সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ নিবন্ধনে রেকর্ড

* ১০ মাসে ১৩৮টি প্রকল্পে ৮৬৫ কোটি ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে * নিবন্ধনের এ পরিমাণ ২০১৫ সালের তুলনায় ১৫ গুণ বেশি

প্রকাশ : ৩০ নভেম্বর ২০১৬, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক
ADVERTISEMENT

চলতি বছর রেকর্ড পরিমাণে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) নিবন্ধন হয়েছে। বছরের প্রথম ১০ মাসে শতভাগ বিদেশি এবং দেশি-বিদেশি যৌথ উদ্যোগের ১৩৮টি প্রকল্পে ৮৬৫ কোটি ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে। নিবন্ধনের এ পরিমাণ ২০১৫ সালের পুরো বছরের ১৫ গুণ। গত বছর ১২৯টি প্রকল্পের মাধ্যমে ৫৬ কোটি ২৩ লাখ ডলারের বিনিয়োগ নিবন্ধন হয়। এদিকে চলতি নভেম্বর মাসেও বড় অঙ্কের বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে। মাত্র দুটি প্রকল্পে ২৫১ কোটি ডলারের বিনিয়োগ নিবন্ধন হয়েছে বলে বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) সূত্রে জানা গেছে।

বিডা সূত্র জানিয়েছে, চলতি বছর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বেশ কয়েকটি বড় প্রকল্পে বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে কক্সবাজারের মহেশখালীতে দেশের প্রথম এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্প। এ প্রকল্পে সিঙ্গাপুর ও আমেরিকান কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জি বাংলাদেশ লিমিটেড প্রায় ৫০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ নিবন্ধন করেছে। সিমক্রপ নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার লিমিটেড ৪১৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য ৪১ কোটি ২৫ লাখ ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব করেছে। সিঙ্গাপুর ভিত্তিক কোম্পানি এইচডিএফসি সিনপাওয়ার লিমিটেড প্রায় ২০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করতে চেয়েছে। ওরিয়ন পাওয়ার ইউনিট-২ প্রকল্পে ৮৪ কোটি ২০ লাখ ডলারের বিনিয়োগ নিবন্ধন হয়েছে। সামিট টেকনোলজিস নিয়েছে ২০ কোটি ৭৫ লাখ ডলারের বিনিয়োগ নিবন্ধন। এ ছাড়া নভেম্বরে এস আলম ও চীনা কোম্পানির যৌথ মালিকানার দুটি প্রকল্পে ২৫১ কোটি ২০ লাখ ডলারের বিনিয়োগ নিবন্ধন হয়েছে।

স্থানীয় বিনিয়োগও আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে। চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত এক হাজার ২১৬ প্রকল্পের মাধ্যমে এক হাজার ১১০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ নিবন্ধন হয়েছে। নভেম্বর ও ডিসেম্বরে আরও স্থানীয় বিনিয়োগের নিবন্ধন হবে বলে মনে করছেন বিডার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। ২০১৫ সালে এক হাজার ৪০৮টি প্রকল্পে এক হাজার ১৫৬ কোটি ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব ছিল।

শতভাগ বিদেশি মালিকানার প্রকল্প এবং দেশি ও বিদেশি যৌথ মালিকানার প্রকল্পগুলোকে এফডিআই বা প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ফলে এফডিআইতে যে বিপুল পরিমাণে বিনিয়োগ নিবন্ধন দেখা যাচ্ছে তার একটি অংশ এসেছে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের থেকে। আর শুধু বাংলাদেশি মালিকানার বিনিয়োগ প্রস্তাব স্থানীয় বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হয়।

বিনিয়োগ নিবন্ধন মানেই প্রকৃত বিনিয়োগ নয়। বিনিয়োগ নিবন্ধনের অর্থ হচ্ছে, কোনো শিল্প বা সেবা প্রতিষ্ঠান একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ বিনিয়োগের প্রস্তাব করেছে। বিনিয়োগ প্রস্তাব বাস্তবায়নে ন্যূনতম ছয় মাস থেকে সর্বোচ্চ তিন বছর সময়ও লেগে যায়। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে পরিকল্পনা বাতিলও হতে পারে। এর আগে স্যামসাং বাংলাদেশে নিবন্ধন করেও বিনিয়োগ করেনি। প্রতিষ্ঠানটি জমি না পেয়ে বাংলাদেশ থেকে ফিরে যায়। স্থানীয় অনেক বিনিয়োগ প্রস্তাবও বাস্তবায়ন হয়নি।

বিনিয়োগ নিবন্ধন দেখে সার্বিক বিনিয়োগ পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা যাবে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদ ও উদ্যোক্তারা। বিশ্বব্যাংকের লিড ইকোনমিস্ট জাহিদ হোসেন বলেন, সামগ্রিক বিনিয়োগ পরিবেশে বিশেষ উন্নতি দেখা যায়নি। বিনিয়োগের প্রতিবন্ধকতা জমি ও জ্বালানির অভাব এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার অপর্যাপ্ততার সুরাহা হয়নি। যেসব প্রকল্পের বিনিয়োগ নিবন্ধিত হচ্ছে তার মধ্যে বড় বড় প্রকল্পগুলো সুরক্ষিত খাতের।

"