এক ধরনের স্বস্তি ও আশার সম্ভাবনা সৃষ্টি করা যায়। গণমাধ্যমের কর্মীদের প্রয়াস ও উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা সত্যকে জানতে পারি, যে সত্য হয়তো কোনো দিনও আমাদের সামনে আসত না। প্রগণমাধ্যমকর্মীদের নিরন্তর পরিশ্রম, কখনো জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নানা তথ্য সংগ্রহ করতে হয়। বর্তমান অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতি একেকটি রাজনৈতিক দল নিজেদের মতো ইতিবাচক দিক বা নেতিবাচক দিক ব্যাখ্যা করছে। আমরা গণমাধ্যমের ব্যাখ্যা পেয়ে নিজেদের মতো বোঝার সুযোগ পাচ্ছি। একটি যথার্থ গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টির জন্য গণমাধ্যম ভূমিকা রাখবেÑএমনটাই সাধারণ মানুষের আশা। অন্যদিক থেকে বলা যায়, প্রগণমাধ্যম বিবদমান দলগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। রাজনৈতিক দলগুলোকে জনগণের মতামতের প্রতিফলন দেখিয়ে আলোচনার টেবিলে বসাতে বাধ্য করতে পারে। কিন্তু আমাদের দেশে এ ধরনের কোনো চাপ গণমাধ্যম সৃষ্টি করতে পারছে না। কারণ আমাদের দেশের গণমাধ্যমকর্মী ও গণমাধ্যম করপোরেটের নিয়ন্ত্রণাধীন তারা যেকোনোভাবেই হোক একেকটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত। কেউই এ রাজনৈতিক গন্ডি অতিক্রম করতে পারেন না।

বর্তমান পরিস্থিতিতে নিরাসক্ত, মুক্তচিন্তার ও মুক্তচিত্তের গণমাধ্যমকর্মী ও সংগঠকের বড় প্রয়োজন। আর এমনটা হলেই আমাদের প্রার্থিত, কাক্সিক্ষত, সুস্থ ও কল্যাণকর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা ও সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা হতে পারে। আমি বিশ্বাস করি, সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীরাই জাতির শিক্ষক হতে পারেন। জনগণের কাছে প্রমাণ দিতে হবে যে, সাংবাদিকরা কোনো রাজনৈতিক দলের বা গোত্রের বিশেষ ব্যক্তি নন। তারা তাদের দায়িত্বের খাতিরেই সত্য সংবাদ পরিবেশন করে থাকেন। এতে করে দেশের মানুষের কাছে যেমন তিনি সঠিক দায়িত্ববান সাংবাদিক হিসেবে পরিচিতি লাভ করবেন; তেমনি তিনি যে পত্রিকায় কাজ করছেন সে পত্রিকার প্রচার সংখ্যাও দিন দিন বাড়তে থাকবে। মানুষ আগ্রহ নিয়ে বসে থাকবে এই দায়িত্ববান সাংবাদিকের লেখা পত্রিকার জন্য।

লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট

ganipress@yahoo.com

"