৬ শতাংশ সুদে এক বছরের কম মেয়াদি বিদেশি ঋণ বাড়ছে

প্রকাশ : ২৬ নভেম্বর ২০১৬, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক
ADVERTISEMENT

বেসরকারি খাতে সাম্প্রতিক সময়ে ঋণ বাড়ছে। সবচেয়ে বেশি বাড়ছে বায়ার্স ক্রেডিট নামে পরিচিত স্বল্পমেয়াদি বিদেশি ঋণ। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাবে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্বল্পমেয়াদি এ ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫১৭ কোটি ডলার। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এর পরিমাণ ১৫৪ কোটি ডলার বা ৪৪ শতাংশ বেশি। এ সময়ে অভ্যন্তরীণ উৎসে বেসরকারি ঋণ বেড়েছে ১৫ দশমিক ৩৪ শতাংশ। নতুন বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণে অর্থায়নের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় ঋণ বাড়ছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

শুধু রফতানিমুখী শিল্পে ব্যবহৃত কাঁচামাল ও মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানির জন্য বায়ার্স ক্রেডিট নিতে পারেন উদ্যোক্তারা। সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ সুদে এক বছরের কম মেয়াদে এ ঋণ নেওয়া যায়। বর্তমানে অভ্যন্তরীণ অন্যান্য উৎসের সুদহার ১০ শতাংশের ওপরে। অবশ্য কম সুদের বিদেশি ঋণ নিয়ে ভিন্ন খাতে ব্যবহারের বেশ কিছু তথ্য পেয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এরপর বিদেশি ঋণে কিছুটা কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। বিশেষ করে অফশোর ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বিতরণ করা ঋণে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এতে জুলাই-সেপ্টেম্বরে অফশোর ব্যাংকিংয়ের ঋণ মাত্র ৪০৮ কোটি টাকা বেড়ে ৩৮ হাজার ৭৯৫ কোটি টাকা হয়েছে। অথচ আগের তিন মাসে বেড়েছিল চার হাজার ৭৭৬ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. বিরূপাক্ষ পাল বলেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকায় বিনিয়োগ বাড়ছে। মূলধনি যন্ত্রপাতি ও শিল্পে ব্যবহৃত কাঁচামাল আমদানি বৃদ্ধি এর অন্যতম প্রমাণ। বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাওয়ায় অভ্যন্তরীণ উৎসের পাশপাশি বিদেশ থেকে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদে ঋণ নিচ্ছেন এখানকার উদ্যোক্তারা। অর্থনীতির জন্য এ ধারাকে ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেন তিনি।

পূবালী ব্যাংকের এমডি এমএ হালিম চৌধুরী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে মূলধনী যন্ত্রপাতির আমদানি বাড়ছে। এগুলোর অধিকাংশই আসছে তুলনামূলক কম সুদের বায়ার্স ক্রেডিট নিয়ে। তবে সব ক্ষেত্রে এগুলো নতুন কারখানার কাজে লাগানো হচ্ছে তেমন নয়। অনেক উদ্যোক্তা বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ী অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি এনে আগেরগুলো বদলাচ্ছেন।

এনসিসি ব্যাংকের এমডি গোলাম হাফিজ আহমেদ এ ধরনের ঋণবৃদ্ধির বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন। তিনি বলেন, বৈশ্বিক চাহিদা কম থাকায় ইউপাস এলসির বিপরীতে উদ্যোক্তারা কম সুদে বিদেশি ঋণ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এতে দেশীয় ব্যাংকগুলোর ওপর এক ধরনের চাপ তৈরি হওয়ায় অভ্যন্তরীণ সুদহার অনেক কমেছে। আগে অভ্যন্তরীণ সুদহার ১৫-১৬ শতাংশ থাকলেও এখন এক অঙ্ক সুদে ঋণ পাচ্ছেন উদ্যোক্তারা। অবশ্য ডলারের দাম বাড়লে উদ্যোক্তারা সুদহারের যে সুবিধা পেয়েছেন, পরিশোধের সময় ডলার কিনতে গিয়ে তাতে কিছুটা বেকায়দায় পড়তে পারেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে জাহাজ ভাড়া বাদ দিয়ে মোট এক হাজার ২৭ কোটি ডলার সমমূল্যের বিভিন্ন পণ্য আমদানি হয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় যা ১৭ দশমিক ২৭ শতাংশ বেশি।

রাজনৈতিক অস্থিরতাসহ বিভিন্ন কারণে দীর্ঘ সময় ধরে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারা একটি সময় বিনিয়োগে তেমন আগ্রহ দেখাচ্ছিলেন না। ফলে বড় একটি সময়জুড়ে বেসরকারি খাতের ঋণ বাড়ছিল খুব ধীরগতিতে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে অভ্যন্তরীণ উৎসেও ঋণ বাড়ছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বেসরকারি খাতের ঋণ ১৫ দশমিক ৩৪ শতাংশ বেড়ে ৬ লাখ ৮০ হাজার ১৩৭ কোটি টাকা হয়েছে। আগের প্রান্তিক তথা গত জুন শেষে প্রবৃদ্ধি ছিল ১৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ। ওই প্রবৃদ্ধি ছিল সাম্প্রতিক কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

 

 

"