বিনিয়োগে ভাটা ক্ষুদ্র শিল্পে

প্রকাশ : ০১ ডিসেম্বর ২০১৬, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক
ADVERTISEMENT

বড় বিনিয়োগ কমার পর এবার ছোট বিনিয়োগও নিন্মমুখী। গ্রামীণ এলাকার ক্ষুদ্র শিল্প খাতে বিনিয়োগে ভাটা পড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) এ খাতে (নন-ফার্ম রুরাল ক্রেডিট) বিনিয়োগ হয়েছে ৩২৬ কোটি ৯২ লাখ টাকা। যা ৪ দশমিক ২৪ শতাংশ কম। আগের বছরের একই সময়ে বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ৩৪১ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। যা ৪০ দশমিক ৪৫ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে এ খাতে প্রকৃত বিনিয়োগ কমেছে প্রায় ৪৪ দশমিক ৬৯ শতাংশ।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বিদ্যুৎ, গ্যাসসহ অবকাঠামো সুবিধার অভাব ও চলমান পরিস্থিতির প্রভাব পল্লী এলাকায় পড়েছে। বিনিয়োগ কমায় সংকুচিত হয়ে আসছে কর্মসংস্থান।

ব্যাংকাররা জানিয়েছেন, শহরের চেয়ে গ্রামে অবকাঠামোর সুবিধা কম। শহরে যে হারে বিদ্যুৎ বিতরণ করা হয়, গ্রামে ওই হারে বিদ্যুৎ বিতরণ করা হয় না। এমনও এলাকা আছে যেসব এলাকায় দিনে-রাতে ৬ থেকে ৮ ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয় না। এর বাইরে বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগবিমুখী তো রয়েছেই। সব মিলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে বিনিয়োগে ভাটা পড়েছে।

জানতে চাইলে পূবালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল হালিম চৌধুরী বলেন, সবকিছু ঠিক আছে। তবুও বিনিয়োগ হচ্ছে না। বিষয়টি সবাইকে ভাবিয়ে তুলছে।

বিভিন্ন অর্থনৈতিক সূচক দিয়ে তৈরি বাংলাদেশ ব্যাংকের মাসিক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসের মধ্যে গ্রামীণ এলাকার ক্ষুদ্র শিল্পে বিনিয়োগ বেশি কমেছে আগস্ট মাসে। ওই মাসে এ খাতে বিনিয়োগ হয়েছে মাত্র ৭৩ কোটি টাকা, যেখানে আগের বছরের একই সময় ছিল ১৪৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ ওই মাসেই বিনিয়োগ কমেছে প্রায় ৩২ ভাগ। আর সেপ্টেম্বর মাসে কমেছে সাড়ে ৩ ভাগ। সব মিলে আগের বছরের তিন মাসে যেখানে পল্লী এলাকার ক্ষুদ্র শিল্পে বিনিয়োগ হয়েছিল ৩৪১ কোটি টাকার, সেখানে চলতি অর্থবছরে তা কমে নেমেছে ৩২৬ কোটি টাকায়।

পল্লী এলাকার ঋণ বিতরণ ও আদায়ে ব্যাপক প্রভাব সম্পর্কে একটি ব্যাংকের এমডি জানিয়েছেন, পল্লী এলাকায় ক্ষুদ্র শিল্পে বিনিয়োগের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার অন্যতম কারণ হল অবকাঠামো সুবিধা ও উদ্যোক্তার অভাব। অনেকেই নানা পরিস্থিতির কারণে এলাকা ছাড়া হয়ে পড়েছেন। অনেকেই ব্যবসা-বাণিজ্য গুটিয়ে অন্য পেশায় চলে গেছেন। এসব কারণে অনেকেই ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করতে পারেনি, কেউবা ঋণখেলাপি হয়ে পড়েছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে অপর এক ব্যাংকের এমডি জানিয়েছেন, পল্লী এলাকায় ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে ব্যাংকারদের এমনিতেই একটা অনীহা থাকে, এরও পর খেলাপি ঋণের কারণে কোনো কোনো ব্যাংকের পুরোপুরিই ঋণ বিতরণ বন্ধ রাখে। ফলে যে হারে বিনিয়োগ হচ্ছিল, মাঝখানে তার ভাটা পড়ে। আবার পল্লী এলাকায় সবচেয়ে বড় সমস্যা ভালো উদ্যোক্তার অভাব। যাকে ঋণ দেয়া হবে, তার কাছ থেকে ঋণ ফেরত পাওয়ার নিশ্চয়তা না থাকলে পুরো ঋণই ঝুঁকির মুখে পড়ে যাবে। এসব বিবেচনায় পল্লী এলাকায় ঋণ বিতরণে ঋণাত্মক প্রভাব পড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, কেবল ক্ষুদ্র শিল্পেই ঋণপ্রবাহে ভাটা পড়েনি, কৃষি খাতেও ঋণপ্রবাহে ভাটা পড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে আরও দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে কৃষি ঋণের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮ শতাংশ, যেখানে আগের অর্থবছরের একই সময় প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ১৪ দশমিক ১৮ শতাংশ।

পল্লী এলাকায় ঋণ বিতরণ কমে যাওয়ায় কর্মসংস্থানেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে মনে করেন উদ্যোক্তারা। পল্লী এলাকায় সংকুচিত হওয়ায় মানুষ কর্মের সংস্থানে শহরমুখী হচ্ছে। এতে শহরের চাপ বেড়ে যাচ্ছে। তাদের মতে, গ্রামীণ বিনিয়োগ বাড়াতে কর মওকুফসহ সরকারি অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ালে গ্রামমুখী বিনিয়োগ বাড়বে।

"