ফিদেলকে ‘নিষ্ঠুর স্বৈরশাসক’ বললেন ট্রাম্প

প্রকাশ : ২৮ নভেম্বর ২০১৬, ০০:০০

বিদেশ ডেস্ক
ADVERTISEMENT

এই সময়ের বিপ্লবের মহানায়ক কিউবা বিপ্লবের নেতা ফিদেল কাস্ত্রোকে ‘নিষ্ঠুর স্বৈরশাসক’ বলে আখ্যায়িত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্প বলেছেন, কিউবাবাসী এখন ‘আরও মুক্ত’ ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাবেন বলে আশা করছেন তিনি।

১৯৫৯ সালে সশস্ত্র অভ্যুত্থানে সামরিক শাসক জেনারেল বাতিস্তাকে হটিয়ে কিউবার ক্ষমতায় এসে সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন ফিদেল কাস্ত্রো। এরপর পাঁচ দশক যুক্তরাষ্ট্রের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে এগিয়ে যান তিনি। ক্যারিবীয় সাগরের যুক্তরাষ্ট্রের ধনীদের অবকাশ যাপনের বিনোদন কেন্দ্র কিউবাকে পুরোপুরি বদলে দেন ফিদেল। কিউবার শিক্ষা স্বাস্থ্য খাতে অভাবনীয় উন্নয়ন ঘটে, যা উন্নত বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেওয়ার মত ঘটনা ছিল। কিউবার অধিকাংশ মানুষ দেশকে জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার নায়ক হিসেবে দেখেন ফিদেল কাস্ত্রোকে। অপরদিকে সমালোচকরা তাকে দেখেন ‘স্বৈরশাসক’ হিসেবে। এক বিবৃতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘কিউবা একটি কর্তৃত্ববাদী দ্বীপ হিসেবে থাকলেও এটা আশা করা যায় যে, দীর্ঘদিন চেপে থাকা বিভীষিকা থেকে বেরিয়ে আসার প্রক্রিয়ার শুরুর দিন হতে পারে আজ। এটা এমন একটি ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়া যেখানে চমৎকার কিউবাবাসী শেষ পর্যন্ত স্বাধীনতা নিয়ে বাস করতে পারে, যা তাদের প্রাপ্য।’

সোভিয়েত ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ‘স্নায়ুযুদ্ধ’ নিয়ে যখন উত্তেজনা বাড়ছিল সে সময় ১৯৬১ সালে কিউবার সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পর্কে ছেদ টানে ওয়াশিংটন। আরোপ করে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, যা অর্ধশতকেরও বেশি সময় ধরে চলে। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতি ঘটে। ২০১৫ সালে পুনরায় কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে ওয়াশিংটন-হাভানা। নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্প কিউবা নিয়ে ওবামার নীতির সমালোচনা করলেও বিবৃতিতে তা পাল্টানোর কথা বলেননি। কট্টরপন্থি রিপাবলিকান পার্টির নেতা ট্রাম্প বলেছেন, কিউবানরা যাতে ‘সমৃদ্ধি ও স্বাধীনতার দিকে যাত্রা শুরু করতে পারে’ তা নিশ্চিত করতে সম্ভাব্য সব করবে তার প্রশাসন।

 

ফিদেল কাস্ত্রোর মৃত্যুর খবরে হাভানায় অনেকে শোক বিহ্বল হয়ে পড়েন। ‘আমি সব সময় বলছিলাম, এটা হতে পারে না। তারা এখন এটা বলছে, কিন্তু আমি বলছি-এটা হতে পারে না,’ বিবিসিকে বলেন এক নারী সরকারি কর্মকর্তা।

কিউবায় তার শাসনকালে যুক্তরাষ্ট্রের ১০ জন প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব পালন করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র কিউবায় সামরিক আগ্রাসন না চালালেও ফিদেল কাস্ত্রোকে হত্যা করতে একের পর এক চেষ্টা চালিয়ে যায় বলে গণমাধ্যমে খবর আসে। কিউবার গোয়েন্দাদের দাবি অনুযায়ী, কেবল সিআইএ কাস্ত্রোকে হত্যার জন্য ৬৩৮টি চেষ্টা চালিয়েছে, যার মধ্যে আছে সিগারেটে বিস্ফোরক বা স্কুবা ডাইভিং স্যুটে বিষ মাখিয়ে; ছিল মাফিয়া স্টাইলে গুলি করে হত্যার চেষ্টাও।

"