ডায়রিয়া প্রতিরোধ করুন, সুস্থ থাকুন

প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০১৬, ১১:৪৩ | আপডেট : ১০ আগস্ট ২০১৬, ১১:৪৯

হাবিবুর রহমান
ADVERTISEMENT

‘বন্যা আসে মানুষ ভাসে এটা ভালো কথা নয়, বন্যা আশার আগে সবার তৈরি থাকা চাই।’ আমাদের দেশ মৌসুমী বায়ুর দেশ। ছয় ঋতুর বাংলাদেশ। আমরা আবার এ ছয়টি ঋতুকে প্রধানত দু’ভাগে ভাগ করতে পারি। একটি শীতকাল এবং অন্যটি গ্রীষ্মকাল। শীতকালের তুলনায় গ্রীষ্মকালে আবহাওয়াগত কারণেই বেশী পরিমাণ মানুষের অসুখ বিসুখ দেখা দেয়। গ্রীষ্মকালে যেসব অসুখ দেখা যায়, তার মধ্যে ডায়রিয়া অন্যতম। 

একসময় ডায়রিয়া মহামারী আকারে দেখা দিতো। তখন এ রোগে আক্রান্ত হয়ে গ্রামের পর গ্রামে মানুষ মারাও যেতো। এখন আর সেদিন নেই। আইসিডিডিআরবি’র আবিস্কৃত খাবার স্যালাইন ব্যবহারের ফলে ডায়রিয়া এখন আর মহামারী আকারে দেখা দিতে পারে না। ডায়রিয়া পীড়িত এলাকায় আইসিডিডিআরবি’র আবিস্কৃত খাবার স্যালাইন বহু মানুষের জীবন বাঁচিয়েছে এবং বাঁচাচ্ছে। বেঁচে যাওয়াদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু। 

বন্যা ও বর্ষণজনিত রোগ সংক্রান্ত বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের অভিমত, বর্তমান মৌসুমে আমাদের দেশে সাধারণত তিন মাস থেকে ১২ বছরের শিশুরা ডায়রিয়া, কলেরা, জ্বর, নিউমোনিয়া, টাইফয়েড, আমাশয় ইত্যাদি রোগে আক্রান্ত হয়। 

একদিকে আবহাওয়ার পরিবর্তন, অন্যদিকে অপ্রত্যাশিত বন্যা ও বর্ষণ। পানিবাহিত রোগ বলেই এ সময় নিম্ন-আয়ের পরিবারের লোকদের মধ্যে ডায়রিয়া বেশী দেখা দেয়। অর্থনৈতিক অস্বচ্ছলতা ও অশিক্ষার কারণে মা-বাবারা শিশুর যত্নের প্রতি দায়িত্বশীল হতে পারেন না। প্রয়োজনীয় সময়ে সঠিক চিকিৎসার অভাবে অকালে শিশু মারাও যায় অনেক সময়। 

বর্তমানে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া কিছু এলাকা থেকে বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে। বন্যা এবং বন্যা-পরবর্তী সময়ে দেশে ডায়েরিয়ার প্রকোপ বেড়ে যেতে পারে। বন্যার কারণে অনেক মানুষ বিশুদ্ধ খাবার পানি পান করতে পারে না। রান্নার কাজে বিশুদ্ধ পানি ব্যবহার করতে পারে না। যার ফলে শিশু ও নারীরা বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে।

অতিরিক্ত গরমের ফলে রান্না করা খাবার অল্প সময়ের মধ্যে নষ্ট হয়ে যায়। পঁচা-বাসি খাবার খেয়েও অনেকে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে পড়ছে। আবার কেউ কেউ রাস্তাঘাটে খোলা খাবার এবং শরবত খেয়েও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছেন। ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগী বারবার পাতলা পায়খানা করার ফলে শরীর থেকে পানি ও লবণ বেরিয়ে যায়। এর ফলে রোগী পানিশূন্য হয়ে পড়ে। ফলে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের দ্রুত খাবার স্যালাইন খাওয়াতে হবে। 

ডায়রিয়া শুরু হলে আধা লিটার বিশুদ্ধ পানিতে এক প্যাকেট খাবার স্যালাইন ভালোভাবে গুলিয়ে রোগীকে খাওয়াতে হবে। রোগীর যতবার পাতলা পায়খানা হবে ততবারই খাবার স্যালাইন খাওয়াতে হবে। যে কোন ওষুধের দোকানে খাবার স্যালাইনের প্যাকেট পাওয়া যায়। বানানো খাবার স্যালাইন ৬ ঘন্টা পর্যন্ত খাওয়ানো যায়। এরপর প্রয়োজন হলে আবার নতুন করে খাবার স্যালাইন বানাতে হবে। শিশুর ডায়রিয়া হলে খাবার স্যালাইনের পাশাপাশি মায়ের বুকের দুধ বেশী করে খাওয়াতে হবে। 

এ ছাড়া বড়দের স্বাভাবিক সবধরনের খাবার খাওয়াতে হবে। তবে তরল জাতীয় খাবার বেশী করে খাওয়াতে হবে। ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের ভাতের মাড়, ডাবের পানি, চিড়ার পানি, লবণ-গুঁড়ের শরবত, খাবার স্যালাইন, বিশুদ্ধ খাবার পানি খাওয়াতে হবে।  বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ডায়রিয়া রোগীদের জন্য পৃথক ইউনিট খোলা হয়েছে। সেখানে রোগীদের বিশেষভাবে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। 

ডায়রিয়া একটি সাধারণ রোগ। কিন্তু সচেতনতার অভাবে এ রোগ মহামারী আকার ধারণ করতে পারে। তাই এ রোগকে প্রতিরোধ করা প্রয়োজন। ডায়রিয়া থেকে বাঁচতে বিশুদ্ধ খাবার পানি এবং টাটকা খাবার খেতে হবে। পঁচা ও বাসি খাবার খাওয়া যাবে না। বাজারের খোলা খাবার খাওয়া যাবে না। বৃদ্ধ ও শিশুদের প্রতি বাড়তি মনোযোগ দিতে হবে। এ সময় শিশু ও বৃদ্ধদের আটসাট পোশাক না প’রে ঢিলেঢালা পোশাক পরতে হবে। পোশাক সুতির হলে বেশী ভালো হয়। মনে রাখতে হবে ‘প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিউর’।