অভিমত

কৃষি ও নারী

মো. রেদোয়ান হোসেন

প্রকাশ : ২৮ নভেম্বর ২০১৬, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক
ADVERTISEMENT

একটি দেশের সামষ্টিক উন্নয়নে নারী ও পুরুষ উভয়ের অবদান অনস্বীকার্য। নারী-পুুরুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলে একটি দেশ উন্নয়নের সর্বোচ্চ শিখরে উন্নীত হয়। বর্তমানে বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ একটি রাষ্ট্র। সময়ের সঙ্গে অন্য খাতের মতো কৃষি খাতেও লেগেছে উন্নতির ছোঁয়া। কৃষির এই উন্নয়নে যে গ্রামীণ নারীর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।

কৃষি পণ্য উৎপাদন থেকে শুরু করে বিপণন পর্যন্ত প্রতি ধাপে পুুরুষের পাশাপাশি নারীকে সমান তালে পরিশ্রম করতে দেখা যায়। ফসলের মাঠে বীজ বপন, জমিতে সার ও কিটনাশক ছিটান, আগাছা দমন, ধান কাটা, মাড়াইয়ের কাজেও পারদর্শী গ্রামীন নারীরা। অনেক সময় পুুরুষের পাশাপাশি জমি চাষেও হাল ধরছেন তারা। ফসল মাড়াইয়ের পর ধান থেকে চাল পাওয়ার প্রক্রিয়ার নারীর অংশগ্রহণ আরও বেশি। এছাড়া বাড়ির ছাদে ও আঙিনায় শাকসবজি চাষ, বাড়ির আশেপাশে ফলের বাগান, পুকুরে মাছ চাষ, হাঁস-মুরগিসহ কবুতর প্রতিপালন, গুরু-ছাগল ও মহিষ পালনসহ চা উৎপাদনে নারী শ্রমিকরা নীরব অবদান রেখে চলেছে।

কৃষিখাতে নারীর ব্যাপক অবদান থাকলেও প্রাপ্তির খাতায় রাষ্ট্রীয়ভাবে তাদের স্বীকৃতি প্রায় শূণ্যের কোঠায়। অথচ সৃষ্টিলগ্ন থেকে আদি পেশা কৃষিতে পুুরুষের পাশাপাশি নারীরা সমান তালে অবদান রেখে আসছে। জীবিকার তাগিদে সংগ্রামরত এসব নারীর অবদানের স্বীকৃতি অদৃশ্যভাবে আলোচনার বাইরে থেকে যাচ্ছে।

কেবল স্বীকৃতি না থাকায় সমান কাজ করেও একজন কিষাণী রাষ্ট্রীয় প্রণোদনা ও অন্য সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিভিন্ন সমীক্ষায় প্রকাশ, গ্রামীণ কৃষিসহ বিভিন্ন শিল্পে নিয়োজিত থেকে গুুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে দেশের ৫৩ শতাংশ নারী। রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি না থাকার ফলে নারীর এই অবদানকে নিছক পারিবারিক ও অবৈতনিক শ্রম হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। গ্রামীণ অর্থনীতিতে নারীর এত অবদান থাকার পরও রাষ্ট্রীয় প্রণোদনার এক কোটি ৩৯ লাখ কৃষিকার্ড থেকে তারা (নারী কৃষকরা) বঞ্চিত। সমাজে নারী-পুুরুষের আয় বৈষম্যও চোখে লাগার মতো । সভ্যতার এই পর্যায় এসেও সমাজের সর্বত্র নারীবান্ধব পরিবেশ প্রতিষ্ঠিত হয়নি। পরিবার, অর্থনীতি কিংবা সমাজ কোথাও নেই নারীর ভূমিকার যথাযথ স্বীকৃতি, মর্যাদা, অধিকার ও আয়ের সমতায় রাষ্ট্রের সর্ব্বোচ্চ পর্যায় নারীর ক্ষমতায়নের পরও কার্যকর পরিবর্তনের দেখা মেলেনি ।

নারীদের কাজের যথাযথ স্বীকৃতি মিললে নারীরা উৎপাদনের প্রতি আরও মনোযোগী হবে। ফলে শুধু উৎপাদন বাড়বে না, সঙ্গে সঙ্গে জিডিপিতে কৃষির অবদানও বাড়বে। অন্যদিকে জাতীয় অর্থনীতির মূল স্রোতধারায় নারীর অবদানের বিষয়টি নারী উন্নয়ন নীতিতে অন্তর্ভূক্ত করলে এটি প্রেষণা যোগাবে। সময় এসেছে, সমাজ-রাষ্ট্র থেকে এসব বৈষম্য দূর করে সর্বস্তরে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কেননা নারীর মূল্যায়ন ব্যতীত সামগ্রিকভাবে আমাদের বিকাশের পথ রুদ্ধ হয়ে যাবে। যার বিরূপ প্রভাবের আওতামুক্ত আমরা কেউ নয়। জাতি হিসাবে আমাদের প্রত্যাশা থাকবে, সরকার কৃষিসহ গ্রামীণ অর্থনীতির নানা ক্ষেত্রে নারীর যে অবদান তার যথাযথ স্বীকৃতি প্রদানে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।

 

লেখক : শিক্ষার্থী, বঙ্গবন্ধু টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ

redowan210@gmail.com

"