যুক্তরাষ্ট্রের গ্রেট স্মোকি পর্বতমালায় আগুন, নিহত ৭

প্রকাশ : ০১ ডিসেম্বর ২০১৬, ১০:৩৬ | আপডেট : ০১ ডিসেম্বর ২০১৬, ১১:০০

অনলাইন ডেস্ক
ADVERTISEMENT

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের গ্রেট স্মোকি পর্বতমালায় দাবানলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে সাতজনে দাঁড়িয়েছে। দাবানলে বুধবার পর্যন্ত গ্রেট স্মোকি মাউন্টেইন্স ন্যাশনাল পার্কের ভেতরে এবং আশপাশের সব ঘরবাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে যায়, পরে বৃষ্টির সহায়তায় দমকলকর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।

দাবানলে রিসোর্ট টাউন গ্যাটলিনবার্গের অন্তত ৩০০টি বাড়িসহ পুরো সেভিয়ার কাউন্টির সাতশরও বেশি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অথবা পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। মঙ্গলবার কর্তৃপক্ষ মাত্র ১৫০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত অথবা পুড়ে গেছে বলে জানিয়েছিল।

বুধবার বিকেলে সেভিয়ার কাউন্টির মেয়র জানান, আগুনে আটকা পড়া তিন ব্যক্তিকে নিরাপদে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেয়া হয়েছে। ওইদিন সকালে আরো তিনটি মৃতদেহ খুঁজে পাওয়ায় মোট মৃতের সংখ্যা সাতজনে দাঁড়িয়েছে, নিহতদের কাউকেই শনাক্ত করা যায়নি।

টেনেসির স্বাস্থ্য বিভাগ ৪৫ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে। দাবানলে টেনেসির দু্টি ছোট অবকাশযাপন টাউন হুমকির মুখে পড়েছিল। এর একটি গ্যাটলিনবার্গ ও এর আশপাশের প্রায় ১৪ হাজার বাসিন্দা দাবানলের কবল থেকে রক্ষা পেতে পালিয়ে যান।

টাউনটির মেয়র জানিয়েছেন, আগুনে শহরটির প্রায় তিন হাজার বাসিন্দা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। টেনেসির জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, খরার কারণে শুকিয়ে থাকা ঝোপঝাড়ে লাগা আগুন ঘূর্ণিঝড়ের বেগে বয়ে যাওয়া বাতাসে গ্যাটলিনবার্গ ও পিজিয়ন ফোর্জের প্রান্ত পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।

নিকটবর্তী টাউন পিজিয়ন ফোর্জের ঘরবাড়ি ছেড়ে যাওয়া প্রায় ৫০০ বাসিন্দাকে ফেরার অনুমতি দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন দমকল বিভাগের এক মুখপাত্র। পিজিয়ন ফোর্জে যুক্তরাষ্ট্রের কান্ট্রি মিউজিক তারকা ডলি পারটনের মালিকানধীন থিমপার্ক ‘ডলিউড’ পুড়ে যাওয়ার হুমকির মুখে পড়েছিল। এখানকার ১৫০ একরের থিমপার্কটি বুধবার তাদের কার্যক্রম বন্ধ রেখেছিল।

এক টুইটে যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ভয়াবহ এই দাবানল চলাকালে টেনেসির মহান লোকজনের জন্য প্রার্থনা করছি আমি।

ওই এলাকার প্রায় ১২ হাজার বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎবিহীন রয়েছে এবং প্রায় দুই হাজার মানুষ সরকারি শিবিরগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা।