বদরুল আলম মজুমদার

  ১৭ নভেম্বর, ২০১৬

সরকারের ‘ফাঁদে’ পা দেবে না বিএনপি

বিএনপি বিভিন্ন ইস্যুতে চরম অবস্থান নিলেও হেঁয়ালি ভাব দেখাচ্ছে সরকার। সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের মন্ত্রী-এমপিরা বিএনপিকে নিয়ে নানান মন্তব্য করছেন। এমনভাবে আক্রমণ করা হচ্ছে, যাতে খেপে যান দলটির শীর্ষ নেতারা। বিএনপি নেতাদের মতে, সম্প্রতি সরকার নির্বাচন কমিশন গঠন, বিএনপির সমাবেশ, শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন করা, ৪১ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় থাকাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে বিএনপিকে জড়িয়ে উসকানিমূলক কথাবার্তা বলছে। সরকারের উদ্দেশ্য হচ্ছে, যেনতেনভাবে বিএনপিকে মাঠে নামিয়ে আবার মামলা হামলায় পর্যুদস্ত করা। সরকারের লক্ষ্য অগোছালো বিএনপিকে অস্থির করে রাখা। যাতে সরকারের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো কৌশল গ্রহণে ব্যর্থ হয় বিএনপি। সরকার ভাবছে বিএনপিকে ব্যস্ত রেখে নিজেদের মতো নির্বাচন কমিশন গঠন করা। নেতাদের মতে, যতই উসকানিমূলক কথা বা কাজ সরকারের পক্ষ থেকে করা হোক না কেন, আপাতত সে ফাঁদে পা দেবে না বিএনপির হাইকমান্ড।

দলের একটি সূত্র জানায়, সরকার চাইছে যেভাবে হোক বিএনপিকে একটি হটকারী আন্দোলনের পথে নিয়ে যাওয়া। সরকারি দলের নেতাদের সাম্প্রতিক সময়ের কথা-বার্তায় এমনটাই প্রকাশ পাচ্ছে বেশি। সোহরাওয়ার্দী মাঠে সমাবেশের ঢাক দেওয়াকে উপলক্ষ করে সরকার সে পথেই হাঁটছে। তা ছাড়া বিভিন্ন সময়ে সরকারের ক্ষমতায় থাকার হুঙ্কার, খালেদাকে সাজা দেওয়ার পরিকল্পনা, বিএনপির আন্দোলনে মুরদ নেই, নির্বাচনে ১০টি আসনও পাবে না, তত্ত্বাবধায়ক সরকার কবরে চলে গেছে, হাসিনার অধীনে নির্বাচনে যেতে হবে—এমন নানান কথা বলছে বিএনপিকে খেপিয়ে তুলতে। তা ছাড়া সমাবেশের তিন ঘণ্টা আগে অনুমতি দিয়েও বিএনপির সঙ্গে তামাশা করেছে সরকার। সরকার চায়, ক্ষুব্ধ বিএনপি যাতে একটি কর্মসূচির দিকে হাঁটে। কেননা, সরকারি দল মনে করে বিএনপি বর্তমানে যেভাবে আগাচ্ছে তাতে তাদের ছত্রভঙ্গ করতে না পারলে নির্বাচনের আগে আগে বড় প্রতিরোধের মুখে পড়তে পারে সরকার। এমন চিন্তা থেকে সরকারি দলের নেতারা আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিচ্ছেন।

এর আগে বিএনপি আড়াই মাস টানা আন্দোলনের নামে সহিংস কর্মকাণ্ড ঘটায়। বিএনপি জোটের অন্যতম শরিক জামায়াত সে সময় আন্দোলনে ইন্ধন জুগিয়ে ছিল। যে আন্দোলনটি ছিল সহিংসতায় পূর্ণ। জামায়াতের ইন্ধনের পেছনে প্ররোচনা জুগিয়েছে বিএনপির কিছু নেতাও। তাই এবার সেই জামায়াত প্রভাবিত নেতাদের কথায়ও আগে বাড়তে চান না বিএনপিপ্রধান।

অন্যদিকে সরকার যতই চেষ্টা করুক আপাতত কোনো হটকারী রাজনৈতিক কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত হতে চাইছে না বিএনপি। এজন্য সাবধানে পা ফেলছেন দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। বেগম জিয়ার এখন একটাই লক্ষ্য তা হলো, আপাতত কোনো ঝামেলায় ফেলবে না দলকে। দীর্ঘ মামলা-হামলা থেকে দলের নেতারা এখন কিছুটা ফ্রি মুভমেন্ট করতে পারছেন। এ সুযোগে ঠাণ্ডা মাথায় এগিয়ে যেতে চান তিনি। তার লক্ষ্য একটাই—কৌশলে সরকারকে চাপ দিয়ে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন ও আগামী জাতীয় নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি করা।

দলের নেতারা জানান, বিএনপির এখন প্রধান কাজ হচ্ছে একটি গ্রহণযোগ্য নতুন জাতীয় নির্বাচন আদায় করা। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে কাজ করছি আমরা। নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন ও আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে একটি রূপরেখা এরইমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে। দু-এক দিনের মধ্যে দলের স্থায়ী কমিটিতে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। এরপর দলীয় প্রধান সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিএনপির রূপরেখা তুলে ধরবেন জাতির সামনে। এমন একটি অবস্থার মধ্যে সরকার বিএনপিকে কৌশলে সংঘাতের পথে ঠেলে দিতে চাচ্ছে।

বিএনপির এক নীতিনির্ধারক বলেছেন, আমরা মনে করি সরকার অপকৌশলের আশ্রয় নিয়ে মানুষের দৃষ্টি সরিয়ে ফাঁকা মাঠে তাদের পছন্দমতো নির্বাচন কমিশন গঠনের পাঁয়তারা করছে। এজন্যই বিএনপির সমাবেশ নিয়ে এত বাড়াবাড়ি করেছে তারা। ওই নেতা বলেন, বিএনপি আপাতত সেই সংঘাতের দিকে যাবে না। বিএনপির এ মুহূর্তে প্রধান লক্ষ্য সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন করা। সরকার বিএনপিকে বেকায়দায় রেখে আগাম নির্বাচন দিতে চেষ্টা করবে। এজন্য সরকার পর্যবেক্ষণ করছে বিএনপিকে। বিএনপি নেতারা জানান, তাদের ভবিষ্যৎ রাজনীতির কর্মকৌশল চূড়ান্ত করা হচ্ছে আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে। তাই কোনোভাবেই নির্বাচনে না যাওয়ার মতো ভুল আর করতে চায় না। তাই গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের দিয়ে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনে বিএনপি ভূমিকা রাখতে চায়। সেই চিন্তা মাথায় রেখে বিএনপি এমন দাবি চূড়ান্ত করছে, যা দেশ-বিদেশে অবশ্যই গ্রহণযোগ্য হবে।

সম্প্রতি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন ও আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের অবস্থান পরিষ্কার করতে একটি রূপরেখা প্রণয়নের কাজে হাত দেয়। ভবিষ্যৎ নির্বাচন কমিশন ও জাতীয় নির্বাচন কীভাবে হবে, নির্বাচনের পরিবেশ কেমন থাকবে, নির্বাচনকালীন সরকারসহ সার্বিক বিষয় তুলে ধরে একটি প্রস্তাবনা এখন তৈরি। আগামী শুক্রবার দলীয় প্রধান সংবাদ সম্মেলন করে সেই রূপরেখার ঘোষণা দেবেন।

নির্বাচনী রূপরেখার সঙ্গে যুক্ত বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সরকারের নেতারা যেভাবে কথা বলছেন তা বিএনপিকে খেপিয়ে তোলা ছাড়া আর কিছু নয়। আওয়ামী লীগের মুখপাত্র মো. নাসিম সেদিন বললেন, ‘পারলে পুলিশের অনুমতি ছাড়া সভা করে দেখাতে।’ উনি বলবেন আর আমরা নেমে যাব এমন তো বোকা আমরা নয়। উনারা কী মনে করেন, ১০০ বছর ক্ষমতায় থাকবেন। পৃথিবীর সব স্বৈরশাসকেরা এমনই বলতেন। বিএনপি সবকিছু বুঝে। আর বুঝেশুনেই কাজ করছে বিএনপি। কখন কী করতে হবে এটা আমরা ভালো করেই জানি। আসলে সরকারের দেউলিয়াত্ব প্রকাশ পাচ্ছে তাদের কথাবার্তায়।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
বিএনপি,নির্বাচন কমিশন,জাতীয় নির্বাচন,নির্বাচনী রূপরেখা,রাজনীতি
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Error!: SQLSTATE[42S02]: Base table or view not found: 1146 Table 'protidin_sangbad.news_hits_counter_2020_04_07' doesn't exist
Error!: SQLSTATE[42S02]: Base table or view not found: 1146 Table 'protidin_sangbad.news_hits_counter_2020_04_07' doesn't exist