সমতলে চা চাষে অন্তরায় ব্রিটিশ নিলাম পদ্ধতি

প্রকাশ : ২৮ নভেম্বর ২০১৬, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক
ADVERTISEMENT

ব্রিটিশ শাসন আমলের নিলাম পদ্ধতিতে চা পাতা বিক্রি সমতলে চা চাষে অন্তরায় সৃষ্টি করেছে। নিলাম পদ্ধতি বাতিলের পক্ষে সমতলের চা চাষীরা। নিজেদের বাগানের চা নিজেরাই প্রসেসিং ও প্রক্রিয়াজাত করে স্থানীয় বাজারে এবং দেশে-বিদেশে বাজারজাতকরণের সুযোগ চায় সমতলের চা বাগান মালিক ও চা প্রসেসিং কারখানাগুলো।

উত্তরের জেলা লালমনিরহাট, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী জেলায় বেশ কয়েকটি চা বাগান রয়েছে। লালমনিরহাট জেলায় চা বাগান রয়েছে প্রায় এক শ’ একর জমিতে। বছরে নয় মাস চা বাগান হতে চা সংগ্রহ করা যায়। ডিসেম্বর, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি এই তিন মাস চা বাগানের গাছ ছাঁটাই করে পরিচর্যা করতে হয়। চা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বছরে সমতলের বাগান হতে প্রতি একরে ৬ হাজার কেজি চা উৎপন্ন হয়। ব্যক্তি মালিকানায় লালমনিরহাটে ১২ একরের একটি বাগান রয়েছে যা সোমা টি এস্টেট নামে পরিচিত। এই চা বাগানের মালিক নিজে চা চাষী। একই সাথে উৎপাদন ও চা প্রসেসিং করে থাকে। তার নিজস্ব চা প্রসেসিং মেশিন রয়েছে। এই মেশিনে প্রতিদিন এক হাজার কেজি চা প্রসেসিং হচ্ছে। কিন্তু প্রসেসিং মেশিনের সক্ষমতা রয়েছে দৈনিক দুই হাজার কেজি চা পাতা প্রসেস করার। সোমা টি এস্টেট ছাড়াও ছোট ছোট ৫-৭টি চা বাগান রয়েছে। লালমনিরহাট সোমা টি এস্টেটের মালিক মো. ফেদৌস আলম জানান, ১২ একর বাগান ও প্রসেসিং মেশিন স্থাপনে তার প্রায় ১৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে হয়েছে। ২০০৩ সালে বাগান স্থাপন করা হয়। বাগান হতে পুরোদমে উৎপাদন শুরু হয় ২০০৭ সালে। ২০১৬ সালের নবেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে তার নিজস্ব বাগান ও চাষীদের বাগান হতে চা সংগ্রহ করে প্রসেসিং করে চট্টগ্রামে চা নিলামে পাঠাই। নিলামে তার ৯ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে। চাষীদের কাছে বাগান হতে ২৪ টাকা দরে প্রতিকেজি কাঁচা চায়ের পাতা কিনে নেয়া হয়। পরে সেই চা পাতা প্রসেস করতে হয়। ৫ কেজি চা পাতা প্রসেস করে এক কেজি চা পাওয়া যায়। এককেজি চা উৎপাদনে সব মিলে খরচ পড়ে ১৭৫ টাকা।

"