মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার আহ্বান খালেদা জিয়ার

প্রকাশ : ২৭ নভেম্বর ২০১৬, ২০:৩৯

অনলাইন ডেস্ক
ADVERTISEMENT

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, গণহত্যার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে স্বাধীনতা অর্জনকারী জাতি হিসেবে জীবন রক্ষায় আশ্রয়প্রার্থী রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মানবিক কারণে যত দূর সম্ভব আশ্রয় দেওয়ার জন্য আমি যথাযথ কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

বাংলাদেশের পাশাপাশি প্রতিবেশী অন্যান্য দেশ ও মুসলিম বিশ্বের প্রতিও একই আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। রোববার গণমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে খালেদা জিয়া এ আহ্বান জানান। বিবৃতিতে খালেদা জিয়া মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চির ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করেন।

খালেদা জিয়া বলেন, শরণার্থীদের আশ্রয় ও সাহায্য দেওয়ার মধ্যেই কোনো সমাধান নেই। রোহিঙ্গারা যাতে স্থায়ীভাবে দেশে ফিরে পূর্ণ নাগরিক অধিকার নিয়ে নিজ মাতৃভূমিতে বসবাস করতে পারে, সেই নিশ্চয়তা বিধানকল্পে বাংলাদেশসহ সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলোকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বলিষ্ঠ কূটনৈতিক উদ্যোগ নিতে হবে।

খালেদা জিয়া বলেন, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে পরিচালিত হত্যাযজ্ঞ ও বর্বরতা সব সময়ই নিকট প্রতিবেশী হিসেবে বাংলাদেশকে স্পর্শ করেছে। ঘনবসতিপূর্ণ এবং লোকসংখ্যার অনুপাতে বাসযোগ্য জমির ক্রমসংকোচনের এ দেশে এখনো অনেক রোহিঙ্গা শরণার্থী আগে থেকেই আশ্রয় নিয়ে আছে। এতে আমাদের সামাজিক অনেক সমস্যাও ভোগ করতে হচ্ছে। তা সত্ত্বেও গণহত্যার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে স্বাধীনতা অর্জনকারী জাতি হিসেবে জীবন রক্ষায় আশ্রয়প্রার্থী রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মানবিক কারণে যত দূর সম্ভব আশ্রয় দেওয়ার জন্য আমি যথাযথ কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চালানো হচ্ছে উল্লেখ করে উৎকণ্ঠা প্রকাশ করে খালেদা জিয়া বলেন, দুঃখের বিষয় হচ্ছে, কোনো সামরিক জান্তা নয়, শা‌ন্তিতে নোবেল বিজয়ী এবং গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত অং সান সু চির নেতৃত্বে পরিচালিত মিয়ানমারের প্রশাসনই এ অমানবিক সন্ত্রাসী কার্যকলাপের হোতা; যিনি নিজে দীর্ঘকাল নির্যাতিত হয়েছেন। 

খালেদা জিয়া অবিলম্বে এই ‘জেনোসাইড’ বন্ধের জন্য মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

বিশ্ব সম্প্রদায়ের উদ্দেশে খালেদা জিয়া বলেন, প্রতিটি মানবতাবাদী রাষ্ট্রের সরকার, বিশেষ করে মুসলিম বিশ্ব, জাতিসংঘ, ওআইসিসহ প্রতিটি আন্তর্জাতিক সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের প্রতি আমার আহ্বান, কেবল কথামালা নয়, রোহিঙ্গাদের রক্ষায় বলিষ্ঠ এমন পদ‌ক্ষেপ নিয়ে এগিয়ে আসুন, যাতে মিয়ানমার সরকার গণহত্যার কালো হাত গুটিয়ে নিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং অপরাধীদের শাস্তিবিধানে বাধ্য হয়।