২০১০ সালের ধসে অর্থনৈতিক ক্ষতি ২ লাখ কোটি টাকা

প্রকাশ : ২৯ নভেম্বর ২০১৬, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক
ADVERTISEMENT

২০১০ সালের শেষদিকে দেশের শেয়ারবাজারের সূচক পৌঁছে স্মরণকালের সর্বোচ্চে। এর অল্প সময়ের মধ্যেই বাজারে বড় ধরনের ধস নামে। শেয়ারাবাজারের ওই ধসে বড় ধরনের ক্ষত তৈরি হয় দেশের অর্থনীতিতে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, অর্থনৈতিক এ ক্ষতের পরিমাণ ২০১২ সালের অক্টোবর সময়ের মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ২২ শতাংশ বা ২৭ বিলিয়ন ডলার। ওই সময়ের মুদ্রা বিনিময় হারের (প্রতি ডলার ৮১ টাকা) হিসাবে বাংলাদেশী মুদ্রায় এর পরিমাণ দাঁড়ায় ২ লাখ কোটি টাকার বেশি।

শেয়ারবাজার সংস্কারে সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের বিষয় তুলে ধরতে ‘ক্যাপিটাল মার্কেট ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশ: এ সেক্টর রিফর্ম পারসপেক্টিভ’ শীর্ষক প্রতিবেদন গত মাসে প্রকাশ করে এডিবি। সংস্থাটির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে অর্থনৈতিক ক্ষতের এ চিত্র উঠে এসেছে। ২০১০ সালের ধসের পর বাজার মূলধন কমে যাওয়া এবং দেউলিয়াত্ব, মানুষের পুঁজি ও কর্ম হারানোর ফলে সৃষ্ট সামাজিক অস্থিতিশীলতার প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে অর্থনৈতিক ক্ষতের হিসাবটি করেছে এডিবি। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১০ সালের ডিসেম্বরে ডিএসইর সূচক সর্বকালের শীর্ষে উন্নীত হয়। ওই বছরের ৫ ডিসেম্বর ডিএসইর ওই সময়ের প্রধান সূচক ডিজিইএন ছিল ৮ হাজার ৯১৮ পয়েন্ট। তিন মাসেরও কম সময়ে ২০১১ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি তা ৫ হাজার ২০৩ পয়েন্টে নেমে আসে। পরবর্তী এক বছরের মধ্যে এ সূচক সর্বনিম্ন ৩ হাজার ৬১৬ পয়েন্টে নামে।

এর কারণ হিসেবে মার্জিন ঋণে শিথিলতা ও অতিরিক্ত নির্ভরতা, মানসম্মত ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং না থাকা এবং আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের দুর্বলতাকে দায়ী করছে এডিবি। ১৯৯৬ সালে শেয়ারবাজারের ধস সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর মীমাংসা না হওয়াকেও এর অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছে সংস্থাটি।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের ক্ষতি সূচক ও ইনডেক্স দেখে করলে তা যথাযথ হয় না। কোনো সিকিউরিটিজের দর কমে যাওয়ার পর কেউ শেয়ার ছেড়ে না দিয়ে পরবর্তী সময়ের জন্য অপেক্ষা করলে ক্ষতির আশঙ্কা কম থাকে। কিছু বিনিয়োগকারীর অতি আগ্রাসী মনোভাবের কারণে বাজারে এ ধরনের ঘটনা ঘটে। তিনি আরো বলেন, ওই সময় শেয়ারবাজারে ধসের পেছনে নিয়ন্ত্রক সংস্থা, কেন্দ্রীয় ব্যাংক, উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান, বিনিয়োগকারীসহ সব পক্ষই দায়ী ছিল। ব্যাংকের অতিরিক্ত শেয়ারের কারণে মূল্যসূচক বাড়লেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক কোনো ভূমিকা রাখেনি। শেয়ারবাজারের উল্লম্ফন চোখের সামনে হলেও নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বিএসইসি বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। অন্যদিকে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা একটি সংঘবদ্ধ চক্রের কবলে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

অর্থনীতিতে দেশের শেয়ারবাজার তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেনি বলে মনে করছে এডিবি। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ধস-পরবর্তী সময়ে (২০১১-১২) ব্যাংকে সঞ্চয়ের পরিমাণ জিডিপির ৮ দশমিক ৩ শতাংশ।

"