জাতিসংঘের প্রতিবেদন

কঙ্গোতে ৪০ লাখ শিশু বাবা-মা হারা

প্রকাশ : ২৯ নভেম্বর ২০১৬, ০০:০০

বিদেশ ডেস্ক
ADVERTISEMENT

মধ্য আফ্রিকার দেশ গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গোয় সহিংসতায় ৪০ লাখ শিশু তাদের পিতামাতার অন্তত একজনকে হারিয়েছে বলে জাতিসংঘ জানিয়েছে। জাতিসংঘের কর্মকর্তা ফ্রান্সিসকা ইচিমপায়া এক প্রতিবেদনে জানিয়েছেন, পশ্চিম এবং মধ্য আফ্রিকায় ২ কোটি ৬০ লাখের শিশু অনাথ হয়েছে। এসব দেশের মধ্যে কঙ্গোও রয়েছে। ১৯৯৪ সাল থেকে চলে আসা সহিংসতায় এসব শিশু অনাথ হয়েছে। বংশানুক্রমিক সহিংসতার ফলে তারা এ পরিস্থিতির শিকার হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, এসব শিশু নিজেদের পাশাপাশি ছোট ভাইবোনদেরও ভরণ পোষনের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী অনেক শিশুদেরকে তাদের সহিংস তৎপরতায় নিয়োগ দিচ্ছে। এদের কারোর ওপর আবার নানা যৌন নির্যাতন চালানো হচ্ছে।

কঙ্গোয় গত দু দশক ধরে জাতিগত সহিংসতা বিরাজ করছে। সন্ত্রাস কবলিত এ দেশটিতে শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য জাতিসংঘ ৫০টি দেশ থেকে প্রায় ২০,০০০ সেনা মোতায়েন করেছে। এসব শান্তিরক্ষী কঙ্গোর সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিরস্ত্র করার কাজ করছে।

১৯৯০ সালে শুরু হওয়া যুদ্ধ এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে ভয়ঙ্কর সময় পার করছে কঙ্গো। মৃতের সংখ্যা প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ। বাস্তুহারা হয়েছে ২ লাখেরও বেশি মানুষ। পার্শ্ববর্তী দেশসমূহ ও দেশের ভেতরের জঙ্গি দলগুলোর সঙ্গে চলা যুদ্ধে এই ভয়ানক পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যায় কঙ্গো। ১৯৯৬ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত এবং ১৯৯৮ সাল থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত চলা দুটি যুদ্ধে কঙ্গোর অবস্থা আরও খারাপের দিকে যায়। ২০০৮ সালে সংঘটিত হয় দ্বিতীয় কঙ্গো যুদ্ধ। এযুদ্ধই দেশটির মেরুদন্ড ভেঙ্গে দিয়েছে। আধুনিক আফ্রিকার ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহতম যুদ্ধের নাম দ্বিতীয় কঙ্গো যুদ্ধ।

যুদ্ধ যে কতটা রক্তাক্ত, কতটা বিধ্বংসী হ’তে পারে তার জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত বয়ে বেড়াচ্ছে এ যুদ্ধ। ভয়াবহতম এই যুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ করেছিল আফ্রিকার সাতটি জাতি এবং সঙ্গে সমরাস্ত্রে সজ্জিত ২৫টি আর্মড গ্রুপ। গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রতিষ্ঠা বা খনিজ সম্পদের ওপর প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে যুদ্ধটি বাধে। স্বার্থের কাছে অন্ধ হয়ে ভাই ভাইয়ের রক্ত দিয়ে আনন্দ প্রকাশ করার এ ছিল এক নিকৃষ্ট উদাহরণ। এ যুদ্ধে কমপক্ষে ৫৪ লক্ষাধিক মানুষের মৃত্যু হয়। আর লাখ লাখ মানুষ নিজেদের সম্পদ ও ঘরবাড়ি ছেড়ে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে উদ্বাস্তু হিসাবে আশ্রয় নেয়। এরপর থেকে চলমান এই পরিস্থিতি। তাদের নেই কোনো শক্তিশালী শাসনব্যবস্থা।

নিরাপত্তা প্রদানকারী বাহিনীকে লড়াই করতে হচ্ছে বিচ্ছিন্নতাবাদী ও সন্ত্রাসীদের সঙ্গে। বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র দেশ কঙ্গোর অবস্থা তাই শোচনীয় হয়ে পড়ে। রাজনৈতিকভাবে কোনো সমাধানের পথ খুঁজে না পাওয়ায় বিদ্রোহীদের সঙ্গে সংঘর্ষ ছাড়া কোনো বিকল্প দেখেনি কঙ্গো। পূর্ব কঙ্গো সন্ত্রাসীদের আস্তানায় পরিণত হওয়ায় দেশজুড়ে অস্থিতিশীলতা বেড়েই চলে।

সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্রোহীরা আলোচনায় আসতে আগ্রহী হওয়ায় পরিস্থিতি ইতিবাচক হতে শুরু করে। তবে শান্তি প্রতিষ্ঠায় এখনো কঙ্গোকে অনেকটা পথ হাঁটতে হবে তাদের। রাজনৈতিক অস্থিরতা, সন্ত্রাসবাদ ও দরিদ্রতা কঙ্গোকে তলানিতে পৌঁছে দিয়েছে। এ অবস্থা উত্তোরণের জন্য জাতিসংঘ অনেক বছর ধরেই কাজ করে যাচ্ছে। জাতিসংঘের সবচেয়ে বড় অঙ্কের বাজেট বরাদ্দ থাকছে কঙ্গোর পরিস্থিতি উন্নয়নে।

"