জাকির নায়েককে ভারতে ধরে নেওয়ার তোড়জোড়

প্রকাশ : ২৬ নভেম্বর ২০১৬, ২০:২৪

অনলাইন ডেস্ক
ADVERTISEMENT

ইসলাম ধর্মের বিতর্কিত প্রচারক জাকির নায়েক বিদেশে গা ঢাকা দিয়েছেন৷ ভারতের তদন্তকারি সংস্থা তাঁকে ধরে নিতে শুরু করেছে ব্যাপক তৎপরতা৷ সন্ত্রাসবাদে প্ররোচনাসহ একাধিক বেআইনি কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে৷ জাকির নায়েক বর্তমানে বিদেশে পালিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন৷ ভারতে ফিরলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হবে এই ভয়েই তিনি বিদেশে আত্মগোপন করে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে৷ দেশে ফেরার কোনো উদ্যোগই তিনি নিচ্ছেন না৷ এদিকে জাতীয় তদন্তকারি সংস্থা এনআইএ হন্যে হয়ে তাঁকে খুঁজে বেড়াচ্ছে৷
কেন তাঁকে গ্রেপ্তার করা হবে? কারণ, অভিযোগ রয়েছে, তিনি ইসলাম ধর্ম প্রচারের নামে সন্ত্রাসবাদে মদত দিয়ে থাকেন৷ তাঁর এজিওগুলি দেশ বিদেশ থেকে পাওয়া আর্থিক অনুদানে বিভিন্ন বেআইনি কার্কলাপে লিপ্ত৷ এসব অভিযোগে আদালতে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে৷ এর প্রেক্ষিতে তদন্তকারী সংস্থা তাঁকে অবিলম্বে দেশে ফেরার জন্য সমন জারি করেছে৷ কিন্তু তিনি ফেরেননি৷
জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা আইএনএ'র কাছে সর্বশেষ খবর, তিনি এখন সৌদি আরবে আছেন৷ তাঁর বিরুদ্ধে এখন জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করতে চলেছে আইএনএ৷ তাতেও যদি কাজ না হয়, তাহলে ইন্টারপোলের ‘রেডকর্ণার নোটিশ' জারি করা হবে৷ আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে তাঁকে ভারতের হাতে তুলে দেবার জন্য বলা হবে সৌদি সরকারকে৷ 
জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে অভিযোগের তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে তাঁর বাসভবন এবং ১০টি এনজিও'র কার্যালয়ে তল্লাসি চালিয়ে কম্পিউটার, ল্যাপটপ, সিডি, ডিভিডি, মোবাইল ফোন, ফাইলপত্র ইত্যাদি এবং নগদ ১২ লাখ টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে৷ এখন জাকিরের এনজিওগুলির টাকাপয়সা কোথা থেকে আসে এবং সেই টাকা কোথায় কিভাবে খরচ করা হয় তা খতিয়ে দেখা হবে৷ দেখা হবে কাদের সঙ্গে হয়ে থাকে আর্থিক লেনদেন, বিনিয়োগ ইত্যাদি৷বিষয়গুলো খুঁটিয়ে পরীক্ষা করতে দিল্লি থেকে তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে যাওয়া হয়৷ যেসব সংস্থায় হানা দেওয়া হয় তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য মুম্বাইয়ের ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশন, হারমনি মিডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড যার অঙ্গ হিসেবে পিস টিভি সম্প্রচার করতো জাকির নায়েকের উগ্রবাদী ইসলামিক ধর্মীয় ব্যাখ্যা৷ এছাড়া