অভিমত

উন্নয়নের জন্য ভাবনা

এস এম মুকুল

প্রকাশ : ২৯ নভেম্বর ২০১৬, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক
ADVERTISEMENT

উপার্জনমুখী গণজাগরণই জাতীয় উন্নয়ন রেনেসাঁর সূত্রপাতের মূলমন্ত্র। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ব্যক্তি উদ্যোগ সৃষ্টি করে বৃহত্তর গণজাগরণ। এভাবে সমাজ উন্নয়ন ও পরিবর্তনে সামাজিক উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সামাজিক উদ্যোগ মানুষের মনে উপার্জনমুখী প্রবণতা সৃষ্টি করে। কোনো সরকারের একক প্রচেষ্টায় দেশের আমূল পরিবর্তন আনয়ন অসম্ভব। এক্ষেত্রে সরকারের কাজ সামাজিক উদ্যোগ বাস্তবায়নে সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করা। পাশাপাশি পৃষ্ঠপোষকতা বা প্রণোদনা দিয়ে উৎসাহিত করা। তাহলে সমাজের ভেতর থেকে উঠে আসবে অসংখ্য উদ্যোক্তা, সামাজিক নেতৃত্ব, বাড়বে বিনিয়োগ, সৃষ্টি হবে কর্মসংস্থান। সামাজিক উন্নয়ন তৎপরতার এই গণজাগরণ দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে উত্তরোত্তর সমৃদ্ধির পথে।

কেমন করে একটি দেশ ধনী হয়? আছে কি কোনো মূলমন্ত্র? সহজ কোনো উপায়? আমরা জানি, ধনী হওয়ার পথ খুব দীর্ঘ, বন্ধুরও বটে। দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার ছোট্ট একটি দেশ ব্রুনেই। জনসংখ্যার তুলনায় তেল, গ্যাসের মতো মূল্যবান খনিজ কপালগুণে দেশটিকে ধনী করে দিয়েছে। দ্বীপ দেশ সিঙ্গাপুরে তেমন খনিজ সম্পদ নেই। দেশটি মালয়েশিয়া থেকে পানিও আমদানি করে খায়। সিঙ্গাপুরকে সমৃদ্ধির কঠিন পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। কঠোর পরিশ্রম, বন্দর বাণিজ্য এবং দক্ষতার জোরে ধনী রাষ্ট্রে পরিণত হতে পেরেছে সিঙ্গাপুর। হিরোশিমার পারমাণবিক বিধ্বংস কাটিয়ে ভূমিকম্পপ্রবণ জাপানিরা অতি পরিশ্রমীর অপবাদ নিয়ে গড়ে তুলেছে সমৃদ্ধির সাম্রাজ্য। অনুপম আদর্শিক নেতৃত্বে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনে আত্মবিশ্বাসী-আত্মশক্তিতে বলীয়ান হিসেবে জাতি গঠনের মাধ্যমে মালয়েশিয়াকে ধনের স্বর্গোদ্যানে পরিণত করেছেন মাহাথির মোহাম্মদ। উদাহরণ দিলে এমন অনেক কিছুই বলা যাবে।

সম্ভাবনা আমাদেরও আছে। বাংলাদেশ এখন এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম জিডিপি অর্জনকারী দেশ। আমাদের উচিত কথা কম বলে কাজ বেশি করা। বিদ্যমান সমস্যা মোকাবিলা করেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তাদের সুবিধা দিতে হবে। দেশ গড়তে তরুণ সমাজকে প্রযুক্তি জ্ঞান সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলতে হবে। দেশপ্রেম ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার জাগরণ ঘটাতে হবে। বিজয় অর্জন ও স্বাধীনতা অর্জনের ৪৫ বছরে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ। আমরা যে যে পেশায় নিয়োজিত রয়েছি সেখানটায় থেকেই অনেক কিছুই করার আছে দেশের জন্য। দেশকে অনেক কিছুই দেওয়ার আছে। আমরা জানি, তিনটি পেশাকে বলা হয়ে থাকে পেশাগুলো নিজের জন্য নয় অর্থাৎ সেবামূলক। পেশা তিনটি হলোÑডাক্তার, শিক্ষক এবং শিল্পী। আমাদের দুর্ভাগ্য এই সেবামূলক পেশাজীবীরা চরম অনৈতিক, অর্থলিপ্সু হিসেবে অভিযুক্ত। শুধু তারাই নন, জাতির বিবেক সাংবাদিক, লেখক, বুদ্ধিজীবী থেকে শুরু করে সব পেশায় ও কর্মের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে পড়েছে দুর্নীতি আর অনিয়ম। রাজনীতিতে তো আদর্শের বড়ই অভাব।

একটি দেশের জন্য সবার আগে প্রয়োজন কিছু ভালো মানুষ। দরকার দেশপ্রেমী প্রত্যয়। এখানটাও আমাদের অনেক ঘাটতি আছে। দেশকে ভালোবাসতে না জানলে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ প্রজন্ম তৈরি হবে না। সৎ, যোগ্য নেতৃত্বও আসবে না।

এখন প্রয়োজন ভিশনারি নেতৃত্ব। দেশের সম্পদ-সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে। জাগিয়ে তুলতে হবে শিল্প সম্ভাবনা। দেশের উদ্যোক্তাদের অধিক সুবিধা আর কাজের অনুকূল সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। মনে রাখতে হবে দেশের মানুষই দেশ গড়বে। সুতরাং মানুষের জন্য ব্যাপক কাজের সুযোগ সৃষ্টি করা প্রথম ও প্রধান কাজ হওয়া উচিত।

স্বাধীনতা অর্জনের ৪৩ বছরের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েছে বাংলাদেশ। আমরা ঠিকই এগিয়েছি অনেকদূর। কিন্তু যতটা এগোবার কথা তার ধারেকাছে এখনো যেতে পারেনি। সময় ফুরিয়ে যায়নি, সম্ভাবনা ফুরিয়ে যায়নি। সম্ভাবনা আরো বেড়েছে, সমৃদ্ধ হয়েছে। তবে সে আশার প্রদীপ জ্বেলে বসে থাকলে চলবে না। সবাইকে একযুগে কাজ করে যেতে হবে। জাতীয় ঐক্য, সমবেত প্রচেষ্টায় কাক্সিক্ষত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব। আসুন দেশকে ভালোবাসি, দেশের জন্য কাজ করি।

লেখক : কলাম লেখক ও উন্নয়ন গবেষক

writetomukul36@gmail.com

 

"