ওহাইও বিশ্ববিদ্যালয় হামলায় জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার আশঙ্কা

প্রকাশ : ৩০ নভেম্বর ২০১৬, ০০:০০

বিদেশ ডেস্ক
ADVERTISEMENT

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটিতে হামলায় জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় পুলিশ কর্তৃপক্ষ। সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে কলম্বাস পুলিশ প্রধান কিম জ্যাকবস ওই আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন।

ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটির কলম্বাসে অবস্থিত কেন্দ্রীয় ক্যাম্পাসের ওয়াটস হল ভবনের কাছে সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৫২ মিনিটে সজোরে একটি গাড়ি সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের দিকে ছুটে আসে। পরে গাড়িটির চালক ছুরি দিকে লোকজনের দিকে তেড়ে আসেন। সেখানে দায়িত্ব পালনরত এক পুলিশ কর্মকর্তার গুলিতে হামলাকারী নিহত হন।

পুলিশ জানিয়েছে, হামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারি, শিক্ষার্থীসহ ১১ জন আহত হয়েছেন। তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে তাদের মধ্যে কারও অবস্থা আশঙ্কাজনক নয় বলে জানানো হয়। কলম্বাস পুলিশ প্রধান কিম জ্যাকবস সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, এই হামলাটিকে তিনি জঙ্গি তৎপরতা বলেই সন্দেহ করছেন। তিনি বলেন, ‘যেভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের হেঁটে চলার রাস্তায় সজোরে গাড়ি চালিয়ে ওই আহতদের ওপর হামলা করা হয়েছে, তাতে বোঝা যায়, এটি পরিকল্পিত হামলা। আমার ধারণা, এটি জঙ্গি হামলা হতে পারে। আমরা জঙ্গি হামলার বিষয়টি এড়িয়ে যেতে পারি না।’

তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা হামলার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে। এর সঙ্গে কোনও জঙ্গি তৎপরতার সংযোগ রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশের সঙ্গে যোগ দিয়েছে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন।এদিকে, হামলাকারী ব্যক্তির পরিচয় পাওয়া গেছে। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত ওই হামলাকারী ১৮ বছরের এক সোমালি বংশোদ্ভূত তরুণ, যিনি ওই ক্যাম্পাসেরই শিক্ষার্থী ছিলেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজ পুলিশের বরাত দিয়ে জানায়, সোমালিয়ায় জন্মগ্রহণকারী আবদুল রাজ্জাক আলী আর্তান নামের ওই হামলাকারী তার পরিবারের সঙ্গে ২০০৭ সালে সোমালিয়া থেকে চলে আসে। গত দুই বছর ধরে পরিবারটি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছে। এর আগে তারা পাকিস্তানে বসবাস করছিলেন।

 

 

বলেও কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। মার্কিন বার্তাসংস্থা এপি-কে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আর্তান যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ স্থায়ী অধিবাসী।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আর্তানকে গুলি করা পুলিশ কর্মকর্তার নাম অ্যালান হরুজকো। ২৮ বছর বয়সী এই কর্মকর্তা ২০১৫ সাল থেকে ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটিতেই দায়িত্ব পালন করছেন। ক্যাম্পাস পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি দেখে তারা নিশ্চিত হয়েছে, হামলাকারী একাই গাড়ি চালিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেছে এবং তার কোনও সহযোগী ছিল না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জ্যাকব বোয়ার জানিয়েছেন, তিনি হামলাকারী আর্তানকে কোফল্ট ল্যাবরেটরি এবং ওয়াটস হলের মাঝামাঝি দেখেছিলেন। ২০ বছর বয়সী ওই প্রত্যক্ষদর্শী মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-কে জানান, ‘সে বড় একটা ছুরি দিয়ে লোকজনের ওপর হামলা করতে চাইছিল। কিন্তু সেখানে অনেক মানুষ থাকায় নির্দিষ্ট কাউকে আঘাত করতে পারেনি। লোকজন সেখান থেকে সরে যাওয়ার পর এক পুলিশ কর্মকর্তা তাকে নিরস্ত করতে গুলি চালায়। ওই হামলাকারীকে মারতে তিনটি গুলি করা হয়।’

ওই গুলির শব্দের পরপরই শিক্ষার্থীদের সতর্ক করতে এক টুইটার বার্তায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ লিখেছে, ‘দৌড়াও, লুকিয়ে থাকো, লড়াই করো।’ হামলার পর কলম্বাস পুলিশ একটি সোয়াত (এসডব্লিউএটি) দল, ডগ স্কোয়াড, মধ্যস্থতাকারী এবং একটি হেলিকপ্টার পাঠায়। বিশ্ববিদ্যালয়টির বিভিন্ন স্থানে পুলিশ কয়েক ঘণ্টা ধরে তল্লাশি চালিয়েছে। পরে তল্লাশি অভিযানে সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ সোমবার পর্যন্ত তাদের সকল কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করেছে।

ওহাইওর গভর্নর জন কাশিচ এক টুইট বার্তায় জানিয়েছেন, ওই গোলাগুলির ঘটনায় তিনি মর্মাহত এবং স্থানীয়দের নিরাপদ স্থানে থাকতে ও পুলিশ কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটির কেন্দ্রীয় ক্যাম্পাস অঙ্গরাজ্যটির রাজধানী কলম্বাসে অবস্থিত। পুরো ওহাইও জুড়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির বিভিন্ন ক্যাম্পাসে মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৬৫ হাজারেরও বেশি। সূত্র: বিবিসি, সিএনএন, এনবিসি

"