রুপি ভারতের, বিপাকে নেপাল

প্রকাশ : ২৬ নভেম্বর ২০১৬, ০০:০০

বিদেশ ডেস্ক
ADVERTISEMENT

বহুকাল ধরেই নেপালে প্রচলিত মুদ্রায় ভারতীয় রুপিও অন্তর্ভুক্ত। নিজস্ব মুদ্রার পাশাপাশি ভারতীয় মুদ্রাও অনায়াসেই ব্যবহার করতে পারেন দেশটির নাগরিকরা। এর ফলে ৮ নভেম্বর ভারতের মোদি সরকারের সিদ্ধান্তে ৫০০ ও ১০০০ রুপির নোট বাতিলের প্রভাব পড়েছিল নেপালেও।

আর এবার ভারত সরকার নতুন ৫০০ ও ২০০০ রুপির নোট ছাড়ার পর আরেক ভোগান্তিতে পড়লেন নেপালের সাধারণ নাগরিকরা। কারণ, ভারতের বাজারে ছাড়া নতুন এই নোটগুলো অবৈধ ঘোষণা করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশ, নেপালের বাজারে থাকা ভারতের বাতিল ৫০০ ও ১০০০ রুপির নোটগুলোর একটা গতি না হওয়া পর্যন্ত নতুন নোট দিয়ে কোনো লেনদেন করা যাবে না। গতকাল বৃহস্পতিবার দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ নির্দেশ দেয়।

নেপাল রাষ্ট্রীয় ব্যাংকের উত্তরাঞ্চলের প্রধান রামু পৌদেল নেপালের বিরাটনগরের ব্যবসায়ীদের জানান, ভারতের শীর্ষ ব্যাংকটি নোট বিনিময় নিয়ে সিদ্ধান্ত না নেওয়া পর্যন্ত নেপালে নতুন ভারতীয় নোট অবৈধ বিবেচনা করা হবে। এখন পর্যন্ত ভারত ও নেপাল সরকারের মধ্যে বাতিল নোট বিনিময়ের ব্যাপারে কোনো চুক্তি হয়নি বলেও জানান তিনি। সম্প্রতি কর ফাঁকি ও কালো টাকার ব্যবহার রোধে ৫০০ ও ১০০০ রুপির নোট বাতিল করেছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পরে নতুন ৫০০ ও ২০০০ রুপির নোট ভারতের বাজারে ছাড়া হয়। এবার ভারত সরকার ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিল করায় নেপালের বহু নাগরিকই সমস্যায় পড়েছেন। এছাড়াও নেপালের যে সব বাসিন্দারা ভারতে তীর্থ করতে এসেছেন এবং আন্তর্সীমান্ত ব্যবসায় যুক্ত, তাঁদের হাতেও রয়েছে ভারতের বাতিল নোট। অবস্থা এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে ভারতের বাতিল নোটের বদলে নতুন নোট না পেলে নেপালের অনেক নাগরিকেরই সমস্ত সঞ্চয়টাই নষ্ট হয়ে যাবে। এ কথা জানিয়েছে ফেডারেশন অফ নেপাল চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি। প্রচ-র অনুরোধের উত্তরে মোদী জানিয়েছেন, তিনি দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করবেন এবং এ জন্য কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীকে তিনি নেপালের অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে বলবেন।

উল্লেখ্য, ভারত সরকার আচমকা নোট বাতিলের সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর নেপাল রাষ্ট্র ব্যাঙ্ক (এনআরবি)ও গত বুধবার থেকে ওই নেপালে ওই নোটের ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে। নেপালের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক এনআরবি-র হিসেবে অনুযায়ী, সে দেশের আর্থিক ক্ষেত্রে ভারতের বাতিল নোটে প্রায় ৩৩.৬ মিলিয়ন টাকা রয়েছে। বিভিন্ন ব্যাঙ্ক, ভল্ট ও এনআরবি-র কাছে রয়েছে ওই টাকা। যদিও বাস্তবে এর পরিমাণ আরও অনেক বেশি। কারণ, আগে নেপালের নাগরিকদের ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ভারতের ৫০০ ও ১০০০ টাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।

 

 

"