এরশাদের মামলা প্রত্যাহারের দায়িত্ব রওশনের

প্রকাশ : ২৮ নভেম্বর ২০১৬, ২০:০৯

অনলাইন ডেস্ক
ADVERTISEMENT

দলের চেয়ারম‌্যান এইচ এম এরশাদের মামলা প্রত‌্যাহারের বিষয়ে কথা না বলায় সভায় তৃণমূল নেতাদের ক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছে জাতীয় পার্টির জ‌্যেষ্ঠ কো-চেয়ারম‌্যান রওশন এরশাদকে।

সোমবার রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে ওই সভায় ক্ষোভের মুখে পড়ে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি বলেন, এরশাদের বিরুদ্ধে এত মামলায় স্ত্রী হিসেবে কষ্ট তারই বেশি।

সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা রওশন দলীয় কর্মসূচিতে নিয়মিত না হলেও ১ জানুয়ারিতে দলের সমাবেশ সফলে কেন্দ্রীয় ও জেলা কমিটির নেতাদের এই যৌথসভায় স্বামী এরশাদের সঙ্গে ছিলেন।

সভা মঞ্চে মধ‌্যে বসা এরশাদের এক পাশে ছিলেন স্ত্রী রওশন, অন‌্য পাশে ছিলেন ভাই ও দলের কো-চেয়ারম‌্যান জি এম কাদের।

সভায় বক্তব‌্যের শুরুতে রওশন বলেন, আমরা কারও ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার হব না।

এরপর দেশে বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরতে থাকেন তিনি।

এ সময় মঞ্চের পেছন থেকে দলের নেতারা এরশাদের মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে কিছু বলতে বলেন। কিন্তু তা উপেক্ষা করে দেশের বেকার সমস্যা নিয়ে কথা বলতে থাকেন তিনি।

এ সময় সভায় উপস্থিত জেলার নেতারা ক্ষুব্ধ হয়ে হৈ চৈ শুরু করেন। এরশাদের উপস্থিতিতে কিছুক্ষণ বিশৃঙ্খল অবস্থা চলার পর মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমীন হাওলাদার সবাইকে শান্ত করেন।

এরপর রওশন বলেন, আমি তোমাদের দুঃখ ও আবেগ বুঝি। তার (এরশাদ) মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে আমি না হলেও একশবার বলেছি। উত্তরে প্রধানমন্ত্রী শুধু (প্রত্যাহার) করব করব বলে আশ্বাস দেন। তোমরা তোমাদের নেতার জন্য কষ্ট পাও, কিন্তু সে তো আমার স্বামী। আমার স্বামীর বিরুদ্ধে এতগুলো মামলা। তার কষ্ট আমার চেয়ে বেশি আর কে বুঝবে, আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন তিনি।

এরপর তিনি বলেন, আজ এই যৌথ সভায় আমি কথা দিলাম দলের চেয়ারম্যানের মামলা প্রত্যাহারের দায়িত্ব আমার। এর জন্য যা যা করার প্রয়োজন হয়, আমি তাই করব।

এ সময় এরশাদ বলেন, তোমরা শান্ত হও। তোমাদের ভালবাসায় আমি মুগ্ধ। তোমরা আমাকে এত ভালবাস....আমার জীবন সার্থক।

এই সভায় জাতীয় পার্টির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, দেলোয়ার হোসেন, মুজিবুল হক চুন্নু, সাহিদুর রহমান টেপা, সুনীল শুভ রায় উপস্থিত ছিলেন।

বিরোধীদলীয় নেতা রওশনসহ মন্ত্রিসভায় জাতীয় পার্টির সদস‌্যদের সঙ্গে এরশাদের দলের অন‌্য নেতাদের দ্বন্দ্ব রয়েছে। ভাই জি এম কাদেরও সরকারে না থাকার পক্ষপাতি।

মিয়ানমারে নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর কীভাবে অত্যাচার হচ্ছে? অথচ বিশ্ব বিবেক আজ চুপ। কিন্তু আমরা চুপ থাকতে পারি না। সরকারের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি, এই অসহায় রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিন। আমাদের দেশে ১৭ কোটি মানুষ আছে, না হয় আরও ৫০ লাখ বাড়ল।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছে।

তবে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার ৫ লাখের বেশি রোহিঙ্গার ভার বহনের মধ‌্যে নতুন করে আর শরণার্থী না নেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তাই সীমান্তে আশ্রয়প্রার্থী রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো হচ্ছে।  

রোহিঙ্গাদের দুরবস্থার কথা বলতে গিয়ে নিজের অতীত স্মরণ করে এরশাদ বলেন, আমার স্ত্রীকে বিনা দোষে তিন বছর কারাগারে রেখে দিয়েছিল, সাথে মাসুম শিশুটিও ছিল। ডিভিশন চাওয়া হয়েছিল, দেয়নি।

জেলে থাকার কারণে ছেলেকে স্কুলে ভর্তি করাতে পারিনি। যথাসময়ে ছেলেকে স্কুলে ভর্তি করাতে পারিনি বলে ভাল স্কুলে ভর্তি নেয়নি আমার ছেলেকে। আমার ছেলের জীবনটা ধ্বংস হল শুধু এই অন্ধকার কারাগারে থাকার কারণে।

হাঙ্গেরি সফরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী বিমানের যান্ত্রিক ত্রুটিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত এরশাদ।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশের বাইরে যাওয়ার সময় তার বিমান খারাপ হয়, এমন ঘটনা অতীতে কখনও শুনিনি। ইতিহাসে এমন ঘটনা ঘটেছে বলেও আমার জানা নেই। প্রধানমন্ত্রী যে বিমানে সফর করবেন সেই বিমান বিকল হতে পারে না। কেন এমন হল? যদি খারাপ কিছু হয়ে যেত।

রোববার হাঙ্গেরি সফরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী বিমানের উড়োজাহাজে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়েছিল বলে চার ঘণ্টা তুর্কমেনিস্তানে যাত্রাবিরতি করতে হয়।

এরশাদ বলেন, দুর্নীতি আর প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণেই এমন ঘটনা ঘটেছে। অবিলম্বে দোষীদের চিহ্নিত করুন। দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন।