জার্মানিতে আশ্রয় পাচ্ছে না সিরীয় ‘বেবি মার্কেল’

প্রকাশ : ২৬ নভেম্বর ২০১৬, ০০:০০

বিদেশ ডেস্ক
ADVERTISEMENT

আশ্রয়ের সন্ধানে তার বাবা-মা এসেছিলেন জার্মানিতে। সেখানেই জন্ম হয় তার। নাম রাখা হয় জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেলের নামে। ‘বেবি মার্কেল’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠা ওই শিশুর বয়স হয়েছে ১১ মাস। আগামী মাসেই তার প্রথম জন্মদিন পালিত হবে। কিন্তু সেই জন্মদিনেও আশ্রয়হীন ‘বেবি মার্কেল’কে থাকতে হবে আশ্রয়হীন পরিচয়েই। কারণ জার্মানির অভিবাসন ও শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা থেকে তার আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। জার্মান ট্যাবলয়েড বিল্ডের প্রতিবেদন উদ্বৃত করে এ খবর দিয়েছে জার্মান পত্রিকা দ্য লোকাল। খবরে বলা হয়, গত বছর সিরিয়া থেকে শরণার্থী হয়ে আশ্রয়ের সন্ধানে জার্মানি এসেছিলেন তেমা ও মামোন আল-হামজা দম্পতি। ওই সময় তেমা ছিলেন গর্ভবতী। ২৭শে ডিসেম্বর তিনি এক কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। ওই শরণার্থী সংকটের সময় ইউরোপের সব দেশ শরণার্থীদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিরেও জার্মান চ্যান্সেলর তার দেশের দরজা খুলে রেখেছিলেন শরণার্থীদের জন্য। আর সে কারণেই আল-হামজা দম্পতি তাদের কন্যা সন্তানের নাম রাখেন জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেলের নামে। আগামী মাসে ‘বেবি মার্কেলে’র প্রথম জন্মদিন পালন করার আগেই তারা পেলেন দুঃসংবাদ। জার্মানির ফেডারেল অফিস ফর মাইগ্রেশন অ্যান্ড রিফিউজিস (বিএএমএফ) জানিয়ে দিয়েছে, ওই পরিবারের আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। আশ্রয়ের বদলে তাদের ‘সম্পূরক সুরক্ষা’ দেবে জার্মানি। বিএএমএফের ওয়েবসাইটে বলা আছে, এই সুরক্ষার অর্থ হলোÑ কোনো শরণার্থী নিজ দেশে ফিরলে যদি মৃত্যুদ-, নির্যাতন বা অমানবিক ও অমর্যাদাকর আচরণের হুমকিতে থাকে বা তারা ঝুঁকির মুখে থাকে তবে তাদের দেশে ফিরতে দেয়া হবে না। এই সুরক্ষা পাওয়ায় আল-হামজা পরিবার প্রাথমিকভাবে এক বছরের জন্য জার্মানিতেই অবস্থান করতে পারবেন। কিন্তু তাদের পরিবারের অন্য সদস্যরা হয়তো তাদের সঙ্গে যোগ দিতে পারবেন না। এক বছর পর যদি তারা জার্মান ভাষা শিখতে পারেন এবং জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় জীবিকা অর্জনে সক্ষম হতে পারেন তবে তারা অন্যান্য শর্তসাপেক্ষে দীর্ঘ মেয়াদে থেকে যেতে পারবেন জার্মানিতে। স্বভাবতই আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার হতাশ হয়েছে আল-হামজা পরিবার। মামোন আল-হামজা বলেন, ‘ওই চিঠি আমাকে ভীত করে তুলেছে।’

এর আগে অক্টোবর মানে সুডডয়েচে জেইটুং এক খবরে জানিয়েছিল, গত মার্চ মাস থেকে এখন পর্যন্ত ১৭ হাজার শরণার্থী জার্মান কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ সুরক্ষা না দেয়ার অভিযোগ তুলে মামলা দায়ের করেছিল। ওইসব মামলার ৯০ শতাংশেরও বেশি রায় গেছে শরণার্থীদের পক্ষে।

তবে বুধবার ফেডারেল আদালত এক রায়ে ঘোষণা করেছে যে সব সিরীয়কে সম্পূর্ণ সুরক্ষা দিতে হবে না কর্তৃপক্ষকে। এর অর্থ হলোÑ সম্পূরক সুরক্ষা থাকা পরিবারগুলো তাদের অন্য সদস্যদের সঙ্গে একত্রে থাকার সুযোগ পাবে না। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতির ওপর ভিত্তি করে আদালত জানিয়েছে যে, সিরিয়াতে ফেরত যাওয়াদের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়তে হয়Ñ এমন প্রমাণ নেই। রায়ে আরো বলা হয়, জার্মান কর্তৃপক্ষকে প্রতিটি সিরীয় নাগরিকের আবেদনের বিষয় আলাদা আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হবে। শরণার্থী অধিকারক সংগঠনগুলো আদালতের এই রায়ের সমালোচনা করেছেন। শরণার্থীবিষয়ক এনজিও প্রো অ্যাসাইলের বার্নড মেসোভিচ বলেন, ‘ইউএনএইচসিআর এই ইঙ্গিত দিয়েছে যে সিরিয়ানরা দেশে ফেরত গেলে তাদের কারাবরণ করতে হচ্ছে ও গুম হয়ে যেতে হচ্ছে বলে জানা গেছে। এ ধরনের সন্দেহ যখন রয়েছে তখন শরণার্থীদের সুরক্ষার নজির স্থাপন করা উচিত। কিন্তু আদালতে যে যত উচ্চ অবস্থানে পৌঁছান, বিচার ব্যবস্থা তত বেশি রাজনৈতিক হয়ে ওঠে।’

 

 

"