শান্তিরক্ষীদের মানবাধিকার লঙ্ঘন এড়ানোর আহ্বান গুতেরেসের

প্রকাশ : ২৯ নভেম্বর ২০১৬, ০০:০০

বিদেশ ডেস্ক
ADVERTISEMENT

জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীর আরো প্রশিক্ষণের পাশাপাশি মানবাধিকারের প্রতি আরো শ্রদ্ধাশীল হতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। শান্তিরক্ষী বাহিনীর বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি যৌন নিপীড়নের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি এ কথা বলেন।

২০১৭ সালের জানুয়ারি মাস থেকে বর্তমান মহাসচিব বান কি-মুনের স্থলাভিষিক্ত হবেন গুতেরেস। মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র ও কঙ্গোতে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীর বিরুদ্ধে শিশু ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের ১০৮টি অভিযোগ উঠেছে। একটি রোমহর্ষক অভিযোগে বলা হয়, শান্তিরক্ষী বাহিনীর একজন ফরাসি কমান্ডার তিনটি কিশোরীকে কুকুরের সঙ্গে যৌনসম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করে।

বেইজিংয়ে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই’র সঙ্গে বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আমি চাইবো জাতিসংঘের বিভিন্ন অঙ্গ প্রতিষ্ঠান একই লক্ষ্যে কাজ করবে। নারী ও শিশুদের অধিকার লঙ্ঘন এড়ানোর জন্য জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীর সদস্যদের আরো ভালো প্রশিক্ষণ প্রয়োজন।

পর্তুগালের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তির উন্নয়নের পরেও সারা বিশ্বে অসাম্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর এটি সারাবিশ্বে অস্থিরতা তৈরিতে ভূমিকা পালন করছে।

১৩ নভেম্বর গুতেরেসকে পাঁচ বছরের জন্য জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

বর্তমান মহাসচিব বান কি মুনের দ্বিতীয় দফায় পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষে ১ জানুয়ারি গুতেরেস দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সাবেক এই কমিশনার হবে এ বিশ্ব সংস্থার নবম মহাসচিব।

৬৭ বছর বয়সী গুতেরেসের মনোয়ন চূড়ান্ত করতে ৭ অক্টোবর নিরাপত্তা পরিষদে আনুষ্ঠানিক ভোটাভুটি হয়। এরপর নিরাপত্তা পরিষদ তাদের মনোনীত নয়া মহাসচিব হিসেবে ১৩ অক্টোবর গুতেরেসের নাম তোলে ১৯৩ সদস্যের সাধারণ পরিষদে; সেখানেই আসে চূড়ান্ত অনুমোদন।

পেশায় প্রকৌশলী গুতেরেস রাজনীতিতে আসেন ১৯৭৬ সালে। পাঁচ দশকের স্বৈরশাসনের অবসান ঘটানো ‘কার্নেশন বিপ্লবের’ পর ওই বছরই দেশটিতে প্রথম গণতান্ত্রিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৯২ সালে তিনি দেশটির সোশালিস্ট পার্টির নেতা নির্বাচিত হন; তিন বছর পর হন প্রধানমন্ত্রী। ২০০৫ সালে গুতেরেস জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক কমিশনের দায়িত্ব নেন। এরপর এক দশক তিনি ব্যস্ত ছিলেন সিরিয়া, আফগানিস্তান ও ইরাকের মত দেশগুলোর শরণার্থী সঙ্কট মোকাবেলায়। যুদ্ধবিধ্বস্ত শরণার্থীদের আরও বেশি সহায়তা দিতে পশ্চিমা সমাজকে বার বার অনুরোধ করেছেন তিনি। সূত্র-এনডিটিভি

"