সৌদি নারীরা গাড়ি চালানোর অনুমতি পাবে!

প্রকাশ : ০১ ডিসেম্বর ২০১৬, ০৯:২৬ | আপডেট : ০১ ডিসেম্বর ২০১৬, ১১:৪৪

অনলাইন ডেস্ক
ADVERTISEMENT

সৌদিআরবের একজন প্রভাবশালী রাজপুত্র কোটিপতি বিনিয়োগকারী প্রিন্স আলওয়ালিদ বিন তালাল নারীদের গাড়ি চালানোর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। মেয়েদের অধিকার এবং অর্থনৈতিক প্রয়োজনের স্বার্থেই এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া উচিৎ বলে তিনি মনে করেন।

বিশ্বে সৌদিআরব হচ্ছে একমাত্র দেশ যেখানে মেয়েদের গাড়ি চালানো নিষেধ। এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় সৌদিতে অনেক নারী অধিকার কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। প্রিন্স আলওয়ালিদ বলেছেন, সৌদিআরবে এখন মেয়েদের নিজেদের গাড়ি চালানোর সুযোগ দেয়ার সময় এসেছে।

প্রিন্স আলওয়ালিদকে সৌদি রাজপরিবারের মধ্যে একজন স্পষ্টভাষী সমালোচক বলে গণ্য করা হয়। এরআগেও তিনি মেয়েদের অধিকারের পক্ষে কথা বলেছেন।

তবে সৌদিআরবে তার কোন রাজনৈতিক অবস্থান নেই। তিনি কিংস হোল্ডিং কোম্পানির চেয়ারম্যান। বিশাল মার্কিন ব্যাংক সিটিগ্রুপ এবং ইউরো-ডিজনি থিম পার্ক, টুয়েন্টি ফার্ষ্ট সেঞ্চুরি ফক্স, নিউজ কর্প, অ্যাপল, জেনারেল মোটর্স এবং টুইটারসহ আরও অনেক বড় বড় কোম্পানিতে তার শেয়ার আছে। যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিংস হোল্ডিং কোম্পানি অন্যতম।

প্রিন্স আলওয়ালিদ বলেছেন, একজন মহিলাকে গাড়ি চালাতে না দিলে সেটা তাকে শিক্ষার অধিকার বা স্বাধীন পরিচয় ধারণ করার অধিকার থেকে বঞ্চিত করার মতই একটা ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়।

নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রিন্স আলওয়ালিদের এই বিবৃতি প্রকাশ করেন। সৌদিআরবে মেয়েদের গাড়ি চালানোর ওপর নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরু হয় বিশ বছর আগে।

সৌদিআরবের জনপরিবহন ব্যবস্থাও যেহেতু ভালো নয়, তাই মেয়েদের যাতায়াতের জন্য পুরোপুরি নির্ভর করতে হয় পুরুষ চালকদের ওপর। প্রায় দশ লাখ পুরুষ সৌদিআরবে গাড়ি চালকের পেশায় নিয়োজিত। এদের বেশিরভাগই বিদেশি।

প্রিন্স আলওয়ালিদের হিসেব অনুযায়ী, একটি গড় পড়তা পরিবার প্রতিমাসে একজন গাড়ি চালকের পেছনে প্রায় তিন হাজার আটো রিয়াল বা এক হাজার মার্কিন ডলার খরচ করে। সূত্র: বিবিসি