সারা বিশ্বে ইন্টারনেট স্বাধীনতা কমেছে

প্রকাশ : ২৮ নভেম্বর ২০১৬, ১০:৫১

অনলাইন ডেস্ক
ADVERTISEMENT

বিভিন্ন দেশের সরকার সামাজিক মিডিয়া ও মেসেজিং অ্যাপ্লিকেশনের ওপর নিষেধাজ্ঞার পরিধি বাড়াচ্ছে, যা ইন্টারনেট স্বাধীনতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সম্প্রতি মার্কিন গবেষণা ও মানবাধিকার সংগঠন ফ্রিডম হাউজ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমন তথ্যই বেরিয়ে এসেছে।

ফ্রিডম হাউজের ‘ফ্রিডম অন দ্য নেট’ শীর্ষক প্রতিবেদন অনুযায়ী, টানা ছয় বছর ধরে ওয়েব ব্যবহারকারীদের অনলাইন স্বাধীনতা হ্রাসের ধারা অব্যাহত রয়েছে। বিশ্বব্যাপী ৬৫টি দেশে অনলাইনে প্রবেশাধিকার, সেন্সরশিপ ও নজরদারির ওপর ভিত্তি করে এ প্রতিবেদন তৈরি করেছে। হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন যোগাযোগ অ্যাপ ও সোস্যাল মিডিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা বাড়ায় ধারাবাহিকভাবে ইন্টারনেট স্বাধীনতা কমছে বলে মনে করা হচ্ছে।

ফ্রিডম হাউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিভিন্ন প্রতিবাদ  দমন বা জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে ইনস্ট্যান্ট যোগাযোগ অ্যাপ ও কলিং প্লাটফর্মের সেবায় বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। এ ধরনের ঘটনা এখন নিয়মিতই দেখা যায়।

২০১৫ সালের ১ জুন থেকে শুরু করে চলতি বছরের ৩১ মে পর্যন্ত সময়ে ২৪টি দেশে সোস্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম ও ইন্টারনেটভিত্তিক যোগাযোগ অ্যাপে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অথচ ফ্রিডম হাউজের এর আগের বছরের প্রতিবেদন অনুযায়ী ১৫টি দেশে এ ধরনের সেবায় প্রবেশ  নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।

‘ফ্রিডম অন দ্য নেট’ শীর্ষক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোস্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম ও যোগাযোগ অ্যাপগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি নিষিদ্ধের শিকার হয়েছে হোয়াটসঅ্যাপ। বিশ্বব্যাপী অন্তত ১২টি দেশে এ অ্যাপ ব্লক বা এর বেশকিছু ফিচারে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। জনপ্রিয় এ ধরনের সেবায় নিয়ন্ত্রিত প্রবেশাধিকার দিয়ে কর্মী ও ভিন্নমতাবলম্বীদের সংগঠিত হওয়া থেকে   বিরত রাখা হয়।

ফ্রিডম হাউজের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উগান্ডাকে উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে লক্ষ্য করে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে হোয়াটসঅ্যাপ, টুইটার ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ব্লক করার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারদের। সর্বশেষ গত মে মাসেও দেশটির নতুন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণকে কেন্দ্র করে এ ধরনের জনপ্রিয় যোগাযোগ মাধ্যমগুলোয় প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়।

একইভাবে জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রাম বাহরাইনে বেশ কয়েক দিনের জন্য বন্ধ করা হয়েছিল। এর সবই করা হয়েছে ক্ষমতাসীন দলের স্বার্থ চরিতার্থ ও বিরোধীদের দাবিয়ে রাখতে।

হোয়াটসঅ্যাপের মতো আরো কিছু যোগাযোগ অ্যাপ বিভিন্ন দেশের সরকারের নজরদারিতে পড়ার গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি কারণ হলো সেবাগুলোর এনক্রিপশন প্রযুক্তি। গ্রাহক নিরাপত্তার স্বার্থে এ প্রযুক্তি ব্যবহার করায় অ্যাপগুলোর মাধ্যমে কী ধরনের তথ্য আদান-প্রদান করা হয়, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট তথ্য উদ্ঘাটন সম্ভব হয় না। এনক্রিপশন নিয়েও বিভিন্ন সময় ছোট অজুহাতে হোয়াটসঅ্যাপের মতো সেবা ব্লক করা হচ্ছে।

জানা যায়, মামলা তদন্তের স্বার্থে ব্রাজিলের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হাতে এনক্রিপ্টেড যোগাযোগ তথ্য দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ২০১৫-১৬ সালের মধ্যে স্থানীয় আদালত দেশটিতে তিনবার হোয়াটসঅ্যাপ ব্লক করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এক্ষেত্রে হোয়াটসঅ্যাপের প্যারেন্ট কোম্পানি ফেসবুকের দাবি কোনোভাবেই আমলে নেয়নি ব্রাজিলের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ফেসবুকের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের যে ধরনের তথ্য আদালতের পক্ষ থেকে চওয়া হয়েছে, তাতে তাদের প্রবেশাধিকার নেই। গত বছরের প্রতিবেদনে ব্রাজিল ফ্রি ইন্টারনেট দেশের তালিকায় থাকলেও চলতি বছর আংশিক ফ্রি ইন্টারনেট দেশের তালিকায় স্থান পেয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, জনপ্রিয় যোগাযোগ অ্যাপগুলোর সেবা ব্লক করার ক্ষেত্রে আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে। তা হলো, এ ধরনের সেবাগুলোর কারণে বিভিন্ন দেশের সরকার পরিচালিত বা ব্যক্তিগত টেলিযোগাযোগ কোম্পানিগুলোর মুনাফা কমছে।