জেলা পরিষদের সুষ্ঠু নির্বাচন জরুরি

প্রকাশ : ২৮ নভেম্বর ২০১৬, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক
ADVERTISEMENT

তিন পার্বত্য জেলা বাদে দেশের বাকি ৬১ জেলায় আগামী ২৮ ডিসেম্বর জেলা পরিষদ নির্বাচন হতে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে গত ২০ নভেম্বর এ-সংক্রান্ত তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তফসিল অনুযায়ী আগামী ১ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। যাচাই-বাছাই ও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন যথাক্রমে ৩ ও ৪ ডিসেম্বর এবং ১১ ডিসেম্বর। জেলা পরিষদ আইন ২০০০ অনুযায়ী প্রত্যেক জেলায় একজন করে চেয়ারম্যান এবং ১৫ জন সাধারণ ও পাঁচজন সংরক্ষিত মহিলা সদস্য নির্বাচিত হবেন। স্থানীয় সরকারের চার ধরনের প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৬৭ হাজার নির্বাচিত প্রতিনিধি এ নির্বাচনে ভোট দেবেন। স্বাভাবিকভাবেই এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোটার রয়েছেন ইউনিয়ন পরিষদে। কারণ মাঠপর্যায়ে স্থানীয় সরকারের প্রথম ধাপ ইউনিয়ন পরিষদ এবং সেখানেই সবচেয়ে বেশি নির্বাচিত প্রতিনিধি। ইতোমধ্যেই নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে এবং আওয়ামী লীগ তাদের ৬১ জেলার চেয়ারম্যান প্রার্থীর মনোনয়ন সম্পন্ন করেছে।

স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে এই প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জেলা পরিষদের এই নির্বাচন। ১৩০ বছরের পুরোনো স্থানীয় সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ সংস্থাটি নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো পরিচালিত হতে যাচ্ছে এটা অবশ্যই আশা জাগানিয়া এবং আমরা সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। আমরা মনে করি এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নির্বাচিত স্থানীয় সরকার পদ্ধতির পুরো চক্রটি পরিপূর্ণতা পেতে যাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং এর সংস্থাগত অবয়বত্ত পরিপূর্ণতা পেতে যাচ্ছে। জেলা পরিষদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে স্থানীয় সরকারের সবগুলো প্রশাসনিক ইউনিটে সরকার পদ্ধতির যে সাংবিধানিক দায়িত্ব রয়েছে সরকার তার প্রতিও সম্মান প্রদর্শন করছে এবং তার পূর্ণতা দিতে যাচ্ছে। এজন্য সরকার অবশ্যই ধন্যবাদার্হ।

তবে স্থানীয় সরকারের এ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানটির নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ থাকছে না। ইতোমধ্যেই জাতীয় পার্টি ও বিএনপি এ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না বলে জানিয়ে দিয়েছে। এতে সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন হলে তার যে গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হতো তা কিছুটা হলেও ক্ষুণœ হবে। তার পরও মন্দের ভালো যে একটি নির্বাচিত জেলা পরিষদ তৈরি হতে যাচ্ছে। এতকাল যে জেলা পরিষদ একটি স্থবির প্রতিষ্ঠান হিসেবে ছিল তা অবশ্যই গতি পাবে। স্থানীয় উন্নয়নসহ বিভিন্ন কর্মকা-েও গতি আসবে বলে ধারণা করা যায়। যেহেতু বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে একমাত্র আওয়ামী লীগই এতে অংশ নিচ্ছে এবং দলটি ক্ষমতাসীন সেজন্য এ নির্বাচনে তার দায়ও অনেক বেশি বলে আমরা মনে করি। এখানে এ দলের হয়ে যারা মনোনয়ন পেয়েছেন তাদের দায়িত্বও অনেক। একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জেলা পরিষদ গঠিত হবে এবং এ পরিষদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালিত হবে বলে আমরা আশা করি। জেলা পরিষদের নির্বাচন জরুরি ছিল এবং শেষ পর্যন্ত যে তা হতে যাচ্ছে বিষয়টি অবশ্যই উল্লেখ করার মতো।

"