লেনদেন ভারসাম্যে ৩.৭ বিলিয়ন ডলার উদ্বৃত্ত

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য

প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০১৬, ০০:০০

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক
ADVERTISEMENT

বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাব ভারসাম্যে (ব্যালেন্স অব পেমেন্ট) বড় উদ্বৃত্ত ধরে রেখে গত অর্থবছর শেষ করেছে বাংলাদেশ। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বৃহস্পতিবার লেনদেন ভারসাম্যের হালনাগাদ যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যায় ৩০ জুন শেষ হওয়া ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৩৭০ কোটি ৬০ লাখ (৩.৭ বিলিয়ন) ডলারের উদ্বৃত্ত ছিল বাংলাদেশের। এই উদ্বৃত্ত গত ছয় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে ২০০৯-১০ অর্থবছরে ৩৭২ কোটি ৪০ লাখ ডলারের উদ্বৃত্তি নিয়ে অর্থবছর শেষ হয়েছিল বাংলাদেশের।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম পড়তে থাকায় এবং খাদ্যপণ্যের আমদানি ব্যয় কমতে থাকায় ঘাটতি বাণিজ্যের বাংলাদেশে বড় উদ্বৃত্তের দেখা মিলছে বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেন, “বাণিজ্য ভারসাম্য ও প্রাথমিক আয়ের হিসাবে ঘাটতি থাকলেও ‘সেকেন্ডারি আয়ের’ হিসাবে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে উদ্বৃত্ত থাকায় চলতি হিসাবেও উদ্বৃত্ত থাকছে। অন্যদিকে মূলধন ও আর্থিক হিসাবে উদ্বৃত্ত থাকায় সামগ্রিক লেনদেন ভারসাম্যও অনুকূলে রয়েছে।” এর ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকের হাতে থাকা বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন (রিজার্ভ) বেড়ে ৩০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে বলে সন্তোষ প্রকাশ করেন মুহিত। ২০১৫ সালের জুলাই থেকে ২০১৬ সালের জুন পর্যন্ত বিভিন্ন পণ্য আমদানির জন্য মোট চার হাজার ৩৩৩ কোটি ৫৩ লাখ ডলারের এলসি (ঋণপত্র) খোলা হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে শূন্যা দশমিক ৬২ শতাংশ বেশি।

জ্বালানি তেল আমদানির জন্য গত অর্থবছর ২১৯ কোটি ৭৭ লাখ ডলারের এলসি খোলা হয়েছে; যা আগের বছরের চেয়ে ৩৫ শতাংশ কম। ২০১৪-১৫ অর্থবছরের তেল আমদানিতে ৩৪৬ কোটি ২৪ লাখ ডলারের এলসি খুলতে হয়েছিল।

গত অর্থবছরে খাদ্যপণ্য (চাল ও গম) আমদানির এলসি খোলা হয়েছে ১০৮ কোটি ৭২ লাখ ডলারের, যা আগের বছরের চেয়ে ৩৭ দশমিক ৪০ শতাংশ কম। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল ১৭৩ কোটি ৭০ লাখ ডলার।

শিল্প স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় মূলধনী যন্ত্রপাতি (ক্যাপিটাল মেশিনারিজ) আমদানিতে গত অর্থবছর ৪৮০ কোটি ২০ লাখ ডলারের এলসি খোলা হয়েছে, যা ২০১৪-১৫ অর্থবছরের চেয়ে ১০ দশমিক ২৭ শতাংশ বেশি।

শিল্পের কাঁচামাল আমদানির এলসি খোলা হয়েছে ১৬৮ কোটি ২৮ লাখ ডলারের, প্রবৃদ্ধির পরিমাণ ৪ দশমিক ২৩ শতাংশ।

২০১৫-১৬ অর্থবছরে পণ্য রপ্তানি থেকে বাংলাদেশ সব মিলিয়ে ৩৪ দশমিক ২৪ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ৯ দশমিক ৭২ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছর বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত প্রায় এক কোটি প্রবাসী ১৪ দশমিক ৯৩ বিলিয়ন ডলার রেমিটেন্স দেশে পাঠিয়েছেন। এই অংক আগের বছরের চেয়ে ২ দশমিক ৫২ শতাংশ কম। নিয়মিত আমদানি-রপ্তানিসহ অন্যান্য আয়-ব্যয় চলতি হিসাবের অন্তর্ভুক্ত। এই হিসাবে উদ্বৃত্ত থাকার অর্থ হল, নিয়মিত লেনদেনে দেশকে কোনো ঋণ করতে হচ্ছে না। আর ঘাটতি থাকলে সরকারকে ঋণ নিয়ে তা পূরণ করতে হয়।

রিজার্ভ ৩০.৩৫ বিলিয়ন ডলার : বৃহস্পতিবার দিন শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩০ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলার। গত ২৭ জুন বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো রিজার্ভ ৩০ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করে। কিন্তু এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) আমদানি বিল পরিশোধের পর তা কমে যায়। সম্প্রতি তা আবার ৩০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।

"