পানামা পেপারস কেলেঙ্কারি

ছয় মাস আগে আইসল্যান্ডে নির্বাচন

প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০১৬, ০০:০০

বিদেশ ডেস্ক
ADVERTISEMENT

পানামা পেপারস কেলেঙ্কারি পরিপ্রেক্ষিতে আইসল্যান্ডে নির্ধারিত সময়ের ছয় মাস আগেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এর আগে চলতি বছরের পানামা পেপারস-এ দুর্নীতির বিষয় সামনে আসায় এপ্রিলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী সিগমুন্ডুর ডেভিড গুনলাগসন পদত্যাগ করেন। বৃহস্পতিবার (১১ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রী সিগুরদুর ইনগি জোহানেসন বলেছেন, আমরা চাইছি চলতি বছরের ২৯ অক্টোবর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। বসন্ত এবং গ্রীষ্মে পার্লামেন্টে বিষয়গুলো যেভাবে এগিয়েছে, তাতে আমরা আগাম নির্বাচনের বিষয়ে আশাবাদী।

এর আগে জোহানেসন পার্লামেন্টে আগাম নির্বাচনের বিষয়ে বিতর্কে সব দলের নেতাদের অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। তারা ছয় মাস আগেই নির্বাচন আয়োজনে সম্মতি জানিয়েছেন। এর পরই প্রধানমন্ত্রী এই ঘোষণা দিলেন।

এটি হবে চলতি বছরে আইসল্যান্ডের দ্বিতীয় নির্বাচন। এর আগে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দেশটিতে ক্রমবর্ধমান প্রতিষ্ঠান-বিরোধীদের সমর্থন নিয়ে জয়ী হন গুডনি জোহানেসন।

নির্বাচনে রক্ষণশীলদের ভোট এখনও ক্ষমতাসীন ইন্ডিপেন্ডেন্স পার্টির নেতৃত্বাধীন মধ্য-ডান জোটই পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ২০১২ সালে গঠিত বিরোধী দল পাইরেট পার্টি স্বচ্ছতা, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং দুর্নীতি-বিরোধী অ্যাজেন্ডাকে সামনে রেখে জন-সমর্থন তাদের দিকে টানতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

পানামার আইনি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান মোস্যাক ফনসেকার ফাঁস হওয়া নথি, যা পানামা পেপারস নামে পরিচিত, সেখানে দেখা যায়, আইসল্যান্ডের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও তার স্ত্রী কোটি কোটি ডলার ফাঁকি দিতে দেশের বাইরে এমন একটি প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করেছেন, যেখানে অর্থ পাচার ও কর ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

২০০৭ সালে সিগমুন্ডুর ও তার স্ত্রী একটি অফশোর কোম্পানি ক্রয় করেছেন। যে কোম্পানিটি আইসল্যান্ডের তিনটি ব্যাংকের বন্ডের মালিক ছিল। ওই বছর আর্থিক মন্দার সময় লোকসানের মুখে পড়ে ব্যাংক তিনটি বন্ধ হয়ে যায়। শুধু প্রধানমন্ত্রী ও তার স্ত্রী নন, তার মন্ত্রিসভার অনেক সদস্যেরও বিদেশে অবৈধ ও গোপন সম্পত্তি রয়েছে।

এই তথ্য ফাঁসের একদিন পরই (৫ এপ্রিল) পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন সিগমুন্ডুর। তিনি পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে প্রেসিডেন্টের কাছে আগাম নির্বাচনের আবেদন করেন। তবে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ওলাফুর র‌্যাগনার গ্রিমসন তা নাকচ করে দেন। তখন সিগমুন্ডুর ডেভিড গুনলাগসন-এর পদত্যাগের দাবিতে দেশটির রাজধানী রিকইয়াভিকে পার্লামেন্টের বাইরে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন প্রায় ১০ হাজার মানুষ। প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে তার পদত্যাগের দাবিতে একটি অনলাইন পিটিশনে স্বাক্ষর করেন ২৮ হাজার মানুষ। আইসল্যান্ডের মোট জনসংখ্যা মাত্র তিন লাখ ৩০ হাজার। এবারই প্রথম আইসল্যান্ডের জনগণ এতো বড় মাত্রায় রাজনৈতিক ইস্যুকে সামনে রেখে রাজপথে নেমে এসেছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।

"