রাশিয়ার সঙ্গে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তিতে সম্মত ১৫ দেশ

প্রকাশ : ২৬ নভেম্বর ২০১৬, ০০:০০

বিদেশ ডেস্ক
ADVERTISEMENT

মস্কোর সঙ্গে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তিতে জার্মানির নতুন চুক্তির উদ্যোগের সঙ্গে যোগ হয়েছে ইউরোপের আরো ১৫টি দেশ। তারা বলছেন, ক্রাইমিয়া ও পূর্ব ইউক্রেসে রাশিয়ার অভিযানের পর সশস্ত্র অভিযান প্রতিরোধে আরো বেশি সংলাপ প্রয়োজন। এই দেশগুলো ইউরোপের অর্গানাইজেশন ফর সিকিউরিটি অ্যান্ড কোঅপারেশনের (ওএসসিই) সদস্য। জার্মান একটি গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। খবরে বলা হয়, জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্র্যাকং-ওয়ালটার স্টেইনমেয়ারের উদ্যোগের সঙ্গে যোগ দেয়া ১৫টি দেশ হলোÑ ফ্রান্স, ইতালি, অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, সুইজারল্যান্ড, চেক রিপাবলিক, স্পেন, ফিনল্যান্ড, নেদারল্যান্ড, নরওয়ে, রোমানিয়া, সুইডেন, স্লোভাকিয়া, বুলগেরিয়া ও পর্তুগাল। এই দেশগুলোর আজই একটি যৌথ বিবৃতি দেয়ার কথা রয়েছে। এ ছাড়া জার্মানির হামবুর্গে ৮ ও ৯ই ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য ওএসসিই’র মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনেও তারা এ বিষয়ে বৈঠক করবেন। রাশিয়ার সঙ্গে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের চুক্তি বিষয়ে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্টেইনমেয়ার ডিয়ে ওয়েল্ট সংবাদপত্রে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘ইউরোপের নিরাপত্তা হুমকির মুখে রয়েছে। রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক করাটা এখন যতই কঠিন হোক না কেন, আমাদের আরো বেশি সংলাপে বসতে হবে, কম নয়।’ সোস্যাল ডেমোক্রেট পার্টির স্টেইনমেয়ারকে আগামী বছরে অনুষ্ঠেয় জার্মান প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। ইউরোপে উত্তেজনা বৃদ্ধি এড়াতে তিনি আগস্টে প্রথম রাশিয়ার সঙ্গে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তির আহ্বান জানিয়েছিলেন। স্টেইনমেয়ার রাশিয়ার ক্রাইমিয়া অধিগ্রহণ ও পূর্ব ইউক্রেনে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সহায়তা করার জন্য রাশিয়ার নিন্দা জানিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, এ ধরনের তৎপরতা দশকের পর দশক ধরে অর্জিত আস্থা নষ্ট করে এবং নতুন করে অস্ত্রের প্রতিযোগিতা শুরুর হুমকি দেয়। তিনি অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের এই উদ্যোগে আরো দেশকে যোগ দেয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘নিরাপত্তা ও শান্তি বাড়াতে আমাদের প্রচেষ্টায় কোনো ঘাটতি না রাখার দায় আমাদের রয়েছে।’

জার্মানির এই উদ্যোগ নিয়ে সন্দিহান যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা। বিদ্যমান চুক্তি ও সমঝোতা পালনে রাশিয়ার ব্যর্থতার কারণেই তারা এই উদ্যোগের সফলতা নিয়েও সন্দেহ পোষণ করছেন। এর আগে পূর্ব ইউরোপে পশ্চিমা দেশগুলোর সৈন্য মোতায়েনকে ‘সামরিক শক্তি প্রদর্শন ও রণহুঙ্কারের’ সামিল বলে সতর্ক করেছিলেন স্টেইনমেয়ার। এ ধরনের তৎপরতা রাশিয়ার সঙ্গে উত্তেজনা বাড়াতে পারে বলে মন্তব্য করেছিলেন তিনি। এর জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো তার সমালোচনায় মুখর হয়। তবে জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেলের রক্ষণশীল জোটের তুলনায় তার সোস্যাল ডেমোক্রেট পার্টি রাশিয়ার সঙ্গে খানিকটা বেশি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে সমর্থন করে আসছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনে ডনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্য নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছিল দুই দলই। এ ছাড়া ন্যাটোর জোটভুক্ত দেশগুলোকে সুরক্ষা দেয়া থেকে সরে আসা নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্যেও তারা উদ্বেগ প্রকাশ করে।

 

 

"