পাকিস্তানের সেনানীতিতে পরিবর্তন আসছে না

প্রকাশ : ২৯ নভেম্বর ২০১৬, ০০:০০

বিদেশ ডেস্ক
ADVERTISEMENT

পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর নীতিতে আপাতত নতুন সেনাপ্রধানের পরিবর্তন আনার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। দেশটির এক টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে খাজা আসিফ এ মন্তব্য করেছেন বলে সোমবার (২৮ নভেম্বর) স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়।

তিনি এমন সময় এই মন্তব্য করলেন, যখন মঙ্গলবার (২৯ নভেম্বর) নতুন সেনাপ্রধানের দায়িত্বগ্রহণ করতে যাচ্ছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল কামার জাবেদ বাজওয়া। বিদায়ী সেনাপ্রধান রাহিল শরিফের উদাহরণ টেনে খাজা আসিফ বলেন, সেনাবাহিনীর নীতি আগের মতই অব্যাহত থাকবে, আপাতত এতে হস্তক্ষেপ করার সুযোগ নেই।

এরআগে শনিবার (৬ নভেম্বর) পাকিস্তনি প্রধানমন্ত্রীর এক আদেশে সেনাবাহিনীর প্রধান (চিফ অব আর্মি স্টাফ-সিওএএস) পদে লেফটেন্যান্ট জেনারেল কামার জাবেদ বাজওয়াকে এবং চেয়ারম্যান জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ কমিটি (সিজেসিএসসি) পদে লেফটেন্যান্ট জেনারেল জুবায়ের হায়াতকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ নিয়োগের মাধ্যমে দু’জনেই চার-তারকা জেনারেল র‌্যাংকে পদোন্নতি পান।

বাজওয়া পাকিস্তানের সেনাপ্রধান হওয়ার নেপথ্য কারণ : রাহেল শরিফের পর পাকিস্তানের সেনাপ্রধান হওয়ার দৌড়ে ছিলেন আরো দুজন। কিন্তু কয়েকটি কারণে পাক সেনাপ্রধান হিসেবে নিয়োগ পেলেন জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়া। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম বাজওয়ার সেনাপ্রধানের দায়িত্ব পাওয়ার পেছনে সামরিক দক্ষতার পাশাপাশি তাঁর কূটনৈতিক সামর্থ্যকেও বড় করে দেখিয়েছে। নওয়াজ শরিফ এই অতি গুরুত্বপূর্ণ পদটিতে এমন একজনকে চাইছিলেন যিনি সামরিক দক্ষতার পাশাপাশি ইসলামিক দেশটিতে গণতন্ত্রের সমর্থক এবং এটি সুসংহত করতে ভূমিকা রাখবেন।

জেনারেল বাজওয়াকে রসিক, বুদ্ধিমান, সহজবোধ্য এবং সেনাদের সঙ্গে ভালো যোগাযোগ রক্ষা করতে সক্ষম বলে মন্তব্য করেছে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমগুলো। এ ছাড়া তিনি প্রচারের আলোয় আসতে পছন্দ করেন না বলেও জানা গেছে।

জেনারেল বাজওয়ার এই গণতন্ত্রপন্থী পরিচয়ই নওয়াজ শরিফকে তাঁর বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিতে উদ্বুদ্ধ করেছে বলে মন্তব্য ডন অনলাইনের। আগামী মঙ্গলবার দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনিই হবেন পাকিস্তানের চার তারকার চারজন জেনারেলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

এদিকে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম দ্য নিউজ ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, নিয়োগের আগে কামার বাজওয়ার জীবনবৃন্তান্ত গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের একাধিক বিভাগ। সেই বিভাগগুলোর প্রতিবেদনে করাচিতে জন্ম নেওয়া এই পাঁচ তারকার প্রেসিডেন্টকে অমায়িক ও কঠোর পেশাদারি হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এবং তাঁর জীবনবৃত্তান্ত স্পষ্টভাবে গণতন্ত্রের প্রতি তাঁর গভীর আস্থার কথা প্রমাণ করে।

"