যুক্তরাষ্ট্র সরে গেলেও সরবে না কাতার

প্রকাশ : ২৮ নভেম্বর ২০১৬, ০০:০০

বিদেশ ডেস্ক
ADVERTISEMENT

যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সিরিয়ার বিদ্রোহীদের পাশ থেকে যদি সরেও যায় তবুও সরবে না কাতার। গত শনিবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুল রাহমান আল থানি। প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে পরিবর্তন আসতে পারে বলে আভাস দিয়ে রেখেছেন ট্রাম্প। সেই সূত্রে সিরিয়া বিষয়ে নিজেদের গৃহীত নীতি থেকে সরে না আসার প্রতিশ্রুতি জানিয়েছে কাতার। তবে এক্ষেত্রে তারা ‘একা থাকবেন’ না বলেও জানিয়েছেন শেখ মোহাম্মদ। রুশ ও সিরিয়ার সরকারি বাহিনীর যুদ্ধবিমানগুলো থেকে বিদ্রোহীদের রক্ষা করতে কাঁধে রেখে ছোড়া যায় এমন ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

কাতারি রাজপরিবারের সদস্য এই পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বিদ্রোহীদের আরও বেশি সামরিক সমর্থন দরকার, কিন্তু তাদের ‘কাঁধে রেখে ছোড়া যায়’ এমন বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করতে হলে বিষয়টি নিয়ে বিদ্রোহীদের সমর্থনকারী সব দেশকে সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের পক্ষে নামা শক্তিশালী রাশিয়ার বিমান হামলায় আতঙ্কিত হয়ে মধ্যপ্রাচ্েযর উপসাগরীয় আরব দেশগুলো সিরীয় বিদ্রোহীদের এ ধরনের অস্ত্র দিয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কয়েকটি পশ্চিমা দেশের কর্মকর্তারা। ওয়াশিংটনের শঙ্কা, এ ধরনের অস্ত্র বিদ্রোহীদের কাছ থেকে জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর হাতে চলে যেতে পারে এবং তারা এসব ক্ষেপণাস্ত্র পশ্চিমা বিমানগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে পারে। প্রেসিডেন্ট আসাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামা বিদ্রোহীদের সমর্থনকারী শীর্ষ দেশগুলোর মধ্েয কাতার অন্যতম। তাদের অন্যান্য সঙ্গীদের মধ্েয সৌদি আরব, তুরস্ক, যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো । সিরিয়ার মধ্যপন্থি বিদ্রোহীদের সামরিক সহায়তা দিচ্ছে এসব দেশ, আর ওই সহায়তা বিদ্রোহীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া ও তদের প্রশিক্ষণের বিষয়টি তদারক করছে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ। তবে এখন ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ায় পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী তিনি বিদ্রোহীদের সমর্থন দেওয়া বন্ধ করে দিতে পারেন, কিন্তু সেরকম কিছু হলেও কাতার সমর্থন দেওয়া অব্যাহত রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে জানিয়েছেন শেখ মোহাম্মদ।

 

তিনি বলেন, ‘এই সমর্থন অব্যাহত থাকবে, আমরা তা বন্ধ করবো না। আলেপ্পোর পতন হলেও আমরা সিরিয়ার জনগণের দাবি অস্বীকার করবো না।’

"