আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌক্তিক আচরণ কাম্য

প্রকাশ : ২৯ নভেম্বর ২০১৬, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক
ADVERTISEMENT

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া কলেজ সরকারীকরণের দাবিতে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন। তাদের একজন ওই কলেজের সহকারী অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ এবং অন্যজন স্থানীয় মাছবিক্রেতা সফর আলী। এই ঘটনায় দুটি তদন্ত কমিটির মধ্যে একটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া একটি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। পুলিশের মামলায় সরকারি কাজে বাধা প্রদান ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় অজ্ঞাত চার শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। গতকাল নিহত শিক্ষকের মরদেহ কলেজে আনতে পুলিশ বাধা দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন আন্দোলনকারী শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় লোকজন। ওই এলাকায় ১৪৪ ধারাও জারি ছিল গতকাল। আন্দোলনরতদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়Ñ কলেজের ভেতর আহত শিক্ষকেরা অনেক সময় ধরে আটকে ছিলেন। হাসপাতালে নেওয়ার পরে শিক্ষক আবুল কালাম আজাদের মৃত্যুর খবর আসে। সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশের ধাওয়ায় নিহত হন সফর আলী নামের আরো একজন। পুলিশের দাবিÑ শিক্ষক আগে থেকেই অসুস্থ ছিলেন। আর অপর ব্যক্তি ঘটনাস্থলের কিছু দূরে মারা গেছেন।

উপজেলায় কলেজ জাতীয়করণের সরকারি উদ্যোগটি ছিল খুবই ইতিবাচক এবং বহুল প্রশংসনীয়। তবে এ ঘটনার পর এর আশঙ্কার দিকটিও প্রকটভাবে উন্মোচিত হলো। কলেজ সরকারীকরণের দাবি অনেকের জন্যই প্রাণের দাবি। শিক্ষকরা যেমন এর ফলে তাদের অধিকার ভোগ করতে পারবেন, তেমনি শিক্ষার্থীদেরও শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি পাবে। তাদের সনদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে। সরকারের উদ্যোগ যে কারণে তাদের মনে আশার সঞ্চর করেছিল। কিন্তু তার এমন পরিণতি কে আশা করেছিল। ৪৪ বছরের পুরনো ফুলবাড়ীয়া কলেজকে বাদ দিয়ে যোগ্যতায় অনেক পিছিয়ে থাকা একটি কলেজকে জাতীয়করণ কেন করা হলো সেই প্রশ্নও এখন উঠছে। এতে করে রাজনৈতিক পক্ষপাতের বিষয়টি আবারো সামনে চলে এল। ফলে পুরো জাতীয়করণের বিষয়টি এখন প্রশ্নের সম্মুখীন। তিন মাস ধরে আন্দোলনের পরও কেন শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিষয়টির সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি তার উত্তর জানাও জরুরি।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আচরণেরও সমালোচনা এ ক্ষেত্রে করতে হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হিন্দুদের বসতিতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া ঘটনায় তাদের এত সক্রিয়তা দেখা যায়নি। কিন্তু ফুলবাড়ীয়ার ঘটনায় দেখা গেছে। তাদের কাছ থেকে আরো সহশীলতাই কাম্য। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ওপরই বিষয়টি তারা ছেড়ে দিতে পারতেন। আহত শিক্ষকদের কলেজে আটকে রাখার বিষয়টিও নিন্দনীয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আরো আন্তরিক থাকলে প্রাণহানির ঘটনা ঘটত না। তাদের এমন আচরণের পেছনেও কি রাজনৈতিক পক্ষপাত কাজ করেছে কি না তা খতিয়ে দেখা জরুরি। আমরা মনে করি, নাগরিকদের নিয়ন্ত্রিত ক্ষোভ জানানোর ব্যবস্থা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেই করতে হবে।

"