চট্টগ্রাম বন্দরে দ্রুত গতি ফিরিয়ে আনতে হবে

প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০১৬, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক
ADVERTISEMENT

দেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের স্নায়ুকেন্দ্র চট্টগ্রাম বন্দরের কাজের গতি ধীর হওয়ায় বাণিজ্য ব্যবস্থায় বড় ধরনের সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে সঙ্কটে পড়েছে গার্মেন্টস পণ্যের আমদানি-রফতানি। গতি হারানোর ব্যাপারে দায়ী করা হচ্ছে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, বন্দরের উন্নয়ন সম্পর্কিত প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা এবং কাজ পেতে নানা ধরনের তদবিরে সময়ক্ষেপণ ইত্যাদিকে। বন্দরের আমদানি-রফতানি কাজ অর্থাৎ পণ্য খালাস ও বোঝাই করার কাজে ধীরগতি হওয়ায় বন্দরে সৃষ্টি হচ্ছে জাহাজ ও কন্টেইনারের জট। ফলে বিলম্বজনিত কারণে ব্যবসায়ীদের দুই ধরনের মাশুল গুনতে হচ্ছে। একদিকে পণ্য সময়মত হাতে না পাওয়ায় তাদের উৎপাদন প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে এবং অন্যদিকে পণ্য সময়মত খালাস করতে না পারায় তাদের বিলম্বজনিত ডেমারেজ বা জরিমানা গুনতে হচ্ছে। এজন্য সবচেয়ে বিপদে পড়েছেন পোশাক শিল্পের সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ীরা। কারণ তাদের সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলতে হয়। পোশাক শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ অবস্থা চলতে থাকলে তারা মুশকিলে পড়বেন। শুধু তাই নয়, একই সঙ্গে দেশের প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী এই ব্যবসাটি যে মারাত্মক সঙ্কটে পড়বে, এমনকি ব্যবসাটি হাতছাড়া হওয়ার পরিস্থিতি সৃষ্টি হবেÑতা বোধগম্য।

সবচেয়ে শঙ্কার কারণ হচ্ছে এই সঙ্কট নিয়ে বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ী ও বন্দর কর্তৃপক্ষ পরস্পরের প্রতি দোষারোপ। কিন্তু সমস্যাটির সমাধানে কেউ এগিয়ে আসছে না। বন্দর ব্যবহারকারীরা বন্দর কর্তৃপক্ষের কাজের শ্লথগতিকে দুষছে। অন্যদিকে বন্দর কর্তৃপক্ষ কাজের গতিশীলতা ধীর হওয়ার জন্য ব্যবসায়ীদের দায়ী করছে। দেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের বিশেষ করে পোশাক শিল্পের প্রায় পুরোটাই অর্থাৎ প্রায় ৯৮ শতাংশের কাজ হয় চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে। ফলে গত প্রায় তিন মাস ধরে চলা এই ধীরগতির জন্য পোশাক শিল্পের ভবিষ্যৎ বিকাশই বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, কন্টেইনার জাহাজকে বহির্নোঙ্গরেই ১২ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। কন্টেইনার ও জাহাজ জটের কারণে আমদানিকারকদের বিশেষ করে গার্মেন্টস শিল্প মালিকদের কাঁচামাল হাতে পেতে দেরি হচ্ছে। ফলে ক্রেতার সঙ্গে চুক্তি মোতাবেক পণ্য সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। একইভাবে খালাসে বিলম্ব হওয়ার কারণে পণ্য বোঝাইয়েও বিলম্ব হচ্ছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে রফতানি বাণিজ্যে। এভাবে বেশিদিন চলতে থাকলে গার্মেন্টস ব্যবসাই হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।

প্রতিদিনের সংবাদের অনুসন্ধানে দেখা যায়, বন্দরের এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও দক্ষ জনবলের অভাব। সেইসঙ্গে বন্দরের কন্টেইনার হ্যান্ডলিং কাজের অর্ধেকটাই নিয়ন্ত্রণ করে একটি বেসরকারি কোম্পানি। তার কাজেও গাফিলতির অভিযোগ আছে। প্রতিবছরই গার্মেন্টস পণ্যের আমদানি-রফতানি বাড়ছে। কিন্তু তা হ্যান্ডলিংয়ের জন্য বন্দরের সুযোগ-সুবিধা বাড়ছে না। এটিও একটি বড় কারণ। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দ্রুত এগিয়ে আসা ছাড়া কোনো উপায় নেই বলেই আমরা মনে করি। জাহাজ ও কন্টেইনার জট এবং তার ফলে সৃষ্ট আমদানি-রফতানি কাজ বিলম্বের মূল কারণ বা সমস্যা খুঁজে বের করে তা সমাধানের কোনো বিকল্প নেই বলেই আমরা মনে করি। সঙ্কটের জন্য পরস্পরের প্রতি দোষারোপ না করে তা সমাধানে একটি সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে দেশের পোশাক শিল্পের পণ্য আমদানি-রফতানি সহজ ও স্বল্প সময়ে করার ব্যবস্থা গ্রহণ সময়ের দাবি।

"