দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে মনোযোগ প্রয়োজন

প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০১৬, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক
ADVERTISEMENT

বিদেশে কর্মসংস্থানে বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য একটি বড় সুখবর হচ্ছে সৌদি আরবের শ্রমবাজারের দরজা খুলে যাওয়া। বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য এটাই সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার। এখনো দেশটিতে প্রায় ১৩ লাখ বাংলাদেশি কাজ করে। তারপরও ৬ বছর ধরে নানা কারণে সৌদি আরব বাংলাদেশি শ্রমিক নেওয়া বন্ধ রেখেছিল বিভিন্ন কারণে। সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশিরা সেখানে ভিসার জন্য ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে রাখার পরও সেদেশে তাদের প্রবেশে ছিল বাধা। অবশেষে সৌদি আরবের শ্রম ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় গত বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের ওপর থেকে সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ায় সেই বাধা দূর হলো। ফলে দেশের শ্রমবাজারে যে হতাশা বিরাজ করছিল তা দূর হয়ে এ খাতে সুবাতাস বয়ে যাওয়ার বিরাট সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। সৌদি আরবের বন্ধ শ্রমবাজার খুলে যাওয়ার সুখবরের সঙ্গে আরো একটি সুখবর হচ্ছে, দেশটি শ্রম খাতে বিভিন্ন পেশায় নতুন করে প্রায় পাঁচ লাখ বাংলাদেশি নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বিভিন্ন পেশার মধ্যে রয়েছে অদক্ষ ও আধাদক্ষ শ্রমিক ছাড়াও চিকিৎসক, প্রকৌশলী, নার্স ইত্যাদি। এই সুখবরটির সূত্রপাত কিংবা বলা যায় ভিত্তি রচিত হয় গত জুনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সৌদি আরব সফরের মধ্য দিয়ে। সে সময় সৌদি আরবের বাদশাহ সালমানের সঙ্গে তার ফলপ্রসূ আলোচনায়ই আমাদের জনশক্তি রফতানির বাধা অপসারণের পথ তৈরি হয়। সেই পথ ধরেই এখন আনুষ্ঠানিক ঘোষণাটি এসেছে।

ঘন জনবসতিপূর্ণ বাংলাদেশের রয়েছে বিপুল জনশক্তি। কিন্তু অভ্যন্তরীণ শ্রমবাজার এখনো তেমন প্রসারিত নয় বলে দেশে তাদের কাজের সুযোগ সীমিত এবং এর বড় একটি অংশ বেকার। তাই তাদের নিজেদের প্রয়োজনেই তাদের দৃষ্টি বিদেশের শ্রমবাজারের দিকে। কিন্তু সেই সুযোগ সৃষ্টির মূল নিয়ামক রাষ্ট্র তথা সরকার। সে হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সৌদি সফরের সময় ফলপ্রসূ আলোচনা এবং সে প্রেক্ষিতে বন্ধ সৌদি শ্রমবাজার খুলে যাওয়ার জন্য তিনি অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার। সেই সঙ্গে আমরা মনে করি, বিদেশে থাকা বাংলাদেশের দূতাবাসগুলোর একটি বড় কাজ হবে সেসব দেশের শ্রমবাজারে বাংলাদেশি লোকদের আত্তীকরণ। সে লক্ষ্যে তাদের তৎপরতা আরো বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে আমরা আশা করি।

এক্ষেত্রে স্মরণীয় যে, প্রবাসী আয় এখনো বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান খাতের একটি। এই খাতটিই বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা পালন করে। আর কোনো বিদেশি একক শ্রমবাজার হিসাবে সৌদি আরব থেকেই আসে প্রবাসী আয়ের সিংহভাগ। কিন্তু সেই আয় গত কিছুদিন যাবৎ হ্রাস পাচ্ছিল। এখন সৌদি আরবের শ্রমবাজার খুলে যাওয়ায় সেই আয় বাড়বে এবং দেশের অর্থনীতিতে বাড়তি গতি সঞ্চারিত হবে বলে আশা করা যায়। এক্ষেত্রে আমাদের আরো একটি বিষয় মনে রাখার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করি। আর তা হচ্ছে, সৌদি আরব ছাড়াও বাংলাদেশি শ্রমিকদের প্রধান গন্তব্য ছিল মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশগুলো। একদিকে তেলের মূল্যপতন এবং অন্যদিকে ইরাক, লিবিয়া, সিরিয়াসহ কয়েকটি দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্য সেসব জায়গায় বাংলাদেশি শ্রমিকরা যেতে পারছে না। এছাড়াও বৈশ্বিক মন্দার কারণে ইউরোপীয় দেশগুলোতেও শ্রমিক যাওয়া মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে। আর তারই প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক প্রবাসী আয়ের ওপর। এজন্য দক্ষ শ্রমশক্তি তৈরি করা প্রয়োজন। তাতে বিদেশে আমাদের শ্রমিকদের চাহিদা ও আয় দুই-ই বাড়বে। ফলে দেশের জনসংখ্যা তখন বাড়তি চাপ না হয়ে আশীর্বাদ হিসেবেই গণ্য হবে বলে আমরা মনে করি।

"