কেন সূর্যের মুখোমুখি হওয়া দরকার?

প্রকাশ : ০১ ডিসেম্বর ২০১৬, ১২:২১

অনলাইন ডেস্ক
ADVERTISEMENT

শীত আসছে। আবহাওয়া শীতল হচ্ছে, দিন ছোট হচ্ছে। এসময় আপনার শরীর প্রয়োজনীয় ভিটামিন ডি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে না তো? সূর্যরশ্মিতে আছে ভিটামিন ডি, এটা আমরা ছোটবেলা থেকেই জেনে এসেছি। কিন্তু সূর্য থেকে প্রায়ই পালিয়ে বেড়াই আমরা। আর শীতের সময় সকালে ঘুম থেকে উঠতেই এত দেরি করে ফেলি যে সূর্যের প্রথম উজ্জ্বল আলোর সাথে আর দেখা হয় না। কাজ শেষ করে বের হতে হতে অস্ত যায় সূর্য। এই সূর্যবিমুখীতা নানান শারীরিক গোলযোগ তৈরি করতে পারে। আসুন জেনে নিই কেন রোজ হওয়া চাই সূর্যের মুখোমুখি-

সূর্যালোক রক্তচাপ কমায়

এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, একটি যৌগ আছে যার নাম নাইট্রিক অক্সাইড, যা রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। আমাদের ত্বক যখন সূর্যের আলোর সংস্পর্শে যায় তখন রক্তের কোষে এই যৌগ নিঃসৃত হতে থাকে। তাই উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা রয়েছে এমন একজন মানুষের উচিত নিয়মিত রোদের সংস্পর্শে যাওয়া। 

ইমিউনিটি বাড়ায় 

ভিটামিন ডি শরীরের ইমিউন সিস্টেম ঠিক রাখার জন্যও বিশেষ ভাবে জরুরি। কারণ এটি ব্যাক্টেরিয়া ধ্বংস করে, ভাইরাস নির্মূল করে। আভ্যন্তরীন কোষকে উজ্জীবিত করে ইমিউন সিস্টেমকে সজীব রাখে।

হাড়ের শক্তি বাড়ায়

সূর্যের আলো যখন সরাসরি আমাদের ত্বকের ওপর পড়ে তখন ভিটামিন ডি৩ তৈরি হয়। এটি ক্যালসিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম শোষণ করতে শরীরকে সাহায্য করে। নতুন একটি গবেষণায় দেখা গেছে, হাড়ের শক্তি বাড়াতে সূর্যরশ্মির সরাসরি অবদান রয়েছে। শরীরে উচ্চ মাত্রার ভিটামিন ডি৩ থাকলে হাড়ের জয়েন্টে ব্যাথা বা হাড় ভাঙ্গার ঝুঁকি কমে আসে।

ত্বকের নানান ব্যাধির সমাধান

সোরিয়াসিস, ব্রণ, এজমা এবং ফাংগাস জাতীয় যে কোন সমস্যায় রোদ যাদুকরী সুরক্ষা দেয়। খেয়াল করে দেখুন শীতের সময় এধরণের সমস্যা বেশী হয়। তাই রোদের স্পর্শ নিন প্রতিদিন, সুরক্ষিত থাকুন।

শ্বাসযন্ত্রের অসুস্থতা কমায়

সূর্যের আলোয় খেলাধূলা করা শিশুরা হাঁপানি এবং অ্যালার্জির সমস্যায় কম ভোগে। কলারাডো বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিট গন্ডে তার গবেষণায় দেখেন ভিটামিন ডি ইমিউন সিস্টেমকে এতটাই সবল করে যে এটি যে কোন ইনফেকশান মোকাবেলা করতে পারে। বড়দের শ্বাসযন্ত্র স্বাবাভিকভাবে সচল রাখে।

হতাশা প্রতিরোধ করে 

সূর্যোজ্জ্বল একটি দিন আপনার মন ভাল রাখে-এটা নিশ্চয়ই খেয়াল করেছেন? আমাদের আবেগ, হতাশা, স্ট্রেস এই সব কিছুর ওপর রৌদ্রের প্রভাব রয়েছে। 

আপনাকে সজাগ রাখে

সূর্যের আলো কার্যক্ষমতা বাড়ায়। সারারাত ঘুম আমাদের শরীরে একধরণের জড়তা তৈরি করে। রোদ সেই জড়তা কাটিয়ে আপনার মস্তিষ্ককে তৈরি করে কাজের জন্য। তাই যদি আরও বেশী কাজ করতে চান সূর্যের সাথে দেখা করুন রোজ।

তাই শীতের এই সময়টা সকালে ঘুম থেকে উঠুন, জগিং করুন, ব্যায়াম করুন। অফিসে কাজের ফাকে কিছুসময়ের জন্য বাইরে হেঁটে আসুন। নিশ্চিত করুন প্রতিদিনই আপনার শরীর যেন সূর্যের সংস্পর্শে আসে।