বিপ্লবী কাস্ত্রোর জীবনাবসান

প্রকাশ : ২৬ নভেম্বর ২০১৬, ১১:৩২ | আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০১৬, ১৩:১৭

অনলাইন ডেস্ক
ADVERTISEMENT

কিউবার বিপ্লবী নেতা ফিদেল কাস্ত্রো আর নেই। ৯০ বছর বয়সে শনিবার তার জীবনাবসান ঘটেছে বলে কিউবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে উদ্ধৃত করে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ‌্যমগুলো জানিয়েছে।

ফিদেল কাস্ত্রোর পুরো নাম ফিদেল আলেসান্দ্রো কাস্ত্রো রুজ। জন্ম ১৯২৬ সালের ১৩ আগস্ট। যিনি ফিদেল কাস্ত্রো বা শুধুই কাস্ত্রো নামে পরিচিত। তিনি কিউবান রাজনৈতিক নেতা ও সমাজতন্ত্রী বিপ্লবী। ফেব্রুয়ারি ১৯৫৯ থেকে ডিসেম্বর ১৯৭৬ পর্যন্ত কিউবার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, এবং এরপর ফেব্রুয়ারি ২০০৮-এ তার স্বেচ্ছায় সরে যাওয়ার আগপর্যন্ত কিউবার মন্ত্রীপরিষদের প্রেসিডেন্ট ছিলেন।

তিনি কিউবা কমিউনিস্ট দলের প্রধান হিসেবে ১৯৬১ সালে দলের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ছিলেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে তার দায়িত্ব ভাই রাউল কাস্ত্রোর কাছে অর্পণ করেন। রাউল বর্তমানে কমিউনিস্ট পার্টির সহকারী প্রধান এবং মন্ত্রী পরিষদের প্রধান হিসেবে আছেন। এরআগে তিনি ১৯৫৯-২০০৮ পর্যন্ত ফিদেলের মন্ত্রী সভায় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হিসেবে কাজ করেছেন।

হাভানা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিষয়ে পড়ার সময়, ফিদেল কাস্ত্রো তার রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন। এরপর কিউবার রাজনীতিতে একজন বিখ্যাত ব্যক্তিতে পরিণত হন। ক্যাস্ত্রোর রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় প্রেসিডেন্ট ফালজেন্সিও বাতিস্তা এবং কিউবার উপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক প্রভাবের বিরুদ্ধে জাতীয়তাবাদী সমালোচনা নিবন্ধ লিখে। তিনি এ ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে ওঠেন এবং কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সমর্থ হন।

তিনি ১৯৫৩ সালে মনকাডা ব্যারাকে একটি ব্যর্থ আক্রমণ করেন, তারপর কারারুদ্ধ হন ও পরে ছাড়া পান। এরপর তিনি বাতিস্তার সরকার উৎখাতের জন্য সংগঠিত হওয়ার জন্য মেক্সিকো যান। ফিরে এসে ১৯৫৬’র ডিসেম্বরে সরকার উৎখাতে নামেন।

পরবর্তীকালে কাস্ত্রো কিউবান বিপ্লবের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসেন যা যুক্তরাষ্ট্রের মদদে চলা বাতিস্তার স্বৈরশাসনকে ক্ষমতাচ্যুত করে। এর কিছুদিন পরই পর কাস্ত্রো কিউবার প্রধানমন্ত্রী হন। ১৯৬৫ সালে তিনি কিউবা কমিউনিস্ট পার্টির প্রধান হন এবং কিউবাকে একদলীয় সমাজতান্ত্রিক দেশ হিসেবে রূপ দেন। ১৯৭৬ সালে তিনি রাষ্ট্র ও মন্ত্রী পরিষদের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন। তিনি কিউবার সর্বোচ্চ সামরিক পদেও আসীন হন।
২০০৮ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে কিউবার প্রেসিডেন্ট পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। এরপর থেকে তিনি একপ্রকার অবসর জীবন কাটাচ্ছিলেন।