অনাদায়ী ঋণের পরও বড় গ্রাহকে আগ্রহী ব্যাংক

প্রকাশ : ২৮ নভেম্বর ২০১৬, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক
ADVERTISEMENT

বিগত কয়েক বছর ধরে ঋণ পুনর্গঠন ও পুনঃতফসিলসহ নানামুখী সুবিধা পেয়েছে বড় ব্যবসায়ীরা। কিন্তু সুবিধা নেওয়া ব্যবসায়ীরা ঋণের টাকা সময় মতো ফেরত দিচ্ছেন না। অথচ যেসব ছোট ব্যবসায়ী পুনর্গঠন ও ঋণ পুনঃতফসিল থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, তারাই ঋণের টাকা পরিশোধে এগিয়ে রয়েছেন। সম্প্রতি বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বি আইবিএম)-এর এক গবেষণায় এমন তথ্য জানা গেছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, পুনঃতফসিল করা বড় অংকের ঋণের মধ্যে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে টাকা আদায় করতে পারেনি ব্যাংক। কিন্তু ছোট অংকের ঋণের আদায় সন্তোষজনক। তবুও ব্যাংকগুলো ক্ষুদ্র ও ছোট গ্রাহকের চেয়ে বড় গ্রাহকের দিকে ঝুঁকছে। এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রত্যেক প্রান্তিকেই অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে খেলাপি ঋণ। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর প্রান্তিক শেষে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ৬৫ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা। তিন মাস আগে অর্থাৎ জুন শেষে ছিল ৬৩ হাজার ৩৬৫ কোটি টাকা। ৬ মাস আগে অর্থাৎ মার্চের শেষে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ ছিল ৫৯ হাজার ৪১১ কোটি টাকা এবং গত বছরের ডিসেম্বর শেষে ছিল ৫১ হাজার ৩৭১ কোটি টাকা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, পুনঃতফসিল করা ঋণের টাকা ফেরত না দেওয়ায় ৯ মাসের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১৪ হাজার ৩৬০ কোটি টাকা।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ছোট উদ্যোক্তাদের বঞ্চিত করে বড় উদ্যোক্তাদের সুযোগ সুবিধা দেওয়ার কারণেই প্রতিমাসে বাড়ছে খেলাপি ঋণ। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘ব্যাংকের টাকা ফেরত না দেওয়ার সংস্কৃতি বড় ব্যবসায়ীদের মধ্যেই বেশি, যদিও বড় ব্যবসায়ীরাও অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন।’ তিনি বলেন, ‘ক্ষুদ্র ও ছোট ব্যবসায়ীরা ব্যাংকের টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য উদগ্রীব থাকেন। ব্যাংকও ছোট ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করে স্বস্তি পায়। কিন্তু প্রভাবশালীরা টাকা ফেরত না দেওয়ার জন্য টালবাহানা করে। এ কারণে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বাড়ে।’

বি আইবিএম’র তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ সালে ব্যাংক খাতে বিতরণ করা (৫০ কোটি টাকার বেশি) ঋণের মধ্যে বড় ঋণ ছিল ১৮ দশমিক ৮০ শতাংশ। ২০১১ সালে তা বেড়ে হয় ২১ দশমিক ৪৩ শতাংশ, ২০১২ সালে হয় ২২ দশমিক ৩৮ শতাংশ। ২০১৩ সালে ২৩ দশমিক ৭৮ শতাংশ। ২০১৪ সালে বড় ঋণের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পেয়ে ৩১ দশমিক ৫৯ শতাংশ হয়।

বি আইবিএম পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, যেভাবে বড় বা বৃহৎ ঋণের পরিমাণ বাড়ছে। একইভাবে বড় ঋণ ফেরত না দেওয়ার প্রবণতাও বাড়ছে। বি আইবিএমের তথ্য অনুযায়ী, বড় বা বৃহৎ ঋণের মধ্যে ২০১০ সালে খেলাপি ঋণ ছিল সাড়ে ৪ শতাংশ, ২০১২ সালে বৃহৎ ঋণের খেলাপি বেড়ে দাঁড়ায় ৫ দশমিক ৪০ শতাংশ। মোট খেলাপি ঋণের মধ্যে ২০১০ সালে বড় খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৩৭ দশমিক ৯৬ শতাংশ। ২০১১ সালে হয় ৩৮ দশমিক ১১ শতাংশ ও ২০১২ সালে ৪০ দশমিক ৪১ শতাংশ। ২০১৩ সালে বৃহৎ খেলাপি আরও বৃদ্ধি পেয়ে হয় ৪২ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ ও ২০১৪ সালে সেটি ৪৩ দশমিক ৮২ শতাংশ হয়েছে।

"