অর্থবছরের শুরুতে রফতানি কমেছে

প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০১৬, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক
ADVERTISEMENT

প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের পাশাপাশি রপ্তানি আয়েও বড় ধরনের ‘ধাক্কা’ নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন অর্থবছর। চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ ২৫৩ কোটি ৪৩ লাখ ডলার আয় করেছে। এই অংক গত বছরের জুলাই মাসের চেয়ে ৩ দশমিক ৫ এবং নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২৫ শতাংশ কম। তবে অর্থনীতিবিদ ও রপ্তানিকারকরা অর্থবছরের এক মাসের তথ্যে উদ্বিগ্ন হওয়ার তেমন কিছু দেখছেন না।

গুলশান ও শোলাকিয়ার মতো জঙ্গি হামলা আর না ঘটলে এবং দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অব্যাহত থাকলে আগামী মাসগুলোতে রপ্তানি আয় বাড়বে বলে আশা করছেন তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএর সহ-সভাপতি নাসির উদ্দিন। তিনি বলছেন, জুলাই মাসে পোশাক খাতের রপ্তানি আয়ের যে তথ্য এসেছে, তার অর্ডার ছিল দুই তিন মাস আগের। সুতরাং ১ জুলাই গুলশান এবং ৭ জুলাই শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলার ঘটনা অর্থবছরের প্রথম মাসের রপ্তানি কমার পেছনে ভূমিকা রাখেনি।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষক জায়েদ বখত বলেছেন. ‘এখন সম্ভবত ইউরোপ ও আমেরিকায় তৈরি পোশাকের ডাল সিজন চলছে। সে কারণে রপ্তানিতে একটু ধীর গতি।’ আগামী মাসগুলোতে এই আয় বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বিভিন্ন দেশে পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ তিন হাজার ৪২৫ কোটি ৭২ লাখ (৩৪.২৫ বিলিয়ন) ডলার আয় করে, যা ছিল আগের অর্থবছরে চেয়ে প্রায় ১০ শতাংশ বেশি। শেষ মাস জুনে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ১৭ শতাংশের মতো। গত অর্থবছরের ধারাবাহিকতায় চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্য ধরা হয় ৩৭ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে জুলাই মাসের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৩৭ কোটি ৬০ লাখ ডলার।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) বৃহস্পতিবার হালনাগাদ যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যায়, জুলাই মাসে মোট রপ্তানি আয়ের মধ্যে ২১১ কোটি ৭৫ লাখ ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৮২ শতাংশ এসেছে তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে।

উভেন পোশাক রপ্তানি থেকে এ মাসে বাংলাদেশ আয় করেছে ১০৭ কোটি ৭২ লাখ ডলার, যা গত বছরের জুলাই মাসের চেয়ে ৪ দশমিক ৪১ শতাংশ এবং লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ১৭ শতাংশ কম। নিট পোশাক থেকে এসেছে ১০৪ কোটি ডলার। এই পরিমাণ গত বছরের জুলাইয়ের চেয়ে ৪ দশমিক ৪৫ শতাংশ এবং লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ৩০ শতাংশ কম। জুলাই মাসে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৯ কোটি ২৫ লাখ ডলার, যা গত বছরের জুলাইয়ের চেয়ে ২ দশমিক ২৬ শতাংশ কম। হিমায়িত খাদ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার। এই অর্থ আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ কম।

জুলাই মাসে পাট ও পাটজাত পণ্য থেকে ৭ কোটি ডলার, হোম টেক্সটাইলে ৪ কোটি ডলার, কৃষিজাত পণ্যে ৪ কোটি ২ লাখ ডলার আয় হয়েছে। আর ৫৮ লাখ ৪০ হাজার ডলার এসেছে ওষুধ রপ্তানি থেকে। ইপিবির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, এ বছর জুলাইয়ে প্রায় সব পণ্যেই আয় কমেছে গত বছরের তুলনায়। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত প্রবাসীরা ১ হাজার ৪৯২ কোটি ৬২ লাখ (১৪.৯২ বিলিয়ন) ডলারের রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ২ দশমিক ৫৫ শতাংশ কম। আর নতুন অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় রেমিটেন্স কমেছে ২৭ দশমিক ৬৪ শতাংশ।

"