ইরান চুক্তি নিয়ে ট্রাম্পকে সিআইএ প্রধানের হুঁশিয়ারি

প্রকাশ : ০১ ডিসেম্বর ২০১৬, ০০:০০

বিদেশ ডেস্ক
ADVERTISEMENT

ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি বাতিল করলে তা ‘বিপর্যয়কর ও বোকামি’ হবে বলে নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হুঁশিয়ার করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) প্রধান। বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সিআইএ প্রধান জন ব্রেনান ট্রাম্পকে হুঁশিয়ার করে পরামর্শ দিয়েছেন, রাশিয়ার প্রতিশ্রুতগুলো নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ রয়েছে। সিরিয়ায় রাশিয়ার কারণে অনেক ভোগান্তি হচ্ছে।

চার বছর সিআইএ-এর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে বিদায় নেবেন ব্রেনান।

নির্বাচনী প্রচারের সময় ট্রাম্প বলেছিলেন, প্রেসিডেন্ট হলে ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি বাতিল করবেন। রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্টভাবে কাজ করার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তিনি। সিআইএয়ের প্রধান হিসেবে এই প্রথমবার ব্রিটিশ গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ব্রেনান এমন কিছু এলাকা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রশাসনকে বুদ্ধিমত্তা ও নিয়মতান্ত্রিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে বলে মনে তিনি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- সন্ত্রাসীদের সম্পর্কে কী ভাষা ব্যবহার করা হচ্ছে, রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক, ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি এবং সিআইএ-এর কাজ করার নিজস্ব সক্ষমতা। হ্যাকিং ও তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে রাশিয়ার প্রভাব বিস্তারের চেষ্টার পরিপ্রেক্ষিতে ব্রেনান বলেছেন, রাশিয়া এসব করতে চেয়েছিল। তিনি রাশিয়ার গোয়েন্দাদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন এবং তাদের সতর্ক করেছিলেন, এ ধরনের কাজের জবাব দেবে যুক্তরাষ্ট্র। রাশিয়ার কর্মকা-ের জবাব দেওয়ার প্রয়োজনবোধ করেনি তারা, তবে এটি সহজে বোঝা যায়, রাশিয়া যা করেছিল, তা অগ্রহণযোগ্য।

সিরিয়ায় বেসামরিক মানুষ হত্যার জন্য দেশটির সরকার ও রাশিয়াকে দায়ী করেছেন ব্রেনান। সিরিয়ার মধ্যপন্থি বিদ্রোহীদের সাহায্য করছে যুক্তরাষ্ট্র, যা অব্যাহত থাকা উচিত বলে মনে করেন তিনি। কারণ সিরিয়া, ইরান, হিজবুল্লাহ ও রাশিয়া সেখানে হত্যার অভিযানে রয়েছে। সিরিয়া নিয়ে রাশিয়া আলোচনা চালিয়ে গেলেও কৌশলে তারা তাদের কার্যসিদ্ধি করে যাচ্ছে। তাদের লক্ষ্য অজর্ন না হওয়া পর্যন্ত রাশিয়া কোনো চুক্তিতে আসবে না। এ ছাড়া সন্ত্রাসবাদবিরোধী যুদ্ধ, অশান্ত মুসলিম বিশ্ব এবং যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলা ও সিআইএ-এর হাতে আটকদের বিষয়ে কথা বলেছেন ব্রেনান। তার পরামর্শ, এসব বিষয়ে বর্তমান সরকারের নীতির আলোকে চলতে পারেন ট্রাম্প।

"