আলেপ্পোয় রাসায়নিক হামলা

তদন্ত করবে জাতিসংঘ

প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০১৬, ০০:০০

বিদেশ ডেস্ক
ADVERTISEMENT

সিরিয়ার রাজধারী আলেপ্পোর বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকায় কোনও রাসায়নিক হামলা হয়েছে কিনা, তা তদন্ত করে দেখছে জাতিসংঘ। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি খবরটি নিশ্চিত করেছে। উল্লেখ্য, ক্লোরিন শিল্প–কারখানায় ব্যবহারের জন্য একটি সাধারণ রাসায়নিক। ক্লোরিনের বিষক্রিয়ায় সাধারণত চোখে জ্বালাপোড়া, চামড়া কুঁচকে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট এবং মুখ থেকে রক্তাক্ত ফেনা বের হয়। অস্ত্র হিসেবে এর ব্যবহার ‘রাসায়নিক অস্ত্র কনভেনশন’–এ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে সিরিয়ার বিদ্রোহী অধ্যুষিত এলাকায় উদ্ধার অভিযান পরিচালনাকারী সংস্থা সিরিয়া সিভিল ডিফেন্স বলছে, তাদের কাছে সন্দেহজনক ওই ক্লোরিন গ্যাস হামলায় তিনজন নিহত এবং ২২ জন আহত হওয়ার রেকর্ড রয়েছে। আলেপ্পো’র আল কুদস হাসপাতালের ম্যানেজার হামজা খতিব জানান, তার হাসপাতালে গ্যাসের বিষক্রিয়ায় চারজন নিহত এবং ৫৫ জন আহত হওয়ার রেকর্ড রয়েছে। সাত ব্যক্তি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আলেপ্পোয় সম্ভাব্য ক্লোরিন গ্যাসের হামলার শিকার শিকার লোকজন শ্বাসকষ্টের মতো জটিলতায় ভুগছেন। হাসপাতাল ও সিভিল ডিফেন্স থেকে লোকজনের হতাহতের খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।

সিরিয়ায় জাতিসংঘের বিশেষ দূত স্টাফান দ্য মিস্তুরা এই সম্ভাব্য রাসায়নিক হামলার তদন্ত সম্পর্কে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, জাতিসংঘ সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞদের দিয়ে বিষাক্ত গ্যাস ব্যবহারের অভিযোগ তদন্ত করে দেখছে।

সারাকিবে কর্মরত চিকিৎসক আবদেল আজিজ বারিহ বলেন, ‘আমরা জানি যে এটা ক্লোরিন। কারণ, আমরা অতীতে এতে আক্রান্ত হয়েছি। আমরা এর গন্ধ এবং উপসর্গের সঙ্গেও পরিচিত।...আমরা ২৮ জন আক্রান্ত হওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছি। এদের মধ্যে বেশির ভাগই নারী ও শিশু।’ যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, সেইফ আল দাওলা এবং জাবদিয়া সংলগ্ন এলাকায় বিস্ফোরক ব্যারেল নিক্ষেপ করা হয়েছে।

এতে শ্বাসকষ্টের কারণে এক নারী ও তার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তারা সরাসরি রাসায়নিক গ্যাস ব্যবহারের অভিযোগ না আনলেও জাতিসংঘের তরফ থেকে বিশেষ দূত মিস্তুরা বলেন, ‘বিষাক্ত গ্যাস দিয়ে হামলার বেশ কিছু প্রমাণ রয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে এটি প্রমাণ করা গেলে স্পষ্টতই তাকে যুদ্ধাপরাধ বিবেচনা করতে হবে। এবং দ্রুততার সঙ্গে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।

সিরিয়া সংঘাতে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের কথা বরাবরই অস্বীকার করে আসছে দেশটির সরকারি বাহিনী ও সরকারবিরোধী বিদ্রোহীরা। বরং উভয় পক্ষই এজন্য পরস্পরকে দায়ী করে আসছে। তবে রাসায়নিক হামলার জন্য সিরিয়ার ক্ষমতাসীন বাশার আল আসাদ সরকারকে দায়ী করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। ২০১৩ সালে পূর্বাঞ্চলীয় ঘৌটা এলাকায় সারিন গ্যাস হামলায় নিহত হন এক হাজার ৪২৯ জন। নিহতদের মধ্যে ৪২৬ শিশুও রয়েছে। জাতিসংঘের তদন্তেও এ হামলায় সারিন গ্যাস ব্যবহারের প্রমাণ মিলেছে। এর আগে চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে সিরিয়ার ইদলিবেও একই ধরনের ক্লোরিন হামলার অভিযোগ উঠে। ইদলিব প্রদেশের সারাকিব শহরে ওই হামলা চালানো হয়। এতে অন্তত ৩০ জন আক্রান্ত হন।

"