কাজের জায়গায় নম্র হলে ক্যারিয়ারের উন্নতি হবে

প্রকাশ : ২৬ নভেম্বর ২০১৬, ১১:৪১

অনলাইন ডেস্ক
ADVERTISEMENT

কাজের জায়গায় নিজের ঢাক নিজে পেটানোর অভ্যেস বদলানোর সময় এসেছে৷ কারণ, আপনার পারফর্ম্যান্সের বিচার করতে গিয়ে এই ঢাকের আওয়াজ আর অতিরিক্ত মাত্রা যোগ করবে না৷ তাই যত কম নিজের সম্পর্কে বলবেন, ততই আপনার সুবিধে৷ এতদিন অফিসে আপনার এই ধরনের আচরণ নিজের ক্যারিয়ারের উন্নতির পক্ষে সহায়ক ছিল, কিন্তু আসলে এই সব কিছুই ছিল আপনার সহকর্মীদের অপছন্দের৷ এখন কর্মক্ষেত্র চাইছে কর্মচারীদের নম্র আচরণ৷ পারফর্ম্যান্স ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম আপনার কাছে এই ব্যবহারই আশা করছে৷

১.৩ বিলিয়ন ডলার দামি পিরামল গ্রুপ তাদের কর্মীদের উন্নতির জন্য ব্যবহার বিধিতে নম্রতাকে প্রথম স্থানে রেখেছে৷ সংস্থার এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর নন্দিনী পিরামল জানিয়েছেন, 'আমাদের পারফর্ম্যান্স ম্যানেজমেন্ট প্রসেস স্থির করেছে কর্মীদের নম্র স্বভাব হবে উন্নতির সহায়ক৷ এছাড়াও যার মধ্যে এই ব্যবহার বিধি দেখা যাবে তেমন কর্মীদেরই আমরা ভবিষ্যতে নিয়োগ করব৷ আমাদের ভবিষ্যত্ সাফল্য নির্ভর করবে আমাদের এই মূল্যবোধের ওপর৷ তাই আমরা এই সব মূল্যবোধকে তুলে আনতে চাইছি কর্মীদের দৈনন্দিন ব্যবহারবিধির মধ্যে৷ আর এই ব্যবহারবিধিই কর্মীদের উন্নতির দিকে নিয়ে যাবে৷'

এই সদগুণের প্রতি নির্ভরতা এসেছে সেই ভাবনা থেকে যে ভাবনার মূল কথা হল নম্রতা কখনও কোনও ব্যক্তিকে তার নির্দিষ্ট লক্ষ্য থেকে সরিয়ে আনতে পারে না৷ তাই প্রতিটি সংস্থাই এখন প্রায় সমান জোর দিচ্ছে একই সঙ্গে কঠিন লক্ষ্য স্থির করা এবং নরম ব্যবহার৷


প্রখ্যাত টেক্সটাইল সংস্থার গুজরাট হেভি কেমিক্যালস-এ একটি সাম্প্রতিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওয়ার্কশপে জোর দেওয়া হয়েছে কর্মীদের মধ্যে নম্র ব্যবহারের প্রতি৷ সেখানে কর্মীদের জানানো হয়েছে কীভাবে নম্র হওয়া সম্ভব এবং নম্রতা কীভাবে তাদের ক্যারিয়ারের পক্ষে জরুরি৷ সংস্থার ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং এইচআর প্রধান রাজেশ ত্রিপাঠি বলেছেন, 'আমরা কর্মীদের মধ্যে আত্মবিশ্বাসের সমর্থক৷ কিন্তু তার মানে এই নয় আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে অহংবোধ যোগ থাকবে৷ অহং থাকলে নম্র হওয়া সম্ভব নয়৷ আমরা এটা চাই না৷ আমরা চাই কর্মীদের ব্যবহারের মধ্যে যেন নম্রতা থাকে৷'

তবে এটা সত্যি কথা কর্মীদের নম্রতা মাপার এখনও পর্যন্ত কোনও মাপ কাঠি তৈরি হয়নি৷ কিন্তু প্রতিটি সংস্থাই জোর দিচ্ছে ব্যবহার বিধিতে নম্র থাকার৷ হিন্দুস্তান ইউনিলিভার চাইছে কর্মীদের মধ্যে 'টিম ওয়ার্ক' ভাবনা যত বেশি চালু হবে, তত বেশি কর্মীরা নম্র হয়ে উঠবেন৷ সংস্থার এইচআর ডিরেক্টর বিপি বিদ্দাপ্পা বলেছেন, 'সংস্থায় কর্মীরা যদি বিনীত থাকেন তাহলে কর্মক্ষেত্রে শান্তি বজায় থাকে৷ দাম্ভিকতা এবং ঔদ্ধত্য প্রমাণ করে সেই কর্মীর মধ্যে যথেষ্ট নিরাপত্তার অভাব রয়েছে৷' গত বছর হিন্দুস্তান ইউনিলিভার তাদের কর্মীদের জন্য ক্যাজুয়াল পোশাকে কাজ করার অনুমতি দিয়েছেন৷ তাদের মতে ফ্রি ড্রেস-কোড কর্মীদের মধ্যে কাজের মনোভাব তৈরি করে৷ জেনপ্যাক্ট সংস্থার চিফ লার্নিং অফিসার অমিত আগরওয়াল পরিস্কার জানিয়েছেন, 'কোনও কর্মী যদি বিনয়ী না হয়, তাহলে তার পক্ষে অন্যান্য কর্মীদের সঙ্গে এক যোগে কাজ করা সম্ভব নয়৷ তাই যখন আমরা টিমওয়ার্কের কথা বলছি, তখন মনে রাখতে হবে আমরা কর্মীদের বিনীত হতে বলছি৷'