পাটশিল্পে আরো রাজস্ব ছাড়

প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০১৬, ০০:০০

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক
ADVERTISEMENT

পাটজাত দ্রব্য উৎপাদনকারী শিল্পপ্রতিষ্ঠানে করপোরেট করের ক্ষেত্রে আগেই বিশেষ সুবিধা দিয়েছে সরকার। তালিকাবর্হিভূত অন্য প্রতিষ্ঠান ৩৫-৪৫ শতাংশ আয়কর দিতে হলেও পাটজাত শিল্পে এ কর হার ১৫ শতাংশ। তবে পাটশিল্পের ভঙ্গুর অবস্থা বিবেচনা করে এ করহার আরো কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। আগামী চার বছর শিল্পের অর্জিত আয়ে কম্পানির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অন্য করদাতাও এ সুবিধা পাবে।

সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ ছাড় দেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪-এর ৪৪ নম্বর অধ্যায়ের সাব-সেকশন ৪-এর (বি) দফার ক্ষমতাবলে পাটজাত দ্রব্য উৎপাদনের নিয়োজিত কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অর্জিত আয়ের ওপর আয়কর কমিয়ে ১০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছর থেকে ২০১৯-২০ অর্থবছর পর্যন্ত কম্পানির পাশাপাশি এ খাতসংশ্লিষ্ট অন্য করদাতারাও এ সুবিধা পাবে।

এনবিআর সূত্র জানায়, আয়কর আইন অনুযায়ী, কম্পানিকে তাদের মোট আয়ের ওপর খাত হিসেবে ২৫-৪৫ শতাংশ পর্যন্ত আয়কর দিতে হয়। দেশীয় শিল্প রক্ষা ও পাটশিল্পকে পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে আগে থেকেই এ শিল্পের ওপর ১৫ শতাংশ আয়কর নির্ধারণ করা হয়। প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রতিবছর তিনটি ধাপে এ আয়কর নিত এনবিআর। এর মধ্যে করদাতার মোট আয় ১০ লাখ টাকা হলে মোট আয়ের ১৫ শতাংশ, ১০ লাখের বেশি বা ৩০ লাখের কম হলে অতিরিক্ত আয়ে ১২ শতাংশ পর্যন্ত আয়কর দিতে হতো। আর মোট আয় ৩০ লাখের বেশি হলে প্রথম ১০ লাখে ১৫ শতাংশ, পরের ২০ লাখে ১২ শতাংশ ও পরবর্তী আয়ের ওপর ১০ শতাংশ আয়কর দিতে হতো। বর্তমান আইন অনুযায়ী, খাতসংশ্লিষ্ট করদাতাকে পাটশিল্প থেকে প্রাপ্ত যেকোনো পরিমাণ আয়ে ১০ শতাংশ কর দিতে হবে।

এনবিআরের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, বিশেষ বিবেচনায় বহু আগে থেকে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে পাটশিল্পের ওপর ১৫ শতাংশ আয়কর নেওয়া হতো। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বিবেচনায় এখন তা আরো কমানো হলো। এতে এনবিআরের রাজস্ব খুব বেশি কমবে না। তবে এ শিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উৎসাহিত হবেন।

এ বিষয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান বলেন, ‘পাটশিল্পকে এগিয়ে নিতে বিভিন্ন সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। আশা করি, এতে পাট খাত আরো এগিয়ে যাবে।’

"