বিপর্যয়ের মুখ থেকে ফিরে রাজশাহীর সংগ্রহ ১২৮

প্রকাশ : ২৮ নভেম্বর ২০১৬, ১৯:২৩

অনলাইন ডেস্ক
ADVERTISEMENT

টস জিতে ব্যাট করতে নেমেই বিপর্যয়ের মুখে পড়ে রাজশাহী কিংস। একের পর এক ব্যাটসম্যানরা বিদায় নেয়ার পর দলের হাল ধরেন ফরহাদ রেজা ও মেহেদী হাসান মিরাজ। 

সোমবারের একমাত্র খেলায় মাত্র ৪৩ রানে ৭ উইকেট হারায় রাজশাহী। দলের রান ১০০ পার হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় সৃষ্টি হয়। সেই মুহূর্তে দলের হাল ধরেন ফরহাদ রেজা এবং মেহেদী হাসান মিরাজ। রংপুরের বোলারদের উপর চড়াও হয়ে ৬৪ বলে অপরাজিত ৮৫ রানের জুটি গড়েন দুজন। তাদের কল্যাণে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে  ১২৮ রান সংগ্রহ করে রাজশাহী।

মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে রাজশাহীর এই করুণ পরিণতির পেছনে মূল ভূমিকা রাখেন রংপুরের স্পিনাররা। আরাফাত সানি আর শহীদ আফ্রিদির ঘূর্ণিতে ধস নামে স্যামিদের ইনিংসে। দলীয় ২ রানেই প্রথম উইকেটের পতন ঘটে রাজশাহীর। রুবেল হোসেনের বলে উইকেটকিপার মোহাম্মদ শেহজাদের গ্লাভসে ধরা পড়েন জুনায়েদ সিদ্দিকী (২)। এরপর জুটি গড়ার চেষ্টা করেন মমিনুল হক এবং সাব্বির রহমান। দুজনে মিলে ২৩ রান যোগ করতেই আরাফাত সানির ঘূর্ণিতে প্যাভিলিয়নে ফিরেন মমিনুল। ১২ বলে ১ বাউন্ডারিতে ৯ রান করা মমিনুল আরাফাত সানির হাতেই ক্যাচ দেন। দুই রানের ব্যাবধানে আবারও সানির আঘাত। শেহজাদের হাতে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন সামিট প্যাটেল (২)।

এখানেই শেষ নয়, দলীয় ৩৩ রানে আবুল হাসানকে নাসির জামসেদের ক্যাচে পরিণত করেন সানি। ৬ বলে ২ রান করেছিলেন আবুল হাসান। সতীর্থদের যাওয়া আসার মিছিলে উইকেটের একপ্রান্ত আগলে রাখেন সাব্বির। স্কোরবোর্ডে আর ৩ রান যোগ হতেই মঞ্চে আবির্ভাব ঘটে শহীদ আফ্রিদির। তার ঘূর্ণিতে বোল্ড হয়ে যান তার স্বদেশী উমর আকমল (১)। এরপর আঘাত হানেন লিয়াম ডসন। রাজশাহী অধিনায়ক স্যমিকে ৫ রানেই বোল্ড করে প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠান তিনি। দলের আশা-ভরসার প্রতীক হয়ে তখনও উইকেটে সাব্বির রহমান। কিন্তু বেশিক্ষণ থাকতে পারেননি। শহীদ আফ্রিদির লেগ বিফোর উইকেটের আবেদনে সাড়া দেননি আম্পায়ার। কিন্তু কথা চালাচালির এক পর্যায়ে থার্ড আম্পায়ারের ডাক পড়ে। ২০ বলে ২ বাউন্ডারিতে ১৬ রান করে ফিরে যান সাব্বির।

১০০ রানের নিচে অলআউট হয়ে যাওয়ার শংকায় পড়ে রাজশাহীর ইনিংস। কিন্তু নাটকের আরও বাকী। ব্যাট হাতে দলের হাল ধরেন দুই টেল এন্ডার ফরহাদ রেজা আর মেহেদী। দুজনে মিলে ৪৯ বলে ৫০ রানের জুটি গড়ে এগিয়ে যেতে থাকেন। বলও সমান তালে কখনও মাটি কামড়ে কখনও বাতাসে ভেসে পার হতে থাকে সীমানারেখা। ২০ ওভার শেষে ৩৩ বলে ৩ চার এবং  ১ ছক্কায় ৪১ রানে অপরাজিত থাকেন মেহেদী। আর ৩২ বলে ২ চার এবং ২ ছক্কায় ৪৪ রানে অপরাজিত থাকেন ফরহাদ রেজা।