সিল করে দেওয়া হয় ইসলামিক ইন্টারন্যাশনাল স্কুল৷ বাতিল করে দেওয়া হয় জাকিরের ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশনের এনজিও লাইসেন্স৷ ‘ফ্রিজ' করে দেওয়া হয় জাকিরের নিজস্ব এবং অন্যসব এনজিওর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট৷ বন্ধ করে দেওয়া হয় জাকির এবং ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইট এবং অন-লাইন পরিষেবা৷
ভারতের শীর্ষ তদন্তকারী এজেন্সির দাবি, ৫০জন জঙ্গিকে আটক করার পর তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা গেছে, তারা ইন্ডিয়ান মুজাহিদিন, সিমির মতো জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে জড়িত৷ এদের মধ্যে আবু আনাস নামে ২৪ বছরের এক মুসলিম যুবক নাকি স্বীকার করেছে সে ইসলামিক রিসার্চ ফাইন্ডেশন থেকে স্কলারশিপের নামে ৮০ হাজার টাকা পায়৷ সেই টাকা দিয়ে সে নাকি ইসলামিক স্টেটে যোগ দিতে সিরিয়া যাবার জন্য তৈরি হচ্ছিল৷ কিন্তু তার আগেই সে গোয়েন্দা সংস্থার হাতে ধরা পড়ে৷ ইসলামিক রিসার্চ অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করে৷
এই বিতর্কিত ধর্মপ্রচারকের বিরুদ্ধে সরকারের কড়া পদক্ষেপ নেবার পেছনে কী কোনো বিশেষ কারণ আছে? জানতে চেয়েছিলাম প্রবীণ সাংবাদিক এ.কে বসুর কাছে৷ উত্তরে উনি ডয়চে ভেলেকে যা বললেন, তার মর্মার্থ হলো, ঢাকার গুলশান ক্যাফের সন্ত্রাসীকাণ্ডের পরই কেন্দ্রের তদন্তকারী সংস্থা জাকির নায়েক এবং ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে উঠে-পড়ে লেগেছে৷
জাকিরের এনজিওগুলি ভারতে অনেকদিন ধরেই তো কাজকর্ম চালিয়ে এসেছে৷ কিন্তু সরকার আগে তো ওদের নিয়ে বিশেষ মাথা ঘামায়নি! গুলশানকাণ্ডে জাকিরের পরোক্ষ প্রভাব রয়েছে বলে ঢাকা দৃঢ় সন্দেহ পোষণ করে এবং বাংলাদেশের মন্ত্রী এবং উচ্চ-আধিকারিকরা দুইবার দিল্লি এসে মোদী সরকারকে সেই বিষয়ে অবহিত করেন এবং যেহেতু জাকির নায়েক ও তাঁর এনজিওগুলি ভারতে সক্রিয়, তাই দিল্লির তরফে কড়া ব্যবস্থা নেবার জন্য মোদী সরকারকে চাপ দেন৷ আর এটা তো সত্যি, সন্ত্রাস দমনে ঢাকা, বিশেষ করে হাসিনা সরকার ও দিল্লি পরস্পরের হাত ধরে চলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ৷ আর এটা করা খুবই দরকার ছিল৷ না করলে দিল্লি-ঢাকা মৈত্রী সম্পর্কে দ্বিচারিতার ছায়া পড়তো৷ দ্বিতীয়ত, ভারত নিজেই তো সন্ত্রাসের বড় শিকার. কাজেই নিজের স্বার্থও জড়িত৷
জাকির নায়েককে কী ভারতে আনা সম্ভব হবে? সেটা বলা এই মূহুর্তে মুশকিল বলে মনে করছেন সাংবাদিক বসু৷ কারণ বহু চেষ্টা করেও দিল্লি এখনও পর্যন্ত মুম্বাই ডন দাউদ ইব্রাহিমকে ভারতে আনতে পারেনি, ক্রিকেট কেলেঙ্কারিতে জড়িত ললিত মোদীকে বিদেশ থেকে আনতে পারেনি এবং হালে বিরাট ব্যবসায়ী বিজয় মাল্যকে দেশে ফেরত আনতে পারেনি শত চেষ্টা সত্বেও৷

সূত্র : ডয়চে ভেলে।