কত বছর বয়সে বিয়ে করবেন?

প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০১৬, ১৫:৪৮

অনলাইন ডেস্ক
ADVERTISEMENT

বিয়ে করার আদর্শ সময় কোনটি? একটি গাণিতিক তত্ত্ব মতে, বিয়ের সিদ্ধান্ত নেবার জন্য আদর্শ সময়টি হলো ২৬ বছর বয়স। কিন্তু কেন? চলুন দেখি এর কারণটি।

একেক দেশে, একেক সংস্কৃতিতে বিয়ের বয়সের মাঝে রয়েছে ভিন্নতা। আধুনিক দেশগুলোতে বয়স নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামানো হয় না। প্রাপ্তবয়স্ক হবার পর একজন মানুষ কখন বিয়ে করবেন সেটা তার ওপরেই ছেড়ে দেওয়া হয়। বাংলাদেশে আবার দেখা যায় একটি নির্দিষ্ট বয়সের পর পরিবার এবং পারিপার্শ্বিক থেকেই চাপ দেওয়া হয় বিয়ে করার জন্য। একেক জন মানুষের একেক রকমের মনোভাব এ নিয়ে। কেউ ভাবেন কম বয়সেই বিয়ে করা ভালো, কেউ ভাবেন পড়াশোনা শেষ করে বিয়ে করবেন, কেউ ভাবেন চাকরিতে ঢোকার পর, কেউবা আবার ভাবেন বাড়ি-গাড়ি করে এরপর বিয়ে। আপনি যদি কোনো নিয়ম মানতে চান এ ব্যাপারে, তাহলে দেখে নিতে পারেন ৩৭% নিয়মটি।

কী এই নিয়ম? জার্নালিস্ট ব্রায়ান ক্রিস্টিয়ান এবং কগনিটিভ সায়েন্টিস্ট টম গ্রিফিথসের মতে, এই নিয়ম মেনে চললে আপনার সময়ের যথাযথ ব্যবহার হবে। এই নিয়মের মূল বক্তব্য হল, কম সময়ের মাঝে অনেকগুলো উপাদানের মাঝে একটি বাছাই করতে হলে এর ৩৭% উপাদান দেখে নেবার পরপরই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিৎ। বাছাই প্রক্রিয়ার এই পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেবার মতো যথেষ্ট তথ্য আপনার কাছে আছে, কিন্তু খুব বেশি সময় আপনি নষ্ট করেননি। তত্ত্ব অনুযায়ী, এ পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নিলে আপনার বাছাই করা উপাদান হবে সবচাইতে ভালো।

এই তত্ত্বের একটি পুরনো ব্যাখ্যা (১৯৬০ সালে তৈরি করা) হলো “দি সেক্রেটারি প্রবলেম”। এখানে দেখা যায়, আপনি নিজের জন্য একজন সেক্রেটারিকে নিয়োগ দিতে চান । একবার একজন চাকরিপ্রার্থীকে নাকচ করে দিলে আপনি আর তাকে নিয়োগ দিতে পারবেন না। কিন্তু কয়জনের ইন্টারভিউ এভাবে নেবার পর আপনি বুঝতে পারবেন কাকে নিয়োগ দিলে ভালো হবে?

ভেবে দেখুন। আপনার যদি মাত্র তিন জন প্রার্থী থাকে তাহলে দ্বিতীয় জনের ইন্টারভিউ নেবার সময়েই আপনি সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। সে যদি প্রথম জনের চাইতে ভালো হয়, তাকে বাছাই করুন। যদি খারাপ হয় তাহলে অপেক্ষা করুন, দেখুন পরের জন্য কেমন। পাঁচজনের মাঝে বাছাই করতে হলে তৃতীয় প্রার্থীর সময়ে সিদ্ধান্ত নিন।

আপনি যদি ১৮ থেকে ৪০ বছর বয়সের মাঝে প্রেম করেন তবে ২৬ বছর বয়সে বিয়ে করার জন্য উপযুক্ত পাত্র/পাত্রীর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া শ্রেয়। এর আগে সিদ্ধান্ত নিলে আপনি হয়তো আপনার জন্য উপযুক্ত মানুষ খুঁজে নাও পেতে পারেন। কিন্তু এর পরে ভালো সুযোগ নাও আসতে পারে।

সফল বিবাহিত জীবনের ওপর করা গবেষণাগুলোতেও ২৬ বছর বয়সটাকে সমর্থন করা হয়েছে। ইউনিভার্সিটি অফ উটাহ এর সোশিওলজিস্ট নিকোলাস এইচ উলফিঙ্গার দেখেন, বিচ্ছেদ এড়াতে গেলে বিয়ে করা উচিৎ ২৮-৩২ বছর বয়সের মাঝে। ২৬ বছর বয়সে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললে এই সময়ের মাঝে বিয়ে করাটা সহজ হয়।

৩৭% নিয়মটা একেবারে নিখুঁত নয়। কারণ এটা গাণিতিক নিয়ম, প্রতিটি মানুষ যেহেতু আলাদা তাই প্রত্যেকের জন্য এটা খাটবে সেটা সঠিক করে বলা সম্ভব হয় না। তবে আপনি এই নিয়মটা মাথায় রাখলে আপনার উপকার হবে বই কি।