পুনর্বিনিয়োগ বেশি নতুন বিনিয়োগ কম

প্রকাশ : ২৭ নভেম্বর ২০১৬, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক
ADVERTISEMENT

বাংলাদেশে আসা সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগের (এফডিআই) মধ্যে নতুন বিনিয়োগ কম। বেশি বরং পুনর্বিনিয়োগ। দেশে এফডিআইকে মূলধন, পুনর্বিনিয়োগ ও আন্তকোম্পানি ঋণ এই তিন আকারে দেখানো হয়। ২০১৫ সালে বাংলাদেশে ২২৩ কোটি ৬০ লাখ ডলারের এফডিআই এসেছে। এর মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি অর্থাৎ ১১৪ কোটি ৪৭ লাখ ডলার এসেছে পুনর্বিনিয়োগ হিসেবে। এ বছরের মোট এফডিআইয়ের মধ্যে মূলধন বিনিয়োগ মাত্র ৬৯ কোটি ৬৬ লাখ ডলার। বাকি ৩৯ কোটি ডলার হচ্ছে ঋণ।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ৯ নভেম্বর অনুষ্ঠিত নবগঠিত বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) পরিচালনা পর্ষদের প্রথম বৈঠকে এ চিত্র তুলে ধরা হয়। বৈঠকে এ ছাড়া ২০০৯ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত খাতভিত্তিক এফডিআইসহ দেশি-বিদেশি কোম্পানির বিনিয়োগ নিবন্ধন প্রবণতা, আমদানি নিবন্ধন সনদ (আইআরসি), মূলধনি যন্ত্রপাতির আমদানি অনুমোদন, বিদেশিদের কাজ করার অনুমতি (ওয়ার্ক পারমিট) এবং ভিসা দেওয়ার পরিসংখ্যানও তুলে ধরা হয়।

বিডা পর্ষদের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সদস্যসচিব বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী মো. আমিনুল ইসলাম। বিনিয়োগ বোর্ড ও বেসরকারীকরণ কমিশন একীভূত হয়ে গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন যাত্রা শুরু করে বিডা। সংস্থাটির পর্ষদ গঠন করা হয় বিলুপ্ত বিনিয়োগ বোর্ডের আদলে। এ পর্ষদের আগের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১০ সালে। এফডিআইয়ে নতুন মূলধন ও পুনর্বিনিয়োগ বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এ বি মির্জ্জা মো. আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘পুনর্বিনিয়োগ হতেই পারে। মুনাফা যা বাইরে চলে যেত, তা বিনিয়োগ হিসেবে থেকে যাচ্ছে। আসলে আমাদের বেশি দরকার হচ্ছে নতুন মূলধন। কিন্তু সেটা বেশি দেখা যাচ্ছে না।’

গত জুনে প্রকাশিত জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা (আঙ্কটাড) বিশ্ব বিনিয়োগ প্রতিবেদন অনুযায়ী দক্ষিণ এশিয়ায় ২০১৫ সালে এফডিআইয়ের দিক থেকে ভারতের পরই বাংলাদেশের অবস্থান। এ বছর ভারতের এফডিআই ৪ হাজার ৪২০ কোটি ডলার। এ ছাড়া পাকিস্তানের এফডিআই ৮৬ কোটি ৫০ ডলার ও শ্রীলঙ্কার ৬৮ কোটি ১০ লাখ ডলার। বিডার পর্ষদ বৈঠকে উপস্থাপিত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি খাতে হঠাৎ এফডিআই বেড়ে গেছে।

 

 

"