মমতার বিমানে ত্রুটি, তদন্তের দাবিতে উত্তাল ভারতের সংসদ

প্রকাশ : ০১ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৭:৫৩

অনলাইন ডেস্ক
ADVERTISEMENT

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা ব্যানার্জীর বিমান অবতরণ নিয়ে বৃহস্পতিবার উত্তাল হয়ে উঠল ভারতের সংসদ। সংসদের উভয় কক্ষেই মমতাকে খুনের ষড়যন্ত্র করার অভিযোগ তোলে তৃণমূল কংগ্রেস। মুখ্যমন্ত্রী যে বিমানে ছিলেন, সেখানে জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা কি করে হয়, সে বিষয়ে এদিন প্রশ্ন তোলেন তৃণমূলের সাংসদরা। 

তৃণমূলের পাশাপাশি কংগ্রেস ও বহুজন সমাজবাদী পার্টির সাংসদরাও এই ইস্যুতে সমালোচনায় মুখর হয়েছেন। এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা। লোকসভায় কংগ্রেস দল নেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেন, নোট বাতিলের বিরুদ্ধে মমতা দেশের বিভিন্ন জায়গায় প্রতিবাদ জানাতে যাচ্ছেন। তার জীবন ঝুঁকির মুখে পড়েছে। তার বিমানকেই আগে নামতে দেয়া উচিত ছিল এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (এটিএস) এর।

তবে সমালোচনার জবাবে বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রী জয়ন্ত সিনহা জানান, বুধবার রাতে মুখ্যমন্ত্রী পাটনা থেকে ইন্ডিগোর যে বিমানে করে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেন, তার আগে আরও কয়েকটি বিমান কলকাতার নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের জন্য অপেক্ষা করছিল, এর মধ্যে স্পাইসজেট ও এয়ার ইন্ডিয়ার দুইটি বিমানেও জ্বালানি কম ছিল। মমতা বন্দোপাধ্যায় যে বিমানটিতে ছিলেন সেই ইন্ডিগোর বিমানের পাইলট কলকাতার এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলে (এটিএস) বিমানে জ্বালানি ফুরিয়ে আসার কথা জানান। এরপরেই স্পাইস জেট, এয়ার ইন্ডিয়া এবং ইন্ডিগো বিমানে জ্বালানি কম থাকায় এই তিনটি বিমানকে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে অবতরণের সুযোগ করে দেয়া হয়। 

বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রীর যুক্তি উড়িয়ে দিয়ে তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন বলেন, যাত্রীদের কোন আশঙ্কা না থাকলে বিমানবন্দরে ফায়ার সার্ভিস, চিকিৎসক ও অ্যাম্বুলেন্সসহ সমস্ত এমারজেন্সি ব্যবস্থা তৈরি রাখা হয়েছিল কেন? মুখ্যমন্ত্রীর বিমানে জ্বালানি কম রয়েছে জেনেও, সেটিকে কেন প্রায় আধা ঘণ্টা মাঝ আকাশে চক্কর কাটতে হল?

তবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর দাবি, নির্ধারিত সময়ের থেকে ১৩ মিনিট দেরিতে বিমাটিকে অবতরণ করানো হয়েছে। আর কী করে বিমানে জ্বালানি ফুরিয়ে এল, সে বিষয়েও তদন্ত করে দেখা হবে। 

উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় সরকারের নোট বাতিলের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বুধবার পাটনায় একটি সভা করে রাতের বিমানে কলকাতায় ফিরছিলেন মমতা ব্যানার্জী। রাত ৮ টা নাগাদ বিমানবন্দরে অবতরণের কথা থাকলেও প্রায় ৪০ মিনিট আকাশে চক্কর কাটার পর বিমানটি অবতরণের অনুমতি পায়। এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন মমতা। তার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